কথায় কথায় তিরিক্ষি হচ্ছে মেজাজ। পান থেকে চুন খসলেই মনে মনে বিরক্ত হচ্ছেন। সেটা কোনও মতে সামলে সুমলে নিলেও নানা বিরক্তি জমতে জমতে মেজাজের পারদও চড়ছ। তার পরে একটুতেই রাগের বিস্ফোরণ ঘটছে মাথায়! প্রকাশও করে ফেলছেন সেই রাগ! গরম কালে কি এমন একটু বেশিই হচ্ছে? তবে দোষটা আপনার নয়। গরমে মাথা গরম হওয়ার নেপথ্য কারণ হতে পারে বাইরের চড়া তাপমাত্রা এবং কাঠফাটা রোদ্দুরও! অন্তত তেমনটাই বলছে মনস্তত্ত্ব।
গরমে মাথাগরমের ‘থিওরি’
মনোবিজ্ঞান বলছে, গ্রীষ্মের গরম আবহাওয়ার সঙ্গে মানুষের মেজাজ খিটখিটে হওয়ার সরাসরি যোগ থাকতে পারে। বিজ্ঞানের ভাষায় একে বলা হয় ‘টেম্পারেচার অ্যাগ্রেশন’। এই তত্ত্বের মূল বক্তব্য হল— অতিরিক্ত গরম শরীরের মতো মনেও বাড়তি চাপ বা স্ট্রেস তৈরি করে। ফলে মানুষের ধৈর্যের সীমা অনেকটাই কমে যায়। ধৈর্যের বাঁধ ভাঙেও সহজে। মন অশান্ত হয়, সামান্য কারণেই রাগ বা উত্তেজনাও তৈরি হয়।
কী কী কারণে গরমে আরও ‘গরম’ হতে পারেন?
ক্লান্তি: গরমে শরীর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যায়। গরম আবহাওয়ায় থাকলে ঘাম হিসাবে, আবার চড়া এসিতে শরীর ডিহাইড্রেটেড বা জলশূন্য হয়ে পড়ে। আর শরীরে জলাভাব দেখা দিলে অবধারিত ভাবে আসে ক্লান্তি। তা থেকে মাথাধরা, খিটখিটে ভাবও তৈরি হতে পারে।
অনিদ্রা: গরমের রাতের ঘুম অনেক সময় ব্যাহত হয়। ঘুম ঠিকমতো না হলেও মানসিক চাপ ও বিরক্তিবোধ বেড়ে যেতে পারে।
ধৈর্যচ্যুতি: অস্বস্তিকর গরমের সঙ্গে যদি শরীর অনবরত লড়াই করতে থাকে, তবে খুব ছোটখাটো সমস্যাও অনেক সময় বড় বলে মনে হয়। সহ্যশক্তি কমে যায়। মাথা ঠান্ডা রাখার ক্ষমতাও হারিয়ে ফেলেন মানুষ। সে ক্ষেত্রে ধৈর্যচ্যুতি হওয়া অস্বাভাবিক কিছু না।
আরও পড়ুন:
কীভাবে নিজেকে ঠান্ডা রাখবেন?
১। প্রচুর জল পান করুন। শরীর হাইড্রেটেড থাকলে মাথাও শান্ত থাকে। তেমন হলে হাতের কাছে সবসময় রাখুন জলের বোতল।
২। পর্যাপ্ত সময় ঘুমোন। গরম কালে শরীর শান্ত হয়ে ঘুমের অবস্থায় যেতে কিছু বাড়তি সময় নিতে পারে। সকালে ঘুম ভেঙেও যেতে পারে আগে। তাই রাতে সাধারণ সময়ের থেকে অন্তত আধ ঘণ্টা আগে বিছানায় যান। মোবাইল সরিয়ে রাখুন। ঘরে জোরালো আলো জ্বেলে রাখবেন না। প্রথম দু’এক দিন সমস্যা হলেও তার পরে ওই সময়েই ঘুম আসবে। আর রাতের ঘুম ঠিকঠাক হলে শরীর এবং মন ভাল থাকবে।
৩। রেগে ওঠার আগে একটু থামুন। কারও ওপর রাগ প্রকাশ করার আগে এক মুহূর্ত থেমে নিজেকে প্রশ্ন করুন, ‘এটা কি এড়ানো যায়?’ কয়েক সেকেন্ড শ্বাস নিন। এক গ্লাস ঠান্ডা জল খান। পরিবেশ শান্ত হলে তার পরে কথা বলুন।
৪। সরাসরি কড়া রোদ এড়িয়ে চলুন। শরীর ঠান্ডা রাখতে হালকা রঙের ঢিলেঢালা সুতি পোশাক পরুন। কারণ শারীরিক স্বস্তি বজায় রাখাও জরুরি। নিজে ঠান্ডা থাকলে আশপাশের পরিবেশও ঠান্ডা থাকবে!