হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে ভারতে এল আরও একটি গ্যাস বহনকারী জাহাজ। জগ বসন্ত নামের ওই জাহাজটি শুক্রবার সকালে গুজরাতের ভাদিনার বন্দরে প্রবেশ করে। জাহাজটিতে ৪৭,৬০০ মেট্রিক টন গ্যাস রয়েছে বলে জানা গিয়েছে। হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের দিকে আসছে এলপিজি ট্যাঙ্কার ‘পাইন গ্যাস’-ও। ৪৫ হাজার মেট্রিক টন এলপিজি বহন করা ‘পাইন গ্যাস’ খুব শীঘ্রই কর্নাটকের নিউ মেঙ্গালুরু বন্দরে আসবে।
দু’টি জাহাজ দেশে ঢোকার পর ভারতের ভাঁড়ারে মজুত গ্যাসের পরিমাণ বেড়ে ৯২ হাজার মেট্রিক টন হবে। প্রসঙ্গত, এর আগে গত ১০ দিনে দু’টি বড় এলপিজি ট্যাঙ্কার (নন্দাদেবী এবং শিবালিক) ভারতে এসেছে। সেই হিসাবে পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তৃতীয় জাহাজ হিসাবে ‘জগ বসন্ত’ হরমুজ় পেরিয়ে ভারতে ঢুকল।
প্রাথমিক ভাবে জানা গিয়েছে, গত সোমবারই হরমুজ় পেরিয়ে ভারতের উদ্দেশে রওনা দেয় দু’টি জাহাজ। কয়েকটি সংবাদমাধ্যমের দাবি, হামলা এড়াতে কাশেম-লারাক চ্যানেল হয়ে হরমুজ় পেরোয় ওই দু’টি জাহাজ। এই চ্যানেল দিয়ে হরমুজ় পেরোলে তুলনায় বেশি সময় লাগে। কারণ কিছুটা ঘুরপথে যেতে হয় জাহাজগুলিকে। ওই সংবাদমাধ্যমগুলির দাবি, দু’টি জাহাজই আগাম সংকেত পাঠিয়ে জানিয়ে দেয় যে, সেগুলি ভারতের দিকে যাচ্ছে। মনে করা হচ্ছে, তার পরেই দু’টি জাহাজকে হরমুজ় পেরোনোর সবুজ সঙ্কেত দিয়ে দেয় ইরান।
অভ্যন্তরীণ চাহিদার ৬০ শতাংশ এলপিজি ভারত বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে থাকে। আমদানিকৃত গ্যাসের ৯০ শতাংশ আসে হরমুজ় প্রণালী পেরিয়ে। কিন্তু আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের সঙ্গে সামরিক সংঘাত শুরু হওয়ার পরেই গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথকে কার্যত অবরুদ্ধ করে দেয় ইরান। সেখান দিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি হামলার মুখে পড়ে। ফলে ওই প্রণালীর আগে পারস্য উপসাগরে দাঁড়িয়ে পড়ে পণ্যবাহী জাহাজগুলি।
ভারতের জাহাজ মন্ত্রক বুধবার জানিয়েছে, এখন ভারতের পতাকাবাহী ২০টি জাহাজ হরমুজ় প্রণালীতে আটকে রয়েছে। এগুলির মধ্যে পাঁচটি জাহাজে এলপিজি রয়েছে। ইরান অবশ্য জানিয়েছে, বন্ধুদেশগুলিকে হরমুজ় প্রণালী ব্যবহার করার অনুমতি দিচ্ছে তারা। এই তালিকায় ভারত ছাড়াও রয়েছে চিন, রাশিয়া, ইরাক এবং পাকিস্তান।