জ্যোতিষশাস্ত্র অনুসারে, চন্দ্র হল আমাদের মানসিক স্থিতি, আবেগ, চিন্তাভাবনার কারক গ্রহ। কোষ্ঠীতে চন্দ্র দুর্বল বা পীড়িত হলে কোনও ব্যক্তি নানাবিধ সমস্যার সম্মুখীন হতে পারেন। কোষ্ঠীতে চন্দ্র দুর্বল থাকলে মূলত মানসিক এবং পারিবারিক জীবনে তার প্রভাব স্পষ্ট লক্ষ করা যায়। চন্দ্র দুর্বল হওয়ার লক্ষণ এবং তা প্রতিকারের সহজ উপায়গুলি নিয়ে নীচে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
কোনও ব্যক্তির কুণ্ডলীতে চন্দ্রদোষ দেখা গেলে বিনা কারণে অতিরিক্ত চিন্তা, মানসিক অস্থিরতা, বিষণ্ণতা এবং সিদ্ধান্তহীনতা দেখা দেয়। সেই ব্যক্তি অল্প কোনও কারণেই অত্যন্ত সংবেদনশীল হয়ে পড়েন।
আরও পড়ুন:
আবেগ নিয়ন্ত্রণে রাখতে না পেরে যে কোনও সময় কেঁদে ফেলেন অথবা অতিরিক্ত রেগে যান। অনিদ্রাজনিত সমস্যায় তিনি ভুগতে পারেন অথবা ঘুমের সময় নানা রকমের দুঃস্বপ্নও দেখতে পারেন। তা ছাড়া অকারণে মায়ের সঙ্গে সেই ব্যক্তির সম্পর্কের টানাপড়েন তৈরি হয়। কোনও নির্দিষ্ট কাজে দীর্ঘ ক্ষণ মনঃসংযোগ করতে পারা যায় না।
চন্দ্রকে বলবান করার জন্য জ্যোতিষে কিছু সহজ এবং কার্যকরী প্রতিকার নিয়মিত পালন করলে শান্তি ফিরে আসে বলে মনে করা হয়।
- চন্দ্রের অধিপতি দেবতা মহাদেব। প্রতি সোমবার শিবলিঙ্গে জল বা কাঁচা দুধ অর্পণ করুন এবং ‘ওম নমোঃ শিবায়’ মন্ত্র জপ করুন। এটি চন্দ্রের দোষ কাটানোর সবচেয়ে ভাল উপায়।
- প্রতি দিন সম্ভব না হলেও সপ্তাহের প্রতি সোমবার সন্ধ্যাবেলায় চন্দ্রের বীজ মন্ত্র— ‘ওম শ্রাম শ্রীম শ্রৌম সঃ চন্দ্রায় নমোঃ’ ১০৮ বার জপ করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
- নিজের মাকে সম্মান করুন এবং তাঁর যত্ন নিন। জ্যোতিষমতে, মায়ের আশীর্বাদ চন্দ্রকে দ্রুত শক্তিশালী করে তোলে।
- পোশাকের পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনে যে কোনও উপায়ে সাদা বা হালকা রুপোলি রঙের ব্যবহার বাড়ান।
- পূর্ণিমার রাতে কিছু ক্ষণ চাঁদের আলোয় সময় কাটান। পূর্ণিমার ব্রত রাখা বা এই দিনে সত্যনারায়ণের পুজো করাও খুব শুভ।
আরও পড়ুন:
- সোমবার কোনও অভাবী ব্যক্তিকে চাল, দুধ, চিনি, সাদা কাপড় বা কর্পূর দান করতে পারেন।
- বাড়িতে বা বাইরে কোথাও জল অপচয় করবেন না। জল অপচয় করলে চন্দ্র আরও দুর্বল হয়। রাতে বিছানার পাশে জল রেখে ঘুমোনো এড়িয়ে চলুন।
- সম্ভব হলে রুপোর গ্লাসে জল পান করার অভ্যাস করুন। এর ফলে মন শান্ত হয়।