কেরলের প্রায় ৭০ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে এবং অর্ধেকেরও বেশি বিধায়ক বর্তমানে কোটিপতি। বিধায়কদের নিজেদেরই দাখিল করা হলফনামা থেকে এই তথ্য সামনে এনেছে অ্যাসোসিয়েশন ফর ডেমোক্র্যাটিক রিফর্মসের (এডিআর) একটি রিপোর্ট।
দলভিত্তিক তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সব রাজনৈতিক দলেই ফৌজদারি মামলাযুক্ত বিধায়ক রয়েছেন। সিপিএমের ৫৮ জনের মধ্যে ৪৩ জন, কংগ্রেসের ২১ জনের মধ্যে ১৯ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা রয়েছে। সিপিআই-এর ৪৪ শতাংশ এবং মুসলিম লিগের ৮৬ শতাংশ বিধায়কের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা রয়েছে। ৯২ জন বিধায়কের বিরুদ্ধে মামলা বিচারাধীন। এর মধ্যে রিপোর্ট অনুযায়ী, দু’জন বিধায়কের নামে ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারায় খুনের মামলা আছে। তিন জনের বিরুদ্ধে ৩০৭ ধারায় (খুনের চেষ্টা) অভিযোগ রয়েছে। এ ছাড়া তিন জন বিধায়ক মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ সংক্রান্ত মামলার কথা কবুল করেছেন, যার মধ্যে একটি ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে।
এডিআর এবং কেরল ইলেকশন ওয়াচ ১৩২ জন বর্তমান বিধায়কের হলফনামা বিশ্লেষণ করে দেখেছে, আর্থিক দিক থেকে ৭২ জন বিধায়ক নিজেদের সম্পত্তির পরিমাণ ১ কোটি টাকার বেশি বলে জানিয়েছেন। ১৩২ জন বিধায়কের মোট সম্পত্তির পরিমাণ ৩৬৩ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা। বিধায়কপিছু গড় সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৭৫ লক্ষ টাকা।
দলভিত্তিক হিসাবে কেরল কংগ্রেস (এম), জেডি(এস), এনসিপি এবং কেরল কংগ্রেসের সব বিধায়কই ১ কোটির বেশি সম্পদের মালিক। মুসলিম লিগের ৮৬ শতাংশ, কংগ্রেসের ৬২ শতাংশ এবং সিপিএমের ৪০ শতাংশ বিধায়ক কোটিপতি। সবচেয়ে ধনী বিধায়ক কংগ্রেসের ম্যাথিউ কুঝলনাদান। তাঁর ঘোষিত সম্পত্তির পরিমাণ ৩৪ কোটিরও বেশি। শাসক দল সিপিএমের পিপি সুমোদ ৯ লক্ষ ৯০ হাজার টাকার সম্পদ ঘোষণা করেছেন, যা সবচেয়ে কম।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)