জ্যৈষ্ঠ মাসের পূর্ণিমা, অর্থাৎ দেবস্নান পূর্ণিমা তিথিতে জগন্নাথদেবের স্নানের উৎসবই স্নানযাত্রা হিসাবে পরিচিত। এই দিনটি শ্রীশ্রী জগন্নাথদেবের আবির্ভাব বা জন্মতিথি হিসাবেও পরিচিত। স্নানযাত্রার পূর্ব সন্ধ্যায় জগন্নাথ, বলরাম, সুভদ্রা, সুদর্শন চক্র এবং মদনমোহনের বিগ্রহ শোভাযাত্রা সহকারে গর্ভগৃহ থেকে স্নানবেদিতে আনা হয় এবং ভক্তদের দর্শনের অনুমতি দান করা হয়। স্নানযাত্রার দিন কূপের জল মন্ত্র দ্বারা শুদ্ধ করে ১০৮ কলস জলে বিগ্রহ স্নান করানো হয়। এই স্নানযাত্রায় স্নান করে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা সর্দিজ্বরে অসুস্থ হয়ে পড়েন বলে কথিত আছে।
আরও পড়ুন:
-
বিপদে পড়লে কোন দেবতাকে স্মরণ করবেন? দ্রুত আরোগ্য লাভে সাহায্য করেন কোন দেবতা? শাস্ত্রমত জেনে নিন
-
বাড়ির পাঁচ স্থানে মৃত ব্যক্তির ছবি রাখা নিষেধ! অন্যথায় ঘটে অমঙ্গল, অশুভ শক্তির প্রভাবে বিঘ্নিত হয় শান্তি
-
আষাঢ়ের পূর্ণিমা তিথিতে পালিত হয় জগন্নাথদেবের স্নানযাত্রা! কবে পড়ছে সেই বিশেষ দিন? তিথি শুরু ও শেষ কখন?
প্রচলিত বিশ্বাস, সুস্থ হতে সময় লাগে প্রায় এক পক্ষকাল (১৫ দিন)। এই সময়কাল জগন্নাথদেবের ‘অনসর’ হিসাবে পরিচিত। এই অনসরকালে জগন্নাথদেব অসুস্থতার কারণে ভক্তগণের অন্তরালে গোপনস্থানে অনসর গৃহে চিকিৎসাধীন থাকেন। এই সময়কাল প্রভু জগন্নাথদেব রাজবৈদ্য ছাড়া কাউকে দেখা দেন না। এই সময় সেই ঘরে মন্দিরের কারও ঢোকার অনুমতি নেই। রাজবৈদ্যের সেবায় সুস্থ হয়ে জগন্নাথদেব ভক্তদের সামনে আসেন নবযৌবন দর্শনে। নবযৌবন উৎসব হয় রথযাত্রার ঠিক আগে। নবযৌবন উৎসব সেরে প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রা যাবেন মাসির বাড়ি। এই কারণে স্নানযাত্রার পরের দিন থেকে নবযৌবন উৎসবের আগে পর্যন্ত জগন্নাথধাম পুরী দর্শনে গেলেও মিলবে না প্রভু জগন্নাথ, বলরাম এবং সুভদ্রার দর্শন।