কোষ্ঠীতে কোনও গ্রহ খারাপ অবস্থানে থাকলে আমাদের নানা দিক থেকে সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়। কোনও কাজই ঠিকমতো করে ওঠা যায় না। প্রতিটি পদে নানা রকম বাধা আমাদের ঘিরে ধরে। এই সময় হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়া অস্বাভাবিক কিছু নয়। যে কোনও সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রেই সেটা হয়। শাস্ত্রে জন্মছকে গ্রহের স্থান উন্নত করার জন্য নানা উপায়ের কথা বলা রয়েছে। তবে ব্যস্ত জীবনে সে সকল উপায় পালন করা সব সময় সম্ভব হয়ে ওঠে না। তবে শাস্ত্র যে কেবল সময়সাপেক্ষ টোটকার নিদানই দেয় তা কিন্তু নয়। সহজ নানা উপায়ের কথাও বলে। তেমনই একটি উপায় হল স্নানের জলে কিছু মিশিয়ে স্নান করা। বিশেষ কিছু জিনিস রয়েছে, সেগুলি যদি প্রতি দিনের স্নানের জলে মিশিয়ে স্নান করা যায় তা হলে খুব ভাল ফল মেলে।
আরও পড়ুন:
কোন গ্রহের দোষ কাটাতে স্নানের জলে কী মেশাতে হবে?
সূর্য: যে সকল ব্যক্তির কোষ্ঠীতে সূর্য উন্নত হয়, তাঁরা অত্যন্ত প্রভাবশালী হন। এঁদের সহজে দমিয়ে রাখা যায় না। তবে দুর্বল সূর্য যে কোনও ক্ষেত্রে আমাদের সম্পূর্ণ দক্ষতা প্রকাশে বাধা সৃষ্টি করে। স্নানের জলে এলাচ বা কেশরের গুঁড়ো মিশিয়ে স্নান করলে সূর্য শক্তিশালী ও শান্ত হয়।
চন্দ্র: চাঁদ মানুষের মনের মালিক। এই গ্রহ আমাদের মনকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোষ্ঠীতে চাঁদ দুর্বল থাকলে আবেগের উপর নিয়ন্ত্রণ থাকে না। চাঁদের অবস্থান শক্তিশালী করতে পঞ্চগব্য বা শঙ্খের গুঁড়ো স্নানের জলে মিশিয়ে স্নান করতে পারেন।
আরও পড়ুন:
মঙ্গল: মানুষের পরাক্রম বৃদ্ধি ও উন্নতির জন্য মঙ্গলকে শক্তিশালী করা জরুরি। দুর্বল মঙ্গল আমাদের কর্মক্ষমতার হ্রাস ঘটায়। শুকনো আদা, লাল চন্দন বা মৌরী স্নানের জলে মিশিয়ে স্নান করলে কোষ্ঠীতে মঙ্গলের স্থান উন্নত হয়।
বুধ: আমাদের বুদ্ধির কারক গ্রহ হল বুধ। যে সকল জাতক-জাতিকাদের কোষ্ঠীতে বুধ ভাল স্থানে থাকে, তাঁদের বুদ্ধিমত্তা হয় প্রশংসনীয়। দুর্বল বুধ আমাদের বুদ্ধিকে ভোঁতা করে দেয়। জলে মধু, চালের গুঁড়ো বা আমলকি মিশিয়ে স্নান করলে বুধের স্থান শক্তিশালী করা যায়।
আরও পড়ুন:
বৃহস্পতি: জীবনে সমৃদ্ধি আনতে সহায়ক বৃহস্পতি। এই গ্রহ আধ্যাত্মিকতা ও শিক্ষার সঙ্গেও সম্পর্কযুক্ত। জন্মছকে বৃহস্পতি উন্নত হলে জাতকের জীবনে ধনসম্পদের অভাব থাকে না। আধ্যাত্মিক ক্ষেত্রেও আগ্রহ থাকে। তবে দুর্বল বৃহস্পতি জীবনে নানা সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়ায়। এই গ্রহকে প্রসন্ন করতে জলে মুলেঠি বা সাদা সর্ষে দিয়ে স্নান করতে হবে।
শুক্র: ভালবাসার কারক গ্রহ শুক্র। সুখী দাম্পত্যজীবনে এই গ্রহের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। জন্মছকে শুক্র নড়বড়ে হলে সম্পর্কক্ষেত্রে সুখ পাওয়া যায় না। স্নানের জলে আমলকি, এলাচ বা জাফরান দিয়ে স্নান করলে শুক্রের অবস্থান উন্নত হয়।
আরও পড়ুন:
শনি: শনিকে প্রসন্ন করা সহজ বিষয় নয়। কর্মকারক এই গ্রহ লোকের পরিশ্রম দেখেই প্রসন্ন হয়। শনির দোষ থেকে কিছুটা হলেও রেহাই পেতে স্নানের জলে কালো তিল দিয়ে স্নান করা যেতে পারে।
রাহু: জ্যোতিষশাস্ত্রে বলা অশুভ গ্রহগুলির মধ্যে অন্যতম রাহু। রাহুর কুপ্রভাবে মানুষ এমন কাজ করে বসেন যে কারণে সমাজ তাঁকে গ্রহণযোগ্য মনে করে না। সীমা লঙ্ঘন করতে অনুপ্রেরণা জোগায় রাহু। তাকে শান্ত রাখতে লোবান বা তিল জলে মিশিয়ে স্নান করা যেতে পারে।
আরও পড়ুন:
কেতু: কেতুর কুপ্রভাব সম্বন্ধে আমরা প্রায় সকলেই জানি। কিন্তু কেতুর সুপ্রভাবে যে মানুষের চরিত্রের উন্নতি হয় ও আকাঙ্ক্ষা পূরণের ইচ্ছা প্রবল হয় তা আমরা অনেকেই জানি না। কেতুকে তুষ্ট রাখতে স্নানের জলে লোবান মেশানো যেতে পারে।