নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয়েছে দিল্লির আমলা-কন্যাকে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে এসেছে। ওই রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, আমলা-কন্যাকে ভোঁতা এবং ভারী কোনও জিনিস দিয়ে মুখে আঘাত করা হয়েছিল। যার জেরে তাঁর নাকের হাড় ভেঙে গিয়েছে।
এনডিটিভি-র প্রতিবেদন অনুযায়ী, ওই রিপোর্টে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, তরুণীর হাত-পা এবং কনুয়ইয়ের চামড়া উঠে গিয়েছিল। কালশিটে দাগ পড়া। আর তা থেকেই তদন্তকারীদের অনুমান, তরুণী হামলাকারীর বিরুদ্ধে লড়াই করার চেষ্টা করেছিলেন। ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ সূত্রে খবর, চিকিৎসকেরা দেখেন, আমলা-কন্যার ঘাড়ের পেশি ছিঁড়ে গিয়েছিল। ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়। ঘাড়ের হাড় ভাঙা ছিল। বিশেষ করে থাইরয়েড কার্টিলেজের কাছে। শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় আমলা-কন্যাকে।
আরও পড়ুন:
পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু নমুনা ফরেন্সিক পরীক্ষার জন্য সংরক্ষণ করা হয়েছে। রক্তের নমুনা, নখ, লালারস সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তকারীরা বলছেন, তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়েছিল কি না, তা স্পষ্ট হবে। তবে পুলিশ সূত্রে খবর, আমলা-কন্যাকে প্রথমে মারধর করা হয়। অচৈতন্য হয়ে পড়লে, তাঁকে ধর্ষণ করা হয়। তার পর তাঁর দেহ টেনে নিয়ে যান লকার রুমে। সেখানে যে আলমারিতে টাকা রাখা ছিল সেই আলমারির পাসকোড দেওয়া ছিল। আর সেই পাসকোড ছিল তিন জনের কাছে। আমলা, তাঁর স্ত্রী এবং কন্যা। সে জন্যই আমলা-কন্যাকে অচৈতন্য অবস্থায় টানতে টানতে ওই ঘরে নিয়ে গিয়ে আলমারির স্ক্যানারে তাঁর আঙুলের ছাপ নিয়ে তা খোলেন। তার পর লক্ষাধিক টাকা, গয়না লুট করেন। কিছু ক্ষণ ওই ঘরেই সময় কাটান। তার পর রক্তমাখা পোশাক বদলে আমলার বাড়ি ছাড়েন।
প্রসঙ্গত, বুধবার সকালে আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করে খুনের অভিযোগ ওঠে ওই বাড়ির প্রাক্তন পরিচারকের বিরুদ্ধে। ইতিমধ্যেই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তদন্তকারী সূত্রের খবর, অনুশোচনার কোনও লেশমাত্র ধরা পড়েনি অভিযুক্তের চোখেমুখে। বরং খুব ধীর এবং শান্ত কণ্ঠে জেরার মুখে বলেছেন, ‘‘কী করা যাবে হয়ে গিয়েছে।’’