E-Paper

‘ভুল করে ফেলেছি’, কোর্টে বলল আমলা-কন্যা খুনে ধৃত

গত কাল দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বাড়িতে এক আইআরএস অফিসারের কন্যার দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে দ্বারকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে বছর উনিশের রাহুল মীনাকে।

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২১

— প্রতীকী চিত্র।

অপরাধের পরেই সিসিটিভি ফুটেজের সূত্র ধরে তাকে গ্রেফতার করেছিল দিল্লি পুলিশ। রাজধানীর এক আমলার মেয়েকে ধর্ষণ ও খুনের দায়ে অভিযুক্ত সেই রাহুল মীনা আজ আদালতে দাঁড়িয়ে বলল, “আমি অপরাধ করে ফেলেছি। ভুল করে ফেলেছি।” তার চার দিনের পুলিশি হেফাজত হয়েছে।

গত কাল দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির বাড়িতে এক আইআরএস অফিসারের কন্যার দেহ উদ্ধার হয়। পুলিশ তদন্তে নেমে দ্বারকার একটি হোটেল থেকে গ্রেফতার করে বছর উনিশের রাহুলকে। আমলা এবং তাঁর স্ত্রী প্রতিদিনের মতো ভোরে প্রাতর্ভ্রমণে ও জিমে গিয়েছিলেন। বাড়িতে একাই ছিলেন তাঁদের বছর বাইশের আইআইটি-স্নাতক কন্যা। অভিযোগ, ৬টা ৫০ মিনিট নাগাদ আমলার বাড়িতে ঢুকে পড়ে ওই বাড়ির প্রাক্তন গৃহ-সহায়ক রাহুল। সে জানত, পরিচারকদের জন্য দরজার বাইরে একটি নির্দিষ্ট জায়গায় বাড়ির চাবি রাখে পরিবারটি। সেই চাবি দিয়ে দরজা খুলে ঢুকে সে আমলা-কন্যাকে ধর্ষণ করে। মাথায় ভারী বস্তু দিয়ে আঘাত করে। অচেতন দেহটিকে টেনেহিঁচড়ে নিয়ে গিয়ে তরুণীর আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে একটি ‘বায়োমেট্রিক সিন্দুক’ খোলার চেষ্টা চালায়। শেষে সিন্দুক থেকে আড়াই লক্ষ টাকা লুট করে। সম্ভবত এর মধ্যেই ফোনের চার্জারের তার জড়িয়ে শ্বাসরোধ করে সে মেরে ফেলে তরুণীকে। তার পর পোশাক বদলে আমলার বাড়ি ছাড়ে। পুলিশ সূত্রের দাবি, আমলা-কন্যাকে ধর্ষণের আগে রাজস্থানের অলওয়ারে এক বন্ধুর স্ত্রীকেও ধর্ষণ করছিল রাহুল। তার বাড়ি সেখানেই। ধারদেনা করে জুয়া খেলার বদভ্যাস ছিল রাহুলের। সে কথা জেনেই মাস দেড়েক আগে তাকে বরখাস্ত করে আমলার পরিবার। অপরাধের নেপথ্যে সেই আক্রোশও কাজ করেছে বলে পুলিশের সন্দেহ।

ভিড়ে ঠাসা আদালত কক্ষে এ দিন বেলা আড়াইটে নাগাদ মুখ ঢেকে হাজির করা হয় রাহুলকে। ম্যাজিস্ট্রেট দীপিকা ঠাকরানের সামনে প্রশ্নের মুখে সে বলে, ‘‘অপরাধ হয়ে গিয়েছে।’’ কেন এই অপরাধ (খুন) করল সে? জবাবে রাহুল জানায়, সিন্দুক খুলতে নিহতের আঙুলের ছাপ দরকার ছিল তার। মেডিকো-লিগাল রিপোর্টে রাহুলের শরীরে আঘাতের চিহ্ন মিলেছে। তা নিয়ে প্রশ্নের মুখে সে বলে, ছাদ থেকে নামতে গিয়ে চোট লেগেছে তার। ম্যাজিস্ট্রেট অবশ্য জানান, রাহুলের এ দিনের বক্তব্যকে খাতায়-কলমে তার স্বীকারোক্তি হিসেবে ধরা হবে না। ঘটনায় আরও কেউ জড়িত কি না, খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Delhi Police Delhi Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy