আশঙ্কা রয়েছে ফের সংগঠিত হওয়ার। তাই এক বার মাওবাদী মুক্ত এলাকায় নতুন ভাবে যাতে মাওবাদীরা নিজেদের সংগঠিত করতে না পারেন সে জন্য সেগুলি থেকে এখনই আধাসেনা কমানোর কথা ভাবছে না কেন্দ্র।মাওবাদী দমনে লক্ষ্যমাত্রা নেওয়া হয়েছে আগামী ৩১ মার্চ। হাতে রয়েছে ঠিক এক মাস। আর এই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ব্যাখ্যা, দেশের কেবল তিনটি জেলাতেই মাওবাদীদের উপস্থিতি রয়ে গিয়েছে। দাবি, দ্রুতওই জেলাগুলিকেও মাওবাদী মুক্ত করা হবে।
স্বরাষ্ট্র সূত্রের বক্তব্য, বর্তমানে মাওবাদীদের অস্তিত্ব ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতর হয়ে এসেছে। অল্পসংখ্যক মাওবাদী এখনও সক্রিয় রয়েছেন। যাঁদের অধিকাংশ নিরাপত্তাবাহিনীর মুখোমুখি হওয়ার পরিবর্তে আত্মসমর্পণে আগ্রহী। কিন্তু উপদ্রুত এলাকাগুলিতে যাতে নতুন করে মাওবাদীরা জোট না বাঁধতে পারেন, সে জন্য প্রস্তুতি শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক। স্বরাষ্ট্র সূত্রের মতে, যে এলাকাগুলিতে মাওবাদীদের শক্ত ঘাঁটি ছিল যেমন বালাঘাট, বস্তার গঢ়চিরৌলি, দন্তেওয়াড়া, কারেগুট্টার মতো এলাকাগুলিতে শান্তিবজায় থাকলেও তাই আগামী দিনেও বাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞদের মতে, সশস্ত্র মাওবাদীদের মোকাবিলা করা সহজ। কিন্তু আদর্শকে মারা সহজ নয়। যে কারণে কোনও এলাকা মাওবাদী মুক্ত হলেও, ভবিষ্যতে কোনও স্ফূলিঙ্গ থেকে বড় মাপের সমস্যা তৈরি হওয়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। তাই সূত্রের মতে, কোনও এলাকা মাওবাদী মুক্ত করেই বাহিনী
সেখান থেকে চলে যাবে এমন নয়। এলাকাগুলিতে যাতে উন্নয়নের কাজ বাধাপ্রাপ্ত না হয় তা নিশ্চিত করতে বাহিনী থাকবে।
পাশাপাশি মাওবাদীরা আত্মসমর্পণ করলেও, স্থানীয় গ্রামগুলিতে এখনও প্রচুর অস্ত্র রয়ে গিয়েছে। সব অস্ত্র নিরাপত্তাবাহিনী উদ্ধার করতে পারেনি। ওই অস্ত্র হাতিয়ার করে নতুন কোনও অপরাধী গোষ্ঠীর মাথাচাড়া দেওয়া রুখতেও নিরাপত্তাবাহিনী মোতায়েন রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)