কথায় বলে, মেয়েদের মন বোঝা কঠিন। এর নেপথ্যে যে তাঁদের অতিরিক্ত আবেগপ্রবণ হওয়ার প্রবণতাই কারণ সেটি বললে খুব একটা ভুল বলা হবে না। এক জন মেয়ে এবং এক জন ছেলে সব বিষয়ে সমান প্রতিক্রিয়া দেখান না। না দেখানোটাই স্বাভাবিক। শাস্ত্র বলে, একই রাশির ব্যক্তিদের মধ্যে অভ্যেসগত দিক দিয়ে নানা মিল দেখা যায়। কিন্তু একই রাশির হলেও, ছেলে এবং মেয়ের মধ্যে কিছু পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক বিষয়। শাস্ত্র জানাচ্ছে, পৃথক রাশির মেয়েদের আবেগ প্রকাশের ধরন ভিন্ন। কোন রাশির মহিলা কী ভাবে তাঁদের আবেগ সামলান, জেনে নিন।
আরও পড়ুন:
মেষ: মেষ রাশির মেয়েরা অনুভূতি প্রকাশে বাকিদের থেকে এগিয়ে। এঁরা অত্যন্ত শান্ত হন। নিজেদের ভাল লাগাও এঁরা যেমন জোর গলায় প্রকাশ করেন, তেমনই কোনও কিছু খারাপ লাগলেও এঁরা এড়িয়ে যেতে পারেন না। মুখের উপর বলে দেন।
বৃষ: বৃষ রাশির জাতিকারা কে তাঁদের সঙ্গে কেমন আচরণ করছেন সে সব মনে রেখে দেন। এঁরা কোনও কিছুই সহজে ভুলে যান না। কেউ বৃষ জাতিকাদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করলে এঁরা মুখে কিছু না বললেও, মনে মনে তাঁদের থেকে দূরে চলে আসেন।
মিথুন: অনুভূতি লোকানোর ব্যাপারে মিথুন জাতিকাদের জুড়ি মেলা ভার। কোনও বিষয়ে গভীর আঘাত পেলেও এঁরা তা প্রকাশ করেন না। উল্টে হাসিঠাট্টায় নিজেকে ভুলিয়ে রাখেন। সংবেদনশীলতাকে মিথুন রাশির মেয়েরা নিজের মনের গহীনে লুকিয়ে রাখতেই বেশি পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন:
কর্কট: কর্কট রাশির মহিলারা আবেগগত দিক দিয়ে বাকিদের তুলনায় অত্যন্ত পরিপূর্ণ হন। কোনও সম্পর্ক ভাঙার আগেই এঁরা তার আঁচ পেয়ে যান। কার মনে এঁদের নিয়ে কী চলছে সেটা এঁরা বুঝতে পারেন। তাই কষ্ট পাওয়ার আগেই কর্কট জাতিকারা নিজেদের সেখান থেকে সরিয়ে আনেন।
সিংহ: অপরের সামনে নিজেকে শক্ত-সমর্থ ভাবে তুলে ধরলেও, আদতে সিংহ জাতিকারা মনের দিক দিয়ে অত্যন্ত নরম হন। নিজের অনুভূতির ব্যাপারে প্রকাশ্যে আলোচনা করতে পছন্দ করেন না এঁরা। সম্পর্কে এঁরা সঙ্গীর পূর্ণ উপস্থিতি সব সময়ের জন্য চান। সঙ্গী তাঁদের মনোমতো পাত্তা না দিলে হয় মুশকিল।
কন্যা: কাছের মানুষের কথা বলার ভঙ্গি থেকে স্বভাব, সবেতে আসা ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র পরিবর্তন খেয়াল করেন কন্যা রাশির জাতিকারা। কোনও কিছুই এঁদের চোখ এড়িয়ে যায় না। এঁরা নিজের সবটুকু দিয়ে ভালবাসেন। তবে আবেগ প্রকাশে বাকিদের থেকে এঁরা পিছিয়ে। কিন্তু সঙ্গীকে কখনও কষ্ট পেতে দেন না।
আরও পড়ুন:
তুলা: তুলা জাতিকারা সম্পর্কে ভারসাম্য বজায় রেখে চলতে ভালবাসেন। অতিরিক্ত আবেগ প্রকাশ যেমন এঁদের পছন্দ নয়, তেমনই আবার ভাললাগার বহিঃপ্রকাশ না ঘটানোও এঁরা পছন্দ করেন না। তুলা জাতিকারা ভালবাসায় বন্ধুত্বের সম্পর্ক বজায় রাখতে পছন্দ করেন।
বৃশ্চিক: কার মনে কী চলছে তা বৃশ্চিক রাশির জাতিকারা সহজেই বুঝে যান। এঁদের থেকে কোনও কিছু লুকোনো যায় না। মনে ব্যথা পেলে এঁরা সকলের আড়ালে থাকতে পছন্দ করেন। তবে কিছু দিনেই আবার আগের মতো হয়ে যান। পুরনো ব্যথা আঁকড়ে ধরে বসে থাকতে পছন্দ করেন না।
ধনু: ধনু রাশির জাতিকারা ব্যথা ভুলে এগিয়ে যেতে পছন্দ করেন। তা বলে যে এঁদের ভালবাসায় কমতি রয়েছে তা নয়। তবে ভালবাসায় যে এঁদের কষ্ট দিয়েছে, সেই মানুষটিকে মনে রেখে কষ্ট বাড়িয়ে চলা পছন্দ নয় এঁদের। বরং তাঁকে ভুলে নতুন করে জীবন শুরু করার ব্যাপারেই বিশ্বাসী ধনু রাশির মেয়েরা।
আরও পড়ুন:
মকর: মকর রাশির মেয়েরা কথায় নয়, কাজে নিজেদের অনুভূতির প্রকাশ ঘটান। ভালবাসা প্রকাশে এঁরা বাকিদের থেকে পিছিয়ে। সেই কারণে আশপাশের মানুষেরা এঁদের অনুভূতিহীন বলে মনে করেন। তবে এই ধারণা পুরোটাই ভুল। কাছের মানুষের প্রয়োজনে মকর জাতিকাদের সব সময় পাশে পাওয়া যায়।
কুম্ভ: অতিরিক্ত আবেগঘন বিষয় কুম্ভ জাতিকাদের মনে ভয়ের সৃষ্টি করে। এঁরা নিজেরাও প্রেমে পড়তে ভয় পান। পাছে স্বাধীনতা খোয়া যায় সেই ভয় এঁদের তাড়িয়ে বেড়ায়। তবে এক বার কুম্ভ জাতিকারা যাঁকে ভালবাসেন, সেই ব্যক্তির থেকে এঁরা আর মন ফেরাতে পারেন না।
মীন: মীন জাতিকারা অত্যন্ত সংবেদনশীল হন। সম্পর্কে এঁরা নিজেদের সবটুকু দিয়ে দেন। সঙ্গীর ভাল থাকাই এঁদের কাছে প্রাধান্য পায়। নিজে কী চান সে বিষয়ে তোয়াক্কা করেন না। তবে সঙ্গীর আচরণে পরিবর্তন দেখা দিয়ে এঁরা তাঁকে হারানোর ভয়ে নিজেকে গুটিয়ে নিতে থাকেন।