Advertisement
E-Paper

বিবাহবিচ্ছেদ না নিয়ে কেউ অন্য কারও সঙ্গে একত্রবাসে থাকতে পারেন না! পর্যবেক্ষণ এলাহাবাদ হাই কোর্টের

উত্তরপ্রদেশে একত্রবাসে থাকা এক যুগল নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে মামলা করেন। তবে সেই আর্জি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না হাই কোর্টের একক বেঞ্চ।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৮ মার্চ ২০২৬ ২৩:২১

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

বিবাহবিচ্ছেদ না নিয়ে কেউ অন্য কারও সঙ্গে একত্রবাসে থাকতে পারেন না। এক মামলায় এমনটাই জানিয়েছে ইলাহাবাদ হাই কোর্ট। আদালতের পর্যবেক্ষণ, স্বামী বা স্ত্রীর মধ্যে কেউ জীবিত থাকলে অপর জন বিচ্ছেদ না-নিয়ে অন্য কারও সঙ্গে একত্রবাসে থাকতে পারেন না।

গত ২০ মার্চ ইলাহাবাদ হাই কোর্টের বিচারপতি বিবেককুমার সিংহের একক বেঞ্চ এই পর্যবেক্ষণ করেছে। আদালতের এই পর্যবেক্ষণ শনিবার প্রকাশ করেছে আইনি খবর পরিবেশনকারী ওয়েবসাইট ‘লাইভ ল’। শুক্রবারই একত্রবাস সংক্রান্ত বিষয়ে ইলাহাবাদ হাই কোর্টেরই অপর এক বেঞ্চের পর্যবেক্ষণ প্রকাশ্যে আসে। বিচারপতি জেজে মুনির এবং বিচারপতি তরুণ সাক্সেনার ওই ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছিল, কোনও বিবাহিত পুরুষ যদি কোনও প্রাপ্তবয়স্ক মহিলার সঙ্গে পারস্পরিক সম্মতিতে একত্রবাস করেন, তবে তা অপরাধ নয়।

এ বার ইলাহাবাদ হাই কোর্টেরই অপর এক বেঞ্চের মন্তব্য প্রকাশ্যে এল। উত্তরপ্রদেশে একত্রবাসে থাকা এক যুগল নিরাপত্তা চেয়ে আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিলেন। তাঁদের বক্তব্য ছিল, প্রাণহানির আশঙ্কা রয়েছে। এ অবস্থায় নিরাপত্তা চেয়ে আদালতে মামলা করেন তাঁরা। তবে সেই আর্জি গ্রহণযোগ্য বলে মনে করছে না হাই কোর্টের একক বেঞ্চ।

যুগলের নিরাপত্তার আর্জির বিরোধিতা করেন সরকার পক্ষের আইনজীবী। সরকার পক্ষের বক্তব্য, ওই যুগলের উভয়েই আগে থেকে বিবাহিত। বিবাহবিচ্ছেদ না নেওয়া পর্যন্ত তাঁদের এই একত্রবাস ‘বেআইনি’ কাজ বলে আদালতে যুক্তি দেন সরকারপক্ষের আইনজীবী।

হাই কোর্টও জানায়, বিবাহ বা একত্রবাসের ক্ষেত্রে অবশ্যই দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের নিজ নিজ সম্মতি থাকতে হবে। এ ক্ষেত্রে তাঁদের গোত্র, বর্ণ ও ধর্ম কী, তা সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। আদালতের পর্যবেক্ষণ, দু’জন প্রাপ্তবয়স্কের ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করার অধিকার কারও নেই, এমনকি তাঁদের বাবা-মায়েরও নেই। তবে একই সঙ্গে বিচারপতি সিংহ এ-ও জানিয়েছেন, ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার নিরঙ্কুশ বা অবাধ কোনও অধিকার নয়। অন্য কোনও ব্যক্তির বিধিবদ্ধ অধিকার যেখান থেকে শুরু হয়, সেখানেই এক জনের এই স্বাধীনতার অবসান ঘটে।

উল্লেখ্যযোগ্য ভাবে বিচারপতির পর্যবেক্ষণ, বিবাহিত সম্পর্কে স্বামী বা স্ত্রীর তাঁর সঙ্গীর সান্নিধ্য পাওয়ার একটি আইনি অধিকার রয়েছে। ব্যক্তিগত স্বাধীনতার জন্য সেই অধিকার থেকে কাউকে বঞ্চিত করা যায় না। হাইকোর্ট আরও যোগ করে যে, এক জনের স্বাধীনতা অন্য ব্যক্তির আইনগত অধিকারে হস্তক্ষেপ করতে পারে না বা সেটিকে ছাপিয়েও যেতে পারে না।

Allahabad High Court
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy