দেশের পরমাণু বিদ্যুৎ ক্ষেত্র বেসরকারি সংস্থার জন্য খুলে দিয়ে এবং পরমাণু চুল্লি সরবরাহকারী বিদেশি সংস্থাগুলিকে যে কোনও দুর্ঘটনা থেকে দায়মুক্ত করে দিয়ে মোদী সরকার সংসদে ‘শান্তি’ বিল পাশ করিয়েছে শীতকালীন অধিবেশনে। বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়ে অসামরিক পরমাণু ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে গভীরতর সহযোগিতার আশ্বাস দিল আমেরিকা। গতকাল বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গে ফোনালাপে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো এ কথা জানিয়েছেন।
আমেরিকার বিদেশ দফতরের সহ-মুখপাত্র টমি পিগেট রুবিয়ো জয়শঙ্করের সঙ্গে কথোপকথনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, “ভারত এবং আমেরিকার মধ্যে পরমাণু ক্ষেত্রে সহযোগিতার বিষয়ে যে নতুন অগ্রগতি ঘটেছে, তাকে কাজে লাগানোর প্রশ্নে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন রুবিয়ো। এরপর ভারতের পরমাণু বাজারে আমেরিকার বেসরকারি সংস্থাগুলির কাজের সুযোগ বাড়বে। শক্তিক্ষেত্রে নিরাপত্তা বহাল রাখতে উভয়েই অগ্রসর হতে পারবে, বিরল খনিজের সরবরাহ বজায় থাকবে।”
পরমাণু ক্ষেত্রে আশাবাদের কথা শোনালেও ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যকরার কারণে ট্রাম্পের ঘোষণা মাফিকবাড়তি ২৫% শুল্ক চাপার আশঙ্কায় রয়েছে ভারত। আজ ভারতীয় সময় গভীর রাতে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্পের চাপানো জরিমানা শুল্কের বিষয়ে তাদের মতামত জানাবে বলেই খবর। আন্তর্জাতিক স্তরে আমেরিকার এই সিদ্ধান্ত তাদের বাণিজ্য নীতিকে অনেকটাই বদলে দেবে বলে মনে করা হচ্ছে। সে ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ধাক্কা খাবে।
অন্য দিকে, ভারতে নবনিযুক্ত আমেরিকার রাষ্ট্রদূত সের্জিয়ো গোর আজ রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মুর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি ভবনে দেখা করে তাঁর কাগজপত্র (ক্রেডেনশিয়াল) জমা দিয়েছেন। তবে কূটনৈতিক প্রোটোকল অনুযায়ী তিনি রাষ্ট্রপতির কাছে নিজের কাগজ জমা দেওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা না করে তার তিন দিন আগেই নয়াদিল্লিতে সংবাদমাধ্যমের সামনে ভারত-আমেরিকা দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়ে বিবৃতি দিয়েছেন।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)