দ্রাবিড় রাজনীতিতে সাত দশকের ডিএমকে-এডিএমকে সমীকরণ তছনছ করে প্রথম স্থান পেয়েছে তাঁর দল। কিন্তু চিত্রতারকা-রাজনীতিক থলপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেটরি কাজ়াগম (টিভিকে)-এর যাত্রা থমকে গিয়েছে সংখ্যাগরিষ্ঠতা থেকে ১০ আসন দূরে। এই পরিস্থিতিতে তামিলনাড়ুতে সরকার গড়ার উদ্দেশে বিজয় কংগ্রেস নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে মঙ্গলবার প্রকাশিত কয়েকটি খবরে দাবি।
মোট ২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু কোনও দল বা জোটই তা পায়নি। চিত্রতারকা বিজয়ের টিভিকে ১০৮টিতে জিতে একক বৃহত্তম দল হয়েছে। ডিএমকে-কংগ্রেস-বাম জোট ৭৪ এবং এডিএমকে বিজেপি জোট ৫৩টি জিতেছে। ডিএমকে একক ভাবে ৫৯টি আসনে জিতলেন দলের প্রধান তথা বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী স্ট্যালিন পরাজিত। তাঁর সহযোগী কংগ্রেস জিতেছে পাঁচটিতে। অন্য দিকে, প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী পলানীস্বামীর দল এডিএমকে ৪৭ এবং তাঁর সহযোগী বিজেপি একটিতে জিতেছে। তাদের আরেক সহযোগী পিএমকে পেয়েছে চারটি।
আরও পড়ুন:
এই পরিস্থিতিতে প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে বিজয় কংগ্রেস এবং ইউপিএ জমানার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী অন্বুমণি রামডসের পিএমকে-র দিকে নজর দিয়েছেন বলে খবর। তা ছাড়া তাঁর ‘নজরে’ রয়েছেন, দলিত নেতা থল তিরুমালব্যনের দল ভিসিকের দুই এবং দুই বাম দল সিপিএম এবং সিপিআইয়ের দু’জন করে বিধায়ক। তামিলনাড়ু দায়িত্বপ্রাপ্ত এআইসিসি নেতা গিরিশ চোড়ানকর মঙ্গলবার জানান বিধানসভা ভোটের পরে টিভিকে নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর কথা হয়েছে। পরিস্থিতি সম্পর্কে তিনি রাহুল গান্ধী এবং মল্লিকার্জুন খড়্গেকে অবহিত করেছেন।
আরও পড়ুন:
তামিলনাড়ুতে ২০০৪ সাল থেকেই ডিএমকে ও কংগ্রেসের জোট চলছে। ২০২১-এ ডিএমকে কংগ্রেস-সহ অন্য দলগুলির সঙ্গে জোট বেঁধে লড়েই ক্ষমতায় এসেছিল। করুণানিধি পুত্র এম কে স্ট্যালিনের নেতৃত্বে সরকার হলেও কংগ্রেস সেই সরকারে জায়গা পায়নি। এ বার দলের নেতৃত্বের একাংশের তরফে টিভিকের সঙ্গে জোট বাঁধার দাবি উঠেছিল। বিজয়ও প্রকাশ্যে বিজেপির সমালোচনা করে রাহুল গান্ধীকে নিজের ‘বন্ধু’ বলেছিলেন। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডিএমকের সঙ্গেই জোট করে কংগ্রেস।