E-Paper

ভোটকুশলী সংস্থায় হানা কার্যত দলেই হানা, দাবি

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি-র তল্লাশির সময় প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের দফতরে গিয়ে ঠিক করলেন কি না, কংগ্রেস তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৯ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:২৭
বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে হানা দেয় ইডি।

বৃহস্পতিবার সকালে আইপ্যাক কর্ণধার প্রতীক জৈনের বাড়ি এবং দফতরে হানা দেয় ইডি। — প্রতীকী চিত্র।

মোদী জমানায় লোকসভা বা বিধানসভা নির্বাচনের আগে বিরোধী দলের নেতাদের ঠিকানায় ইডি, সিবিআই বা আয়কর দফতরের হানা ‘স্বাভাবিক ঘটনা’ ছিল। এ বার রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী উপদেষ্টা ভোটকুশলী সংস্থার ঠিকানায় ইডি-র হানা রাজনীতির খেলায় ‘নতুন অধ্যায়’ যোগ করল বলে জাতীয় রাজনীতিতে বিজেপি-বিরোধী শিবির মনে করছে। কারণ, কোনও বিরোধী শাসিত রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের আগে শাসক দলের ভোটকুশলী সংস্থার ঠিকানায় এই প্রথম কেন্দ্রীয় সংস্থা হানা দিল। কংগ্রেস থেকে আপ, এসপি থেকে আরজেডি-র নেতারা একটি বিষয়ে একমত যে, এখন কোনও ভোটকুশলী সংস্থায় কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার হানা সেই রাজনৈতিক দলের সদর দফতরে হানার সমান। কারণ, ভোটকুশলী সংস্থাই রাজনৈতিক দলের সাংগঠনিক বহু কাজ সামলায়।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইডি-র তল্লাশির সময় প্রতীক জৈন ও আইপ্যাকের দফতরে গিয়ে ঠিক করলেন কি না, কংগ্রেস তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। কিন্তু ২০২০ সালে যে কয়লা চুরির মামলা ইডি দায়ের করেছিল, সেই তদন্তে এখন ছয় বছর পরে কেন তারা আইপ্যাকের দফতরে হানা দিচ্ছে, তা নিয়েও কংগ্রেস প্রশ্ন তুলেছে। পশ্চিমবঙ্গের ভারপ্রাপ্ত কংগ্রেসের পর্যবেক্ষক গুলাম আহমেদ মীরের প্রশ্ন, “যদি কোনও বেসরকারি সংস্থার বিরুদ্ধে মামলা থাকে, তা হলে দু’-তিন বছর আগেও ইডি-র অভিযান হতে পারত। এখন কেন?” কংগ্রেসের আইন বিভাগের প্রধান, রাজ্যসভা সাংসদ অভিষেক মনু সিঙ্ঘভির অভিযোগ, “কলকাতায় আইপ্যাক সংস্থায় ইডি হানা বিজেপির দমনের রাজনীতির নয়া অধ্যায়। গণতন্ত্রে আস্থা না থাকলে, কেন্দ্রীয় সংস্থাকে অস্ত্র করা হয়।”

বিরোধীরা মনে করিয়ে দিচ্ছেন, প্রশান্ত কিশোরের সময়ে আইপ্যাক বিজেপি, জগন্মোহন রেড্ডির ওয়াইএসআর কংগ্রেসের হয়েও কাজ করেছে। তখন ইডি, সিবিআই হানা হয়নি। তিন বছর আগে অভিযোগ উঠেছিল, জগন সরকার রাজ্যের কোষাগারের টাকা ভুয়ো সংস্থার মাধ্যমে আইপ্যাক-কে পাচার করেছে। তখন তদন্ত হয়নি। কারণ জগন্মোহন তখন বিজেপির সঙ্গে আপস করে চলছিলেন। মহারাষ্ট্রের বিধানসভা ভোটের সময় বিজেপির জাতীয় সম্পাদক বিনোদ তাওড়ে নগদ ১০০ কোটি টাকা নিয়ে পালঘরে ধরা পড়েন। সেখানেও তদন্ত হয়নি।

আপের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে ভোটকুশলী সংস্থার দফতরই রাজনৈতিক দলের দফতর হয়ে ওঠে। সে অফিসে হানা তৃণমূল দফতরে হানার সমান। দলের সাংসদ সঞ্জয় সিংহের অভিযোগ, “মোদী-শাহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোটে হারাতে পারবেন না বলে রাগের চোটে এ সব করছেন।” এসপি-র প্রধান অখিলেশ যাদবের কটাক্ষ, “বিজেপি যে প্রবল ভাবে বাংলায় হারছে, এ তার প্রথম প্রমাণ।” আরজেডি বিধায়ক রণবিজয় সাহুরও একই মত। পিডিপি নেত্রী মেহবুবা মুফতির মতে, “মমতার কৌশল ও মানুষের সমর্থনে বিজেপি দিশাহারা।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Opposition India Politics BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy