দেশের অনেক শহরেই গত কয়েক দিন ধরে তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। কোথাও আবার ৪০ ছুঁইছুঁই করছে। তবে দেশের বিস্তীর্ণ অংশের ছবিটা প্রায় একই রকম। গরমে পুড়ছে। তাপপ্রবাহ চলছে কোথাও কোথাও। কোথাও আবার তাপপ্রবাহের পরিস্থিতি। অনেক জায়গায় তাপপ্রবাহের সতর্কতাও জারি করা হয়েছে। তবে উত্তর থেকে পূর্ব, মধ্য থেকে পশ্চিম— সর্বত্রই গরমের দাপট।
মৌসম ভবন জানিয়েছে, দিল্লি-এনসিআর, পঞ্জাব, হরিয়ানায় তীব্র তাপপ্রবাহের সম্ভাবনা রয়েছে। সেখানে দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা গত কয়েক দিন ধরেই ৪২-৪৫ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। অন্য দিকে, পশ্চিম এবং মধ্য ভারতেও একই পরিস্থিতি। মহারাষ্ট্র, গুজরাত, মধ্যপ্রদেশে তাপমাত্রা ৪৪ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। ছত্তীসগঢ়, উত্তপ্রদেশেরও কিছু অংশে তাপমাত্রা ৪০-৪২ ডিগ্রির ঘরে ঘোরাফেরা করছে। পিছিয়ে নেই হিমালয় অঞ্চলের রাজ্যগুলিও। হিমাচল প্রদেশের রাজ্য তাপমাত্রা ৪০ ডিগ্রি ছাড়িয়ে গিয়েছে। জম্মু-কাশ্মীরেও তাপপ্রবাহের সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
রবিবার দেশের যে ১০ শহরে তাপমাত্রা ৪২ থেকে প্রায় ৪৬ ডিগ্রির আশপাশে ছিল তার মধ্যে মহারাষ্ট্রেরই তিন শহর ওই তালিকার শীর্ষে ছিল। মহারাষ্ট্রের অকোলা এবং অমরাবতীতে রবিবার দিনের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৪৫.৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস। তার পরই ছিল ওই রাজ্যে ওয়ার্ধা (৪৫.৫), পঞ্জাবের ফরিদকোট (৪৫.২), হরিয়ানার রোহতক (৪৪.৬), ওড়িশার ঝাড়সুগুড়া (৪৪.৬), গুজরাতের সুরেন্দ্রনগর (৪৪.৪), অহমদাবাদ (৪৩.৮), মহারাষ্ট্রের নাগপুর (৪৪.২), মধ্যপ্রদেশের ইনদওর (৪২.২)।
আবহবিদেরা বলছেন, বিশ্বের যে সব শহরে সবচেয়ে বেশি গরম পড়ে, তার মধ্যে এখন বেশির ভাগই ভারতে। মৌসম ভবন জানিয়েছে, উত্তর ভারতে পশ্চিমি ঝঞ্ঝার কারণে ২৮-৩০ এপ্রিল দেশের কোথাও কোথাও ঝড়বৃষ্টির জেরে তাপমাত্রা সাময়িক নামলেও, ওই পরিস্থিতি কাটলেই ‘আগুন’ ঝরাবে সূর্য। বিশেষ করে উত্তর, মধ্য এবং পূর্ব ভারতের জন্য সতর্কতা জারি করা হয়েছে। রাতেও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা বেশি থাকবে। তার জেরে অস্বস্তি আরও বাড়বে। তাপপ্রবাহের পরিস্থিতির কারণে ইতিমধ্যেই দেশের বিভিন্ন রাজ্যে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলিতে ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে। কোনও কোনও শহরে আবার গরমের ছুটি এগিয়ে নিয়ে আসা হচ্ছে।