আরও ১০ দিন ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে কোনও হামলা চালাবে না আমেরিকা। শুক্রবার সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে নিজেই এই ঘোষণা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্পের অবশ্য দাবি, ইরানের অনুরোধেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি। তেহরান ট্রাম্পের এই দাবি উড়িয়ে দিয়েছে। ইরানের তরফে এখনও আনুষ্ঠানিক ভাবে কিছু জানানো না হলেও মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানিয়েছে, এমন কোনও অনুরোধ করার কথা অস্বীকার করেছে তেহরান।
শুক্রবার রাত ১টা ৪১ মিনিটে (ভারতীয় সময় অনুসারে) সমাজমাধ্যমে একটি পোস্ট করে ট্রাম্প লেখেন, “ইরানের সরকারের অনুরোধ মেনে আমি ওদের বিদ্যুৎকেন্দ্র ধ্বংস করার কাজ ১০ দিনের জন্য বন্ধ রাখছি।” ট্রাম্পের ঘোষণা মোতাবেক আগামী ৬ এপ্রিল রাত ৮টা (আমেরিকার স্থানীয় সময় অনুসারে) পর্যন্ত ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাবে না আমেরিকা। ইরানের সঙ্গে আলোচনাও খুব ভাল ভাবে এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। তাঁর কথায়, “আলোচনা চলছে। সংবাদমাধ্যম এবং কয়েক জনের ভুয়ো খবর সত্ত্বেও আলোচনা খুব ভাল ভাবে এগোচ্ছে।”
আরও পড়ুন:
গত ২২ মার্চ ট্রাম্প হুঁশিয়ারির সুরে জানিয়েছিলেন, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ইরান হরমুজ় প্রণালী না-খুলে দিলে, আমেরিকা সে দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলিতে হামলা চালাবে। ২৩ মার্চ ভোলবদল করে ট্রাম্প জানান, ইরানের কোনও বিদ্যুৎকেন্দ্রে আগামী পাঁচ দিন হামলা চালানো হবে না! তাঁর এই ঘোষণার পরেও অবশ্য পশ্চিম এশিয়ায় উত্তেজনা প্রশমিত হয়নি। আমেরিকার তরফে অবশ্য জানিয়ে দেওয়া হয় যে, ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্র ছাড়া অন্যত্র সামরিক অভিযান চলবে।
ইতিমধ্যেই যুদ্ধ থামাতে ইরানকে ১৫ দফা প্রস্তাব দিয়েছে আমেরিকা। দুই দেশের মধ্যে মধ্যস্থতা করার ইচ্ছাপ্রকাশ করা পাকিস্তানের মাধ্যমে তা পাঠিয়েও দেওয়া হয়েছে ইরানকে। পাল্টা পাঁচ দফা প্রস্তাব দিয়েছে ইরানও। একাধিক সূত্রের দাবি, ইরানের তরফে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে যে, ট্রাম্পের দাবি মেনে তারা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি নিয়ে কোনও আপসের পথে হাঁটবে না। এই আবহে বুধবার ইরানের বিদেশমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি জানিয়ে দেন, আমেরিকার সঙ্গে বোঝাপড়া করার ইচ্ছা তাঁদের নেই। বরং ‘প্রতিরোধ’ জারি রাখতে চায় ইরান। আরাঘচি অবশ্য জানান, তাঁরা আমেরিকার প্রস্তাবগুলি খতিয়ে দেখছেন। কিন্তু আমেরিকার সঙ্গে এখনই আলোচনার টেবিলে বসার সম্ভাবনা কার্যত উড়িয়ে দেন তিনি।