ঘাড়, কাঁধের যন্ত্রণা এক বার শুরু হলে সারার নাম করে না। কম্পিউটার বা ল্যাপটপে একটানা কাজ করেন যাঁরা অথবা দীর্ঘ সময় ধরে ঘাড় নিচু করে মোবাইল ঘাঁটাঘাঁটি করেন, তাঁরা এমন ব্য়থার সঙ্গে পরিচিত। ব্য়থাও সামান্য নয়। ঘাড় ঘোরাতে গেলেই মনে হয় কেউ কশাঘাত করল। ঘুম থেকে ওঠার সময়ে ঘাড় শক্ত হয়ে যায় যখন তখন। সেই ব্যথা ঘাড় থেকে কাঁধেও নামে। ফলে কাঁধের পেশিতেও টান ধরতে থাকে। অনেকেই ভাবেন, ব্য়থানাশক ওষুধ খেলেই ব্যথা কমে যাবে। আদতে তা হয় না। সাময়িক ভাবে যন্ত্রণা কমলেও, কিছু দিন পরে তা আবার ফিরে আসে। এমন ব্যথা সারানোর উপায় হল যোগাসন। কন্ধরাসন যোগাসনের এমন এক পদ্ধতি, যাকে ‘শোল্ডার পোজ়’ বলা হয়। এটি অভ্যাসে কাঁধ, পিঠের ব্যথা সেরে যাবে।
কী ভাবে করবেন?
১) ম্যাটের উপর টানটান হয়ে শুয়ে পড়ুন। শ্বাসপ্রশ্বাস স্বাভাবিক থাকবে।
২) এ বার হাঁটু ভাঁজ করে পায়ের পাতা মাটিতে রাখুন।
৩) ধীরে ধীরে শ্বাস নিতে নিতে কাঁধ ও পায়ে ভর দিয়ে কোমর ও পিঠ মাটি থেকে তুলতে হবে। পিঠ ধনুকের মত বেঁকে থাকবে।
আরও পড়ুন:
৪) আসনটি করার সময়ে খেয়াল রাখবেন মাথা, ঘাড় ও কাঁধ যেন মাটিতে ঠেকে থাকে। হাত থাকবে গোড়ালির কাছে।
৫) এই ভঙ্গিতে ২০ সেকেন্ডের মতো থাকার চেষ্টা করুন। স্বাভাবিক ভাবে শ্বাস নিন ও ছাড়ুন।
৬) এর পর আবার আগের অবস্থানে ফিরে আসুন।
উপকারিতা:
১) ঘাড় ও কাঁধের ব্য়থা কমবে আসনটি অভ্যাসে।
২) স্পন্ডিলাইটিসের যন্ত্রণা খুব ভোগালে আসনটি অভ্যাস করতে পারেন।
৩) কাঁধের ব্য়থা বা ফ্রোজ়েন শোল্ডারের যন্ত্রণা কমবে নিয়মিত এই আসন অভ্যাসে।
৪) কুঁজো হয়ে হাঁটার অভ্যাস দূর হবে, শরীরের ভারসাম্য ঠিক থাকবে।
৫) সারা শরীরে রক্ত সঞ্চালন ভাল হবে, মেরুদণ্ডের নমনীয়তা বাড়বে।
৬) মনঃসংযোগ বাড়বে, স্মৃতিশক্তির উন্নতি ঘটবে।
কারা করবেন না?
পেটে আলসার থাকলে আসনটি করা যাবে না।
হার্নিয়ার অস্ত্রোপচার হলে আসনটি করবেন না।
মেরুদণ্ডে অস্ত্রোপচার হলেও আসনটি করা যাবে না।