E-Paper

চিন-নির্ভরতা কাটাতে নয়া প্রকল্পের সিদ্ধান্ত

মোদী সরকার ইতিমধ্যেই ২৪টি খনিজকে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি খনিজ বলে চিহ্নিত করেছে। অন্য ২৯টি খনিজকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বলে চিহ্নিত করেছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ০৯:২৮
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। —ফাইল চিত্র।

চিন জরুরি খনিজ, বিরল ধাতু রফতানিতে লাগাম টানলেই দেশে ইলেকট্রিক গাড়ি থেকে মোবাইল উৎপাদনে ধাক্কা লাগছে। কারণ ভারতের প্রয়োজনের যাবতীয় জরুরি খনিজ আসে চিন থেকে। চিনের উপরে এই নির্ভরতা কমাতে মোদী সরকার এপ্রিলে প্রায় ৩৪ হাজার কোটি টাকার ‘জাতীয় জরুরি খনিজ মিশন’ চালু করেছিল। যার লক্ষ্য দেশে জরুরি খনিজের উৎপাদন বাড়ানো। এ বার সেই মিশনের অঙ্গ হিসেবে ফেলে দেওয়া বৈদ্যুতিন পণ্য, পুরনো লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি বা পুরনো গাড়ি থেকে জরুরি খনিজ বা বিরল ধাতু পুনরুদ্ধার বা ‘রিসাইক্লিং’-এ উৎসাহ দিতে মোদী সরকার নতুন প্রকল্প চালুর সিদ্ধান্ত নিল। আজ কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা এ জন্য ১,৫০০ কোটি টাকার উৎসাহ ভাতা প্রকল্পে সিলমোহর দিয়েছে।

মোদী সরকার ইতিমধ্যেই ২৪টি খনিজকে দেশের অর্থনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার জন্য জরুরি খনিজ বলে চিহ্নিত করেছে। অন্য ২৯টি খনিজকে গুরুত্বপূর্ণ খনিজ বলে চিহ্নিত করেছে। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, লিথিয়াম, সিলিকন, টাইটেনিয়াম, গ্রাফাইট, বিসমাথ ও টেলারিয়ামের মতো ছ’টি সবচেয়ে জরুরি খনিজের জন্য ভারত প্রবল ভাবে চিনের উপরে নির্ভরশীল। অথচ ইলেকট্রিক গাড়ি বা ইভি থেকে সেমিকনডাক্টর, সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল, ওষুধ, রাসায়নিক, এরোস্পেস, প্রতিরক্ষা, থার্মোইলেকট্রিক যন্ত্র উৎপাদনের জন্য এই সব খনিজের প্রয়োজন।

কেন্দ্রের বক্তব্য, জাতীয় মিশনের মাধ্যমে জরুরি খনিজ, বিরল ধাতুর জন্য চিনের উপর ধীরে ধীরে নির্ভরতা কাটিয়ে ফেলার লক্ষ্য নেওয়া হচ্ছে। কিন্তু আপাতত এই সব জরুরি খনিজের জোগান অব্যাহত রাখার পন্থা হল ‘রিসাইক্লিং’ করা। আগামী সাত বছর এই ধরনের কাজে উৎসাহ দেওয়া হবে। আবর্জনার ঝুড়িতে চলে যাওয়া বৈদ্যুতিন পণ্য, ফেলে দেওয়া লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি, আয়ু ফুরিয়ে যাওয়া গাড়ির ক্যাটালিটিক কনভার্টর থেকে ‘রিসাইক্লিং’-এর মাধ্যমে জরুরি খনিজ তৈরির জন্য আগামী সাত বছর উৎসাহ দেওয়া হবে।

ইতিমধ্যেই যে সব সংস্থা এ ক্ষেত্রে কাজ করছে, তাদের সঙ্গে নতুন সংস্থা বা স্টার্ট-আপগুলিও এ ক্ষেত্রে উৎসাহ পাবে। কারখানা, যন্ত্রপাতির খরচে ২০ শতাংশ ভর্তুকি দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার বিবৃতি অনুযায়ী, এই প্রকল্পে বছরে ২৭০ কিলো টন রিসাইক্লিংয়ের ক্ষমতা তৈরি হবে। যার ফলে বছরে ৪০ কিলো টন জরুরি খনিজ তৈরি হবে। আসবে প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকার লগ্নি। প্রায় ৭০ হাজার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ কর্মসংস্থান তৈরি হবে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

PM Narendra Modi India-China India-China Meet

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy