পেট নিয়ে নানা সমস্যায় ভোগেন মানুষ। আর তার একটি বড় কারণ হল নিয়ন্ত্রণহীন খাওয়াদাওয়া। আশপাশে এত রকমের খাবারের প্রলোভন, যে তা এড়িয়ে পেটকে বাঁচানোর জন্য অনেক সংযম আর সাহসের দরকার। ঘোল সেই অনিয়মে জর্জরিত পেটে স্বস্তি আনবে। নানা অত্যাচারে ব্যতিব্যস্ত অন্ত্রকেও রাখবে ভাল।
গরমে নানা ধরনের শরবতে গলা ভেজান মানুষ। কেউ খান ঠান্ডা চা কেউ খান কোল্ড কফি। ইদানীং বোবা টিও খাচ্ছেন জেন জ়িরা। এই সব কিছুর থেকে স্বাস্থ্যকর এক গ্লাস ঘোল। তা শুধু দ্রুত শরীরকে শান্তিই দেবে না। পেটকেও ভাল রাখবে এবং ভবিষ্যতের নানা অত্যাচারের হাত থেকে বাঁচতে সাহায্য করবে।
১. হজমে জাদুর মতো কাজ করে
ঘোলে প্রচুর পরিমাণে প্রোবায়োটিকস বা উপকারী ব্যাকটেরিয়া থাকে। এই ব্যাকটেরিয়াগুলো অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে এবং খাবার দ্রুত হজম করতে সাহায্য করে। যদি ভারী বা তেল-মসলাযুক্ত খাবার খান, তবে এক গ্লাস ঘোল খেলে পেট ফাঁপা বা বদহজম হওয়ার ভয় থাকে না।
২. অ্যাসিডিটি কমায়
গরমের সময় মশলাদার খাবার খেলে অনেক সময় বুক জ্বালা ভাব বা অ্যাসিডিটি হয়। ঘোল পাকস্থলীর ভিতরের আস্তরণে একটি শীতল প্রলেপ তৈরি করে, যা অ্যাসিডের প্রভাব কমিয়ে দেয় এবং তাৎক্ষণিক স্বস্তি দেয়।
৩. আর্দ্র রাখে শরীর
গরমে ঘামের মাধ্যমে শরীর থেকে প্রচুর জল ও নুন বেরিয়ে যায়। ঘোলে পটাশিয়াম এবং ক্যালসিয়ামের মতো প্রয়োজনীয় ইলেক্ট্রোলাইটসের জোগান দেয়, শরীরের জলাভাবও দূর করে।
কেন গরমকালে ঘোল খেতে পারেন?
শরীর ঠান্ডা রাখে: শরীরের অভ্যন্তরীণ তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। শরীরকে ভিতর থেকে শীতল রাখতে পারে।
ওজন নিয়ন্ত্রণ: এতে ক্যালরি এবং ফ্যাট খুব কম থাকে, তাই এটি ডায়েটে রাখা খুব সহজ।
ভিটামিনের উৎস: এতে ভিটামিন বি১২ এবং রাইবোফ্লাভিন থাকে যা গরমে ক্লান্তি দূর করে এনার্জি জোগায়।
কী ভাবে ঘোল বানালে তা স্বাস্থ্যকর
বাড়িতে পাতা দই সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর। অল্প দই নিন। এক গ্লাসের জন্য ২-৩ টেবিল চামচই যথেষ্ট। তবে হ্যাঁ, চিনি মেশালে চলবে না। বিটনুন, ভাজা জিরার গুঁড়ো এবং কুচি করা পুদিনা পাতা মিশিয়ে নিতে পারেন। মেশাতে পারেন সামান্য লেবুর খোসা কোরানোও।