বাড়ি হল সেই শান্তির জায়গা যেখানে সারা দিনের কাজের শেষে আমরা ফিরে আসি। সেই জায়গাকে সুন্দর করে সাজিয়ে-গুছিয়ে রাখতে চান প্রায় সকলেই। অনেকেই সে কাজ করেন বাস্তুশাস্ত্র মেনে। এর ফলে বাড়ির বাসিন্দাদের উন্নতি হয়, পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সুসম্পর্ক বজায় থাকে, এমনটাই বিশ্বাস। তবে শুধু ঘরের আসবাব বা অন্য জিনিস বাস্তুমতে রাখলেই হবে না, বাড়ির ময়লা ফেলার ঝুড়ি বা ডাস্টবিনটি কোথায় রাখবেন, সে সম্পর্কেও মেনে চলতে হবে কিছু বিধিনিষেধ।
কেননা ডাস্টবিনেই আবর্জনা, অদরকারি জিনিস ফেলা হয়। তাই এটি থাকে নেগেটিভ শক্তিতে ভরপুর। সঠিক স্থানে এটি না রাখলে বাড়ির ইতিবাচক শক্তির ভারসাম্য বিঘ্নিত হবে বলে জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র। জেনে নিন, বাস্তুমতে কোন কোন দিকে আবর্জনার ঝুড়ি রাখলে দুর্ভাগ্য নতুন বছরেও পিছু ছাড়বে না আপনার—
আরও পড়ুন:
- ঈশানকোণ: এটি উত্তর-পূর্ব দিক। দেবকোণ বলা হয় একে। সেই বিশ্বাস থেকে এই দিকে পুজোর ঘর করা উচিত বা ঠাকুরের সিংহাসন রাখতে হয়। জ্যোতিষমতে, এ দিকে ময়লার ঝুড়ি রাখলে নানা কাজে বাধা আসতে পারে এবং আর্থিক ক্ষতিও হতে পারে।
- অগ্নিকোণ: দক্ষিণ-পূর্ব কোণে মা লক্ষ্মী বাস করেন বলে বিশ্বাস। তাই বাস্তুমতে, এই দিকে রান্নাঘর করা শুভ। প্রচলিত বিশ্বাস, এ দিকে ডাস্টবিন রাখলে ব্যয় বাড়ে, সঞ্চয় হয় না।
- নৈঋতকোণ: বাড়ির দক্ষিণ-পশ্চিম দিকে ময়লার পাত্র রাখলে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মতামতের অনৈক্য দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। সম্পত্তি নিয়েও বিবাদ হতে পারে। তাই বাস্তু মেনে, এই দিকে কখনওই ময়লার পাত্র রাখবেন না।
আরও পড়ুন:
- উত্তর দিক: এই দিকটিতে ধনদেবতা কুবের অবস্থান করেন বলে বিশ্বাস। সিন্দুক বা আলমারি, যাতে টাকা রাখেন সেটি এ দিকে রাখা যেতে পারে। এই দিকে আবর্জনার ঝুড়ি রাখলে পরিবারের সদস্যদের কর্মজীবনে উন্নতিতে বাধা আসে, এমনটাই জানাচ্ছে বাস্তুশাস্ত্র।
এ ছাড়া, বাড়ির মূল দরজার সামনেও ডাস্টবিন রাখা অনুচিত। পুজোর ঘর তো নয়ই, শোয়ার ঘর বা রান্নাঘরেও ময়লার ঝুড়ি রাখলে তা বাস্তুদোষের কারণ হতে পারে।
- বাস্তুমতে আবর্জনার ঝুড়ি রাখার সঠিক স্থান:
বাড়ির উত্তর-পশ্চিম কোণের পশ্চিম অংশে কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব কোণের পূর্ব অংশে একটি ময়লার ঝুড়ি রাখতে পারেন। এর ফলে বাড়িতে ইতিবাচক শক্তির প্রবেশ বাধাপ্রাপ্ত হবে না বলে জানাচ্ছে জ্যোতিষশাস্ত্র। ডাস্টবিনটি কালো বা গাঢ় নীলরঙা হলে ভাল। তাতে যেন অবশ্যই ঢাকনা থাকে, সে দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে, ময়লা ফেলার পরে ঢাকনা বন্ধ করে দিতে ভুলবেন না। বাস্তুমতে তো বটেই, স্বাস্থ্যের সুরক্ষায়ও এটি জরুরি।