মরু অঞ্চলের মানুষ রোদে বেরোনোর আগে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার পাশাপাশি পকেটেও একটি ছোট পেঁয়াজ রাখেন। তাদের বিশ্বাস, এতে চারপাশের তাপ শরীরে কম লাগে। তা ছাড়া রাজস্থানি খাওয়াদাওয়াতেও ‘পেঁয়াজের কচুরি’ বা কাঁচা পেঁয়াজের চাটনি খাওয়ার চল রয়েছে।
একই ভাবে বিহারের মানুষও গরমে পেঁয়াজের রস দিয়ে ছাতুর শরবত খেয়ে থাকেন। রুক্ষ রাজ্যটিতে গরম কালে তাপমাত্রার পারদ অনেকটাই উপরে ওঠে। তাতে যাতে মানুষ অসুস্থ হয়ে না পড়েন, তাই ছাতু মাখাতেও কাঁচা পেঁয়াজ মিশিয়ে খান বিহারবাসী।
পশ্চিমবঙ্গ বা ওড়িশার মানুষ গরমে যে পান্তাভাত বা পাখালা ভাত খান তার সঙ্গেও কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়া হয়। দক্ষিণ ভারতে আবার দই-ভাতের সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ খাওয়ার রেওয়াজ আছে, যা খুব ভাল প্রোবায়োটিক হিসাবে কাজ করে।
মোট কথা, গরম থেকে বাঁচার উপায় হিসাবে যুগ যুগ ধরে পেঁয়াজে ভরসা করে আসছেন মানুষ। কিন্তু কেন? পেঁয়াজে কী এমন আছে, যার জন্য পেঁয়াজ খেলে গরমে শরীর সুস্থ থাকে?
কেন পেঁয়াজ খাবেন?
পেঁয়াজে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাশিয়াম এবং সোডিয়াম, যা শরীরের ইলেক্ট্রোলাইট ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে ‘কোয়েরসেটিন’ নামের উপাদান রয়েছে, যা সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায় গাঢ় লাল রঙের পেঁয়াজে। এই কোয়েরসেটিন হল এক ধরনের প্রাকৃতিক অ্যান্টি-হিস্টামিনের মতো। যা সানস্ট্রোক বা গরম হাওয়া কিংবা লু লেগে শরীর ভিতর থেকে শুকিয়ে যাওয়ার মতো সমস্যায় বাঁচায়। পেঁয়াজের এসেনসিয়াল অয়েল শরীরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণেও সহায়তা করে, যা বেশি গরমে কাজে লাগে।
কখন খাবেন?
পেঁয়াজ খাওয়ার উপযুক্ত সময় হল দুপুর। ভাত বা রুটির সঙ্গে কাঁচা পেঁয়াজ খেতে পারেন। রোদে বাইরে যাওয়ার আগে বা রোদ থেকে ফিরে এসে কাঁচা পেঁয়াজ খেলে লু লাগার ঝুঁকি কমে। তবে রাতে অতিরিক্ত কাঁচা পেঁয়াজ এড়িয়ে চলাই ভাল, কারণ রাতে হজম করার ক্ষমতা দুর্বল থাকে। কাঁচা জিনিস হজম করতে অসুবিধা হতে পারে। গ্যাস বা অ্যাসিডিটির সমস্যা হতে পারে।