Advertisement
E-Paper

‘খিটখিটে হইনি, বরং আমি এখন আগের চেয়ে অনেক শান্ত’, মেনোপজ় নিয়ে কেন এমন বললেন জেনেলিয়া?

মেনোপজ়-এর শারীরিক উপসর্গের চেয়েও বড় সমস্যা হল এটি নিয়ে সামাজিক লজ্জা ও সচেতনতার অভাব। অভিনেত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজার ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি অনেক নারীর মনেই আত্মবিশ্বাস জোগাবে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১১ জুন ২০২৬ ১৩:৫৮
বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ে কী বললেন জেনেলিয়া ডি’সুজা।

বুড়িয়ে যাওয়া নিয়ে কী বললেন জেনেলিয়া ডি’সুজা। ছবি: সংগৃহীত।

নারী শরীরের রসায়ন বড় দ্রুত বদলায়। এক এক বয়সে এক একরকমের পরিবর্তন আর তার প্রভাবও বড় প্রকট। আশপাশের মানুষ তা টের পায়। তেমনই একটি বদল নিয়ে ‘ট্যাবু’-র শেষ নেই। মেনোপজ়। বাংলায় যাকে বলে রজোনিবৃত্তি। মধ্য চল্লিশের পরে মহিলাদের শরীরে নানা হরমোনের কাজ করার ধরন বদলাতে থাকে। বদলাতে থাকে শরীরের ভিতর এবং বাইরেটাও। যে কোনও বদলেই যেমন কিছু টালমাটাল থাকে, এ বদলেরও রয়েছে। কিন্তু সেই সব বদলগুলিকে বড্ড নেতিবাচক ভাবে দেখে সমাজের একটা বড় অংশ। খোলামেলা আলোচনা করতে দ্বিধাবোধ করে। অভিনেত্রী জেনেলিয়া ডি’সুজ়া দেশমুখ সেই ভাবনা আর সেই দৃষ্টিভঙ্গিরই প্রতিবাদ করেছেন।

এক পডকাস্টে এই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেনেলিয়া বলেন, ‘‘মেয়েদের চল্লিশ পার হওয়া মানেই জীবন শেষ হয়ে যাওয়া নয়। অনেকেই ব্যাপারটাকে সেভাবে দেখেন। আমি বরং বলব এটা জীবনের নতুন এক ছন্দে উত্তরণ।’’

জেনেলিয়া এখন চল্লিশের চৌকাঠে। তার উপর আবার তিনি অভিনেত্রী। পর্দায় দর্শকের মনোরঞ্জন করেন। মেয়েদের বয়স চল্লিশ পেরনো নিয়ে সমাজের যে ভাবনা, তা তাদের পেশার উপরেও প্রভাব ফেলে মাঝেসাঝে। সেই প্রসঙ্গে কথা বলতে গিয়েই জেনেলিয়া বলেছেন, ‘‘আমাকে অনেকেই বলেছিলেন, মেনোপজের পর নারীদের বয়স্ক দেখায়। তবে আমি মনে করি, বয়স বৃদ্ধিরও অন্য রকম এক সৌন্দর্য আছে। এই বয়সে ২০ বছরের তরুণী হতে কখনওই চাই না। বরং চাই আমাকে বয়সোচিত ভাবেই গ্রেসফুল দেখতে লাগুক।’’

নায়িকাদের বয়স্ক হওয়া আর বয়স্ক নায়িকাকে মেনে নেওয়ার ব্যাপারে এখনও বহু ভারতীয় দর্শকই পরিণতবোধ দেখাতে পারেনি। আজও এ দেশের অভিনেত্রীদের চেহারা ভারী হলে, ত্বকের টানটান ভাব উধাও হলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়। মেনাপজ় এবং তার কারণে মেজাজ বদল নয় ছেড়েই দেওয়া গেল। জেনেলিয়া যদিও জানিয়েছেন, সমাজ কি ভাবল, তা নিয়ে তিনি চিন্তিত নন। নিজের ভাল থাকা, মন্দ থাকা তাঁর কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। জেনেলিয়া বলেছেন, ‘‘৪০ বছর বয়সে এসে বরং আমার নিজেকে আগের চেয়ে অনেক বেশি শান্ত এবং ঠান্ডা মেজাজের বলে মনে হয়।”

আসলে রজোনিবৃত্তির শারীরিক উপসর্গের চেয়েও বড় সমস্যা হল এই নিয়ে সামাজিক লজ্জা ও সচেতনতার অভাব। সমাজ মেনোপজ়ের মতো আগাপাশতলা শারীরিক পরিবর্তনকে কেবল বার্ধক্য আর খিটখিটে স্বভাবের সমার্থক করে তোলে। ফলে এই বয়সের মহিলারা নিজেদের গুটিয়ে নেন। একাকিত্বে ভুগতে শুরু করেন। কর্মজীবনের চাপ, সন্তানের লালনপালন, বয়স্ক বাবা-মায়ের দায়িত্ব সামলানোর পাশাপাশি নিজেদের একাকিত্বকেও সামলাতে হয় চল্লিশের কোঠায় এসে পড়া মহিলাদের। তার জন্য লাগে অসীম ধৈর্য আর সহ্যশক্তি। আর তাই রজোনিবৃত্তি কোনও দুর্বলতা বা লজ্জার বিষয় নয়। আর জেনেলিয়া শেখালেন, ৪০ পেরিয়েও খিটখিটে না হয়ে আরও পরিণত এবং শান্ত হওয়া সম্ভব, যদি নারীরা নিজের প্রতি সহানুভূতিশীল হন, নিজেকে ভালবাসেন, তাহলে।

Genelia D’Souza Menopause Women in 40
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy