শনির দশা, এই দুই শব্দ শুনলেই আঁতকে ওঠেন বেশির ভাগ মানুষ। কারণ তার ফল মারাত্মক। জীবনে সমস্যার শেষ থাকে না। এমনই আরও এক গ্রহ হল মঙ্গল। লোকমুখে সেটির কুপ্রভাব সম্বন্ধে তেমন শোনা না গেলেও, শাস্ত্রে এ সম্বন্ধে নানা তথ্য দেওয়া রয়েছে। মঙ্গল রাগী গ্রহ। মঙ্গলের কুপ্রভাবে নানা দিক থেকে ক্ষতি হয়। সবচেয়ে বেশি সমস্যা হয় যখন জন্মছকে শনি-মঙ্গল একই সঙ্গে নীচস্থ থাকে। তখন নানা দিক থেকে মুশকিলের সম্মুখীন হতে হয়। তবে এর থেকে মুক্তির যে কোনও পথ নেই তা নয়।
আরও পড়ুন:
শনি-মঙ্গলের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করতে সক্ষম শিবের প্রিয় রুদ্রাক্ষ। পুরাণ অনুযায়ী, দীর্ঘ তপস্যার পর শিব যখন নিজের চোখ খোলেন, তখন তাঁর চোখ থেকে অশ্রু গড়িয়ে পড়ে। যেখানে তাঁর অশ্রুবিন্দু পড়ে সেখানে একটা রুদ্রাক্ষের গাছ উৎপন্ন হয়। রুদ্রাক্ষের নানা ধরন রয়েছে। মোট ১৪ ধরনের রুদ্রাক্ষ হয়। প্রত্যেকেরই নিজস্ব বিশেষত্ব রয়েছে। শনি-মঙ্গলের খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচাতে কোন রুদ্রাক্ষ ধারণ করবেন, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
শনি-মঙ্গলের খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচাতে সক্ষম কোন রুদ্রাক্ষ?
চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণে শনি-মঙ্গলের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি মেলে বলে জানাচ্ছে শাস্ত্র। শাস্ত্র অনুসারে, চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষের সঙ্গে কেবল মহাদেব নন, বজরংবলীরও সম্পর্ক রয়েছে। সেই কারণে এই রুদ্রাক্ষ ধারণে জন্মছকে শনি ও মঙ্গলের অবস্থান উন্নত করা যায়। শনির সাড়েসাতি হোক বা মঙ্গলের ভয়ঙ্কর প্রভাব, উভয় গ্রহেরই বিষ প্রভাব থেকে রক্ষা করে চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ। পাশাপাশি আইনি জটিলতা থেকেও মুক্তি পেতে সাহায্য করে। চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণে সাহস ও আত্মবিশ্বাস বৃদ্ধি পায়। এর ফলে যে কোনও কাজ করতে এবং সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।
আরও পড়ুন:
চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষের পাশাপাশি এগারোমুখী, বারোমুখী এবং তেরোমুখী রুদ্রাক্ষ ধারণ করলেও শনি-মঙ্গলের কুপ্রভাব থেকে মুক্তি মেলে। এই সবেরই ভিন্ন ভিন্ন কার্যকারিতা রয়েছে। তবে চোদ্দমুখী রুদ্রাক্ষ বজরংবলীর সঙ্গে সম্পর্কিত হওয়ায়, শনি-মঙ্গলের কুপ্রভাব থেকে রক্ষা করতে এর কার্যকারিতা সবচেয়ে ভাল। যদিও বাকি তিন প্রকার রুদ্রাক্ষ পরলে যে মুক্তি পাওয়া যাবে না তা নয়। সময়ের তারতম্য দেখা গেলেও যেতে পারে। নির্ভর করছে জন্মছকে শনি এবং মঙ্গল ঠিক কতটা খারাপ অবস্থানে রয়েছে সেটির উপর।