Advertisement
E-Paper

গরমে কেন বাড়ছে ‘স্টমাক ফ্লু’? বাড়ির খাবার থেকে বিষক্রিয়াও হচ্ছে, সাবধানে থাকতে কী করণীয়?

গরম যত বাড়ছে, ততই পেটের সংক্রমণ বেড়ে চলেছে। খাবার থেকে বিষক্রিয়া হচ্ছে। এমনকি বাড়ির খাবার খাওয়ার পরেও পেটে ব্যথা, বমি হচ্ছে অনেকের। এর কারণ কী?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৬ এপ্রিল ২০২৬ ১৩:৩২
Why Food Poisoning Spikes in summer

গরমে খাবার থেকে বিষক্রিয়া হওয়ার কারণ কী? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গরমে বাইরের খাবার তো বটেই, বাড়ির সাধারণ খাবার খেয়েও অসুস্থ হয়ে পড়ছেন অনেকে। ডায়েরিয়া, বমি হচ্ছে ছোটদেরও। চিকিৎসকেরা বলছেন, ‘স্টমাক ফ্লু’ বাড়ছে। তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি থেকে ৪৫ ডিগ্রির মধ্যে থাকলে নানা ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়ার উৎপাত বাড়ে। ফলে খাবার, জল থেকে সংক্রমণ ছড়ায় দ্রুত। সে বাইরের খাবার হোক বা বাড়িতে ফ্রিজে রেখে দেওয়া বাসি খাবার। ইদানীং আবার খাবার থেকে বিষক্রিয়া ঘটার ঘটনাও খুব বেশি।

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)-এর গবেষণা বলছে, অধিকাংশ ক্ষতিকর ভাইরাস ও ব্যাক্টেরিয়া উষ্ণ ও আর্দ্র পরিবেশে প্রতি ২০ মিনিটে দ্বিগুণ সংখ্যায় বৃদ্ধি পায়। একে ‘বাইনারি ফিশন’ বলে। ফলে দীর্ঘ সময়ে রেখে দেওয়া খোলা খাবার বা ফ্রিজে রাখা বাসি খাবারেও কোটি কোটি জীবাণু জন্মাতে পারে। তাই যিনি বাইরের খাবার খাচ্ছেন না, কিন্তু বাড়িতেই দু’দিনের বাসি খাবার খাচ্ছেন বা খোলা রেখে দেওয়া খাবার খাচ্ছেন, তিনি অসুস্থ হয়ে পড়তেই পারেন। এমনও দেখা যায়, কেটে রাখা কাঁচা স্যালাড বা কয়েক ঘণ্টা আগে কেটে রাখা ফল থেকেও জীবাণু সংক্রমণ হতে পারে।

তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সালমোনেল্লা, ই কোলাই ব্যাক্টেরিয়ার প্রকোপ বেড়েছে। এদের থেকেই খাবারে বিষক্রিয়ার ঘটনা ঘটে। বাতাসে জলীয় বাষ্প বা আর্দ্রতা বেশি থাকলে খাবারে পচন খুব দ্রুত হয়। ফলে রান্না করা খাবার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই তার স্বাদ ও গুণমান হারিয়ে ফেলে। তাতে ব্যাক্টেরিয়ার সংক্রমণ ঘটে। এই ব্যাক্টেরিয়াই খাবারের মাধ্যমে পেটে গিয়ে বিষক্রিয়ার কারণ হয়ে ওঠে।

Advertisement

কী কী সতর্কতা নিতে হবে?

পাকস্থলীর সংক্রমণ বা ‘স্টমাক ফ্লু’ থেকে বাঁচতে কিছু নিয়ম মানতেই হবে। যেমন, রান্না করা খাবার ঘণ্টা দুয়েকের বেশি বাইরে রাখবেন না। দ্রুত ফ্রিজে রাখুন। তবে সব সময়ে ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে।

কাঁচা আনাজ, কাঁচা মাছ বা মাংস, শাকপাতা ভাল করে নুন-গরম জলে ধতে হবে। অথবা ভিনিগার মেশানো জল দিয়ে পরিষ্কার করতে হবে। সব্জি বা মাছ-মাংস উচ্চ তাপে রান্না করে খেতে হবে।

স্যালাড এক ঘণ্টার বেশি রাখবেন না। ফল বা সব্জি যা দিয়েই স্যালাড বানান না কেন, খুব তাড়াতাড়ি তা খেয়ে ফেলতে হবে।

একই খাবার বার বার গরম করলে তার পুষ্টিগুণ নষ্ট হয় এবং টক্সিন তৈরির আশঙ্কা বাড়ে।

খাবার খাওয়ার আগে ভাল করে হাত পরিষ্কার করতে হবে। সাবান বা স্যানিটাইজ়ার দিয়ে হাত ধোয়া জরুরি। ছোটদেরও এই অভ্যাস করাতে হবে।

অনেকে গরম খাবার ফ্রিজে রেখে দেন। এতে তাপমাত্রার তারতম্যে খাবারে ব্যাক্টেরিয়া জন্মানোর আদর্শ পরিবেশ তৈরি হয়। খাবারের পুষ্টিগুণও নষ্ট হয়।

অনেকেই বলেন, বাড়ির খাবার খেয়েও পেটে বিষক্রিয়া হয়েছে। এমন অবস্থা থেকে বাঁচতে হলে রান্না খাবার যেখানে রাখছেন, সেই ফ্রিজের প্রতিটি তাক নিয়মিত জীবাণুমুক্ত করতে হবে। তার জন্য জলে পাতিলেবুর রস অথবা ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিটি তাক ভাল করে মুছে নিন। যেখানে মাছ বা মাংস রাখা হয়, সেই তাকটিও পরিষ্কার রাখতে হবে। বরফের ট্রে এক দিন অন্তর পরিষ্কার করে জল বদলে দিন। আর রান্না খাবার বা রান্না করে রাখা ভাত, সব সময়ে কাচ বা সেরামিকের পাত্রে ঢাকা দিয়ে রাখা উচিত।

Stomach Infection Food Poisoning Diarrhea Heatwave Alert
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy