বিজেপির পরে এ বার প্রার্থী তালিকা নিয়ে কংগ্রেসেও ক্ষোভের আগুন ছড়িয়েছে। তিন বারের বিধায়ক থাকার পরেও পরিষদীয় সচিব শরৎ শইকিয়া ভেবেই পাচ্ছেন না তিনি এ বার টিকিট কেন পেলেন না। সরাসরি প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি অঞ্জন দত্তর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন তিনি। একই অভিযোগ অমিয়া গগৈয়ের। দুলিয়াজানে তাঁর বদলে যে যুব নেতা ধ্রুবজ্যোতি গগৈকে প্রার্থী করেছে কংগ্রেস, তাঁর নামে রয়েছে একাধিক গুরুতর অভিযোগ। লখিমপুরে ঘন বুড়াগোঁহাইয়ের জায়গায় জয়প্রকাশ দাসকে প্রার্থী করায় এ দিন জেলায় বন্ধ ডাকে কংগ্রেসের একাংশ।
অগপতেও বিক্ষোভের আগুন নেভেনি। প্রার্থী হিসেবে নাম ঘোষণার পরও বিজেপির ধমক খেয়ে বিশ্বনাথে প্রার্থী প্রত্যাহার করেছে অগপ। সেই ক্ষোভে সেখানকার বর্তমান অগপ বিধায়ক প্রবীণ হাজরিকা নির্দল হিসেবে লড়বেন।
কংগ্রেসের প্রথম তালিকায় দলের ১০ জন বিধায়ক জায়গা পাননি। এর মধ্যে আব্দুল মুহিব মজুমদার, রামেশ্বর ধানোয়ার, আকলিয়াস তির্কে, মন্দিরা রায়, জীবনতারা ঘাটোয়ার, মেম্বর গগৈরা স্বেচ্ছায় লড়েননি। রামেশ্বরের জায়গায় তাঁর ছেলে গৌতম, আকলিয়াসের বদলে তাঁর মেয়ে রোজেলিনা, মন্দিরার বদলে ছেলে রাহুল, জীবনতারার জায়গায় তাঁর স্বামী পবনসিংহ ঘাটোয়ার ও মেম্বর গগৈয়ের পুত্রবধূ পল্লবী শইকিয়া গগৈকে প্রার্থী করেছে দল। কিন্তু মাহমারায় শরৎ শইকিয়া ও দুলিয়াজানে অমিয়া গগৈয়ের টিকিট না পাওয়ায় দলের নেতাদের
একাংশ অবাক।
প্রাথমিক ধাক্কা কাটিয়ে শরৎবাবু এ দিন জানান, তিনি নির্দল হিসেবে লড়তে চলেছেন। সমর্থকরা তাঁকে এ ভাবে অন্যায় মেনে নিতে দেবেন না। তিনি বলেন, ‘‘কয়েক দিন ধরেই অঞ্জন দত্ত আমাকে এড়িয়ে চলছিলেন। তাঁর কলকাঠিতেই আমার প্রার্থী হওয়া হল না। আমি তিন বারের বিধায়ক। ১৯৭২ সাল থেকে কংগ্রেস করছি। কিন্তু এই বিশ্বাসভঙ্গের পর নির্দল হিসেবে লড়তে পারি।’’
লখিমপুরে প্রাক্তন বিধায়ক ঘন বুড়াগোঁহাই টিকিট না পাওয়ায় তাঁর সমর্থকরা জেলায় বন্ধ ডাকে। টায়ার জ্বালিয়ে পথ অবরোধ করা হয়। পাথরের আঘাতে ভাঙে একাধিক গাড়ির কাচ। অঞ্জনবাবু বলেন, ‘‘আমি যে প্রার্থী তালিকা দিয়েছি তার মধ্যে ৭৫ জনকে নিয়েছেন হাইকম্যান্ড।’’
এ দিকে, প্রাথমিক ক্ষোভ ভুলে একইসঙ্গে প্রচার চালাচ্ছেন বিজেপি সাংসদ রাজেন গোঁহাই ও অগপ
নেতা প্রফুল্ল মহন্ত। ২৬ মার্চ রাজ্যে নির্বাচনী প্রচারে এসে মাজুলিতে প্রদেশ বিজেপি সভাপতি সর্বানন্দ সোনোয়ালের পাশাপাশি বোকাখাটে অগপ সভাপতি অতুল বরার জন্যেও নির্বাচনী জনসভা করবেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু দু’দলের মধ্যে এখনও তীব্র ঠান্ডা-লড়াই চলছে। বিজেপির চাপে বিশ্বনাথে প্রার্থী প্রত্যাহার করলেও অগপ জানিয়েছে— নাওবৈচা, মাহমারা, কলাইগাঁও আর হাজোতে তারা বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াই চালাবেই। কিন্তু সর্বানন্দ জানান, ২৪টি আসনে সমঝোতাই জোটের শর্ত ছিল। বন্ধুত্বপূর্ণ লড়াইয়ের কথা উঠছেই না। জোটের বিরুদ্ধে রঙিয়া, কমলপুর, পাতাচারকুচি, ঢকুয়াখানা, চাবুয়া, মার্গারিটা, নলবাড়িতে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন অগপ সমর্থকেরা।
বিশ্বনাথে বর্তমান অগপ বিধায়ক প্রবীণ হাজরিকার নাম প্রার্থী হিসেবে ঘোষণা করে দিয়েছিল অগপ। কিন্তু গত কাল বিজেপির চাপে তাঁর নাম প্রত্যাহার করা হয়। অবশ্য কলাইগাঁওতে মুকুন্দরাম চৌধুরীর নাম প্রত্যাহার করেনি দল। ক্ষিপ্ত প্রবীণবাবু নির্দল প্রার্থী হিসেবে বিশ্বনাথে মনোনয়ন জমা দেন। তাঁর সমর্থনে জেলা অগপর সব কর্মী পদত্যাগ করেন। একই ভাবে জাগী রোড, ঢকুয়াখানাতেও অগপ কর্মীরা গণ পদত্যাগ করেন। আসন দু’টি বিজেপিকে দেওয়ার প্রতিবাদে জাগী রোডে বুবুল দাস ও ঢকুয়াখানায় দিলীপ চৌধুরী লড়বেন। দিলীপবাবু জানান, তিনি অগপ প্রার্থী হিসেবেই মনোনয়ন জমা দেবেন।
এ দিকে মার্গারিটা থেকে বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন প্রাক্তন আলফা জঙ্গি ভাষ্কর শর্মা। আলফা স্বাধীনের তরফে বিবৃতি দিয়ে বলা হয়, গুপ্তহত্যার অন্যতম খলনায়ক ভাষ্কর শর্মাকে মার্গারিটায় প্রচার চালাতে দেওয়া হবে না। জনগণকে ভাষ্করবাবুর সভা থেকে দূরে থাকতে বলা হয়।