পুরুষের শরীরে অণ্ডকোষের ভিতরে যে কোষগুলি শুক্রাণু তৈরি করে, সেগুলির মধ্যে অস্বাভাবিকতা দেখা দিতে পারে। এর ফলে অণ্ডকোষের মধ্যে টিউমার তৈরি হতে পারে। এই বদল সাধারণত ধীরে ধীরে শুরু হয়, তাই প্রথম দিকের সঙ্কেতগুলি খুব সূক্ষ্ম থাকে, চোখে পড়লেও গুরুত্ব পায় না। অণ্ডকোষ বা টেস্টিক্লে জনন কোষের এই অস্বাভাবিক বৃদ্ধি থেকেই ক্যানসার সৃষ্টি হয়। এই বিষয়ে বিস্তারিত জানাচ্ছেন ক্যানসার চিকিৎসক সন্দীপ গঙ্গোপাধ্যায়।
চিকিৎসক জানাচ্ছেন, পুরুষদের অণ্ডকোষের টিউমারকে বলা হয় জার্ম সেল টিউমার (জিসিটি)। এই টিউমার কিন্তু কেবল অণ্ডকোষে নয়, পেটে বা বুকেও দেখা যায়। ১৫-২৫ বছরের পুরুষদের মধ্যে এই রোগের প্রকোপ বেশি দেখা যায়। চিকিৎসকের পরামর্শ, আগেভাগে ধরা পড়লে এই ক্যানসার ১০০ শতাংশ নিরাময় হয়ে যেতে পারে। অস্ত্রোপচার এবং কখনও কখনও কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশন দিয়ে এই রোগের চিকিৎসা করা হয়।
ক্যানসারের ঝুঁকিমুক্ত থাকুন। ছবি: সংগৃহীত
অণ্ডকোষের ক্যানসারের উপসর্গগুলি কী কী?
১. ব্যথাহীন পিণ্ড: অণ্ডকোষে ছোট ব্যথাহীন পিণ্ড তৈরি হতে পারে। তার সঙ্গে ফোলা ভাব লক্ষ করা যেতে পারে। মাথায় রাখতে হবে, এতে ব্যথা থাকে না বলে অনেকেই উপেক্ষা করে ফেলেন। অণ্ডকোষের ত্বকে কোনও অস্বাভাবিকতা দেখলে সতর্ক হতে হবে। এ ক্ষেত্রে ত্বকের তলায় পিণ্ডের উপস্থিতি টের পাওয়া যাবে। সাধারণত একটি অণ্ডকোষে পিণ্ড তৈরি হয় এবং প্রথম দিকে খুব ধীরে ধীরে আকারে বড় হয়। নিজের হাত দিয়ে তা পরীক্ষা করে দেখা যেতে পারে।
২. ভারী ভাব বা টান: অণ্ডকোষে ভারী ভাব বা টান অনুভব করলে সেটি ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে। মনে হয় যেন, নীচের দিকে টান পড়ছে। এই ধরনের অনুভূতিও প্রাথমিক সতর্কবার্তা হতে পারে। খুব হালকা হলেও দীর্ঘ দিন থাকলে গুরুত্ব দেওয়া জরুরি।
৩. আকারে পরিবর্তন: যদি একটি অণ্ডকোষ অন্যটির তুলনায় আকারে বৃদ্ধি পায়, তা হলে সেটি স্বাভাবিক নয়। এটি টিউমারের ইঙ্গিত হতে পারে। অনেক সময়ে ব্যথা না থাকলেও এই পরিবর্তন চোখে পড়ে। তাই রোজের যাপনে সতর্কতা প্রয়োজন।
৪. ব্যথা: তলপেটে ব্যথাও এই রোগের ইঙ্গিত হতে পারে। কুঁচকিতেও ভারী ভাব বা ব্যথা টের পেলে অবহেলা করবেন না। হালকা ব্যথা, চাপ বা অসাড়তা ঘন ঘন অনুভূত হতে পারে। দীর্ঘ দিন এই অস্বস্তি থেকে গেলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।