বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, শোয়ার ঘর বা বেডরুম হল শান্তি ও বিশ্রাম নেওয়ার জায়গা। মনে করা হয়, বিছানার চারপাশে এমন কিছু জিনিস থাকে, যার কারণে ঘরে নেতিবাচক শক্তির প্রভাব পড়ে। এর ফলে পরিবারের সদস্যদের ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে। বাস্তুমতে, যে জিনিসগুলি বিছানার আশপাশ থেকে সরিয়ে ফেললে ঘরে আবার পজ়িটিভ এনার্জি ঘোরাফেরা করতে শুরু করে, তা নিয়ে বিস্তারে আলোচনা করা হল—
বৈদ্যুতিক সামগ্রী
ল্যাপটপ, মোবাইল ফোন, চার্জার বা কোনও তার বিছানার পাশে রাখা উচিত নয়। বাস্তুমতে, এই জিনিসগুলি রাহু এবং কেতুর নেতিবাচক প্রভাব বৃদ্ধি করে।
আয়না
বিছানার ঠিক সামনে বা পাশে এমন ভাবে আয়না রাখা উচিত নয় যাতে প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। এর ফলে দুঃস্বপ্ন আসতে পারে। বেডরুমে আয়না থাকলেও তা এমন ভাবে রাখতে হবে যেন ঘুমন্ত অবস্থায় নিজের শরীর আয়নায় দেখা না যায়।
আরও পড়ুন:
ছেঁড়া জুতো
অনেকে বিছানার নীচে বা ঠিক পাশে ঘরের চটি বা জুতো খুলে রাখেন। বাস্তু অনুযায়ী, জুতো-চটি বাইরে থেকে নেতিবাচক শক্তি বয়ে নিয়ে আসে। বিছানার পাশে এগুলি রাখলে মানসিক অশান্তি বাড়ে এবং ঘুম খারাপ হয়।
ধারালো লোহার জিনিস
কাঁচি, ছুরি, নখ কাটার যন্ত্র অথবা কোনও ধারালো লোহার বস্তু বালিশের নীচে বা বিছানার পাশে রাখা অত্যন্ত অশুভ। এই জিনিসগুলি ঘরে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করে। এমনকি, পরিবারের সদস্যদের সম্পর্কের মধ্যে দূরত্ব তৈরি করে।
বন্ধ ঘড়ি
বিছানার পাশের টেবিলে বা দেওয়ালে কোনও বন্ধ হয়ে যাওয়া বা ভাঙা ঘড়ি রাখা উচিত নয়। বন্ধ ঘড়ি জীবনের স্থবিরতা এবং নেতিবাচক শক্তির প্রতীক। তা মনের মধ্যে এক ধরনের অজানা উদ্বেগ তৈরি করে এবং তার ফলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে।
পুরনো বইপত্র
বালিশের পাশে বা বিছানার নীচে পুরনো খবরের কাগজ, পত্রিকা বা অপ্রয়োজনীয় কাগজপত্রের স্তূপ রাখা উচিত নয়। বাস্তুমতে, এই জিনিসগুলি বুধ এবং রাহুর অশুভ দৃষ্টি আকর্ষণ করে। তার ফলে মনের মধ্যে সারা ক্ষণ চিন্তার ভিড় বাড়তে থাকে। এমনকি, অনিদ্রার সমস্যাও দেখা দেয়।
জলের পাত্র
মাঝরাতে তৃষ্ণা নিবারণের জন্য অনেকেই বিছানার কাছে জলের পাত্র রাখেন। বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী, বিছানার শিয়রে জল রাখলে কোষ্ঠীতে চন্দ্রের অবস্থান দুর্বল হয়। তা মানসিক অস্থিরতা এবং অবসাদের কারণ তৈরি করতে পারে।