হস্তাক্ষর বিজ্ঞান অনুযায়ী, স্বাক্ষর হল মানুষের মনের আয়না। এক এক জন ব্যক্তির সইয়ের ধরনও ভিন্ন। স্বাক্ষরের বিচিত্রতার উপর নির্ভর করে নির্দিষ্ট ব্যক্তির চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য। তাঁর ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কেও বহু তথ্য জানতে পারা যায়। এমনকি, জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী, স্বাক্ষরের ধরন দেখে মানুষের স্বভাব ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে অনেক কিছু ধারণা করা যায়। সই বিশ্লেষণ করার কয়েকটি উল্লেখযোগ্য দিক নিয়ে আলোচনা করা হল—
১. সইয়ের দিক
ঊর্ধ্বমুখী
সই যদি বাম দিক থেকে ডান দিকে উপরের দিকে যায়, তবে সেই ব্যক্তি সাধারণত উচ্চাকাঙ্ক্ষী, আশাবাদী এবং সৃজনশীল হন। তাঁরা জীবনের কঠিন সময়েও ভেঙে পড়েন না।
নিম্নমুখী
সই করার সময় যদি তা নীচের দিকে নেমে যায়, তবে নেতিবাচক মানসিকতা বা আত্মবিশ্বাসের অভাব নির্দেশ করতে পারে। সেই ব্যক্তি সম্ভবত অবসাদ বা হতাশায় ভুগছেন বলে মনে করা হয়।
সোজা
যে ব্যক্তিরা লাইন বরাবর সোজাসুজি সই করেন, তাঁরা ভারসাম্যপূর্ণ এবং বাস্তববাদী হন। আবেগের পরিবর্তে যুক্তি দিয়ে জীবন পরিচালনা করেন।
আরও পড়ুন:
২. সইয়ের নীচে দাগ কাটার ধরন
একক রেখা
সইয়ের নীচে একটি লম্বা দাগ থাকলে বোঝা যায়, সেই ব্যক্তি আত্মবিশ্বাসী। তাঁর মধ্যে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা রয়েছে।
দু’টি রেখা
স্বাক্ষরের নীচে দু’টি রেখা দিয়ে দাগ কাটা নির্দেশ করে, সেই ব্যক্তি নিজেকে জাহির করতে পছন্দ করেন। জনসমক্ষে নিজের গুরুত্ব বজায় রাখতে চান।
রেখা সইকে কেটে দিলে
সইয়ের নীচে রেখা টানতে গিয়ে অনেকে তা দিয়ে নিজের নামটিকেই কেটে দেন। তা আত্মঘাতী স্বভাব বা নিজের কাজের উপর অসন্তুষ্টির লক্ষণ হতে পারে।
আরও পড়ুন:
৩. সইয়ের আকার ও অক্ষর
বড় সই
যাঁদের স্বাক্ষর অনেক বড়, তাঁরা সাধারণত বহির্মুখী এবং অন্যের নজরে থাকতে পছন্দ করেন। তাঁদের আত্মসম্মানবোধ প্রবল হয়।
ছোট সই
যাঁরা ছোট জায়গা জুড়ে সই করতে পছন্দ করেন, তাঁরা সাধারণত লাজুক, মিতভাষী এবং অত্যন্ত মনোযোগী স্বভাবের হন। ব্যক্তিগত জীবন আড়ালে রাখতেই তাঁরা পছন্দ করেন।
প্রথম অক্ষর বড়
যাঁরা স্বাক্ষরের সময় নামের প্রথম অক্ষরটি অস্বাভাবিক রকমের বড় করে লেখেন, তবে সেই ব্যক্তিরা অত্যন্ত প্রতিভাবান এবং স্বাধীনচেতা স্বভাবের হন।
আরও পড়ুন:
৪. বিন্দু বা ডট
সইয়ের শেষে বিন্দু
সই করার পর তার শেষে একটি বিন্দু দেওয়ার অর্থ, সেই ব্যক্তি খুব শৃঙ্খলাপরায়ণ প্রকৃতির হন। কোনও কাজ এক বার শুরু করলে তা শেষ না করে ছাড়েন না।
বিন্দু না থাকা
যাঁরা স্বাক্ষর করার সময় কোনও বিন্দু দেন না, তাঁরা সাধারণত খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং মুক্তচিন্তার মানুষ হন।