E-Paper

শুল্ক কমানোর আশ্বাস মেলেনি, বাজারের সন্ধানে মোদী সরকার

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক ও জরিমানা চাপানোরফলে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাও ধাক্কা খেয়েছিল।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ ১০:০০
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কা থেকে বাঁচতে জিএসটি-র হার কমানো হয়নি বলে মোদী সরকার মুখে দাবি করছে। কিন্তু মোদী সরকারের অন্দরমহল আশা করছে, জিএসটি কমার ফলেবাজারে যে কেনাকাটা বাড়ছে,তাতে ট্রাম্পের শুল্কের ফলেক্ষতি অনেকটাই পূরণ হবে। পাশাপাশি রফতানি বাড়ানোর জন্য অন্য দেশের বাজারের দরজা খোলারও চেষ্টা চলছে। আজ কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়াল দাবি করেছেন, চলতি অর্থ বছরের শেষে রফতানিরপরিমাণ আগের বছরের তুলনায় বাড়বে, কমবে না।

আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের পণ্যে ৫০ শতাংশ শুল্ক ও জরিমানা চাপানোরফলে দু’দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাও ধাক্কা খেয়েছিল। তার পরে আবার আলোচনা শুরু হয়েছে। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রকের একটি প্রতিনিধি দল এখন ওয়াশিংটন ডিসিতে বসে ট্রাম্প প্রশাসনের কর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করছেন। বাণিজ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশেই আলোচনা চলছে। একই সঙ্গে তাঁর দাবি, ‘‘যতক্ষণ না দেশের কৃষক, মৎস্যজীবী, পশুপালক, ছোট-মাঝারি শিল্পের স্বার্থ রক্ষা সুনিশ্চিত হবে, ততক্ষণ সমঝোতা হবে না।’’

প্রাথমিক ভাবে মোদী সরকার চাইছে, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য চুক্তিতে ট্রাম্প প্রশাসন রাশিয়া থেকে তেল কেনার জন্য যে ২৫% জরিমানা চাপিয়েছে, তা প্রত্যাহার করুক। ভারতীয় পণ্যে যে ২৫ শতাংশের চড়া শুল্ক চাপানো হয়েছে, তা ১৫ শতাংশের নীচে কমানো হোক। যাতে বাংলাদেশ, ইন্দোনেশিয়ারমতো প্রতিযোগী দেশের তুলনায় ভারতের পণ্যে শুল্ক কম থাকে। এখনও অবশ্য ট্রাম্প প্রশাসনের তরফে তেমন আশ্বাস মেলেনি।

ট্রাম্পের শুল্কের ফলে রফতানিকারীদের উদ্বেগের মুখে মোদী সরকার পরামর্শ দিয়েছে, কম দামে নিজেদের ক্ষতি করে রফতানি করার প্রয়োজন নেই। অন্য দেশের বাজার খুঁজতে হবে। কিছুটা ক্ষতি জিএসটি কমার ফলে যে বিক্রি বাড়ছে, তাতে পূরণ হবে। অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামন অবশ্য দাবি করেছেন, ‘‘শুল্কের ধাক্কা প্রশমিত করার জন্য জিএসটি কমানো হয়নি। এক বছর আগে থেকেই এর প্রস্তুতি চলছিল।’’

অন্য দেশের বাজার খুঁজতে বাণিজ্যমন্ত্রী গয়াল দীপাবলির পরেই ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন। তার পরে তিনি নিউজ়িল্যান্ড যাবেন। সূত্রের বক্তব্য, মাছের রফতানি বাড়াতে রাশিয়ার সঙ্গে কথাবার্তা চলছে। ইউরোপের পরে রাশিয়াও ভারতের উপর থেকে মাছ কেনায় বিধিনিষেধ শিথিল করতে পারে।

বাণিজ্য মন্ত্রকের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ট্রাম্পের শুল্কের ধাক্কায় সেপ্টেম্বরে আমেরিকায় পণ্য রফতানি ১১.৯৩ শতাংশ কমেছে। আমেরিকা থেকে আমদানি প্রায় একই পরিমাণ বেড়েছে। বাণিজ্যমন্ত্রী অবশ্য যুক্তি দিয়েছেন, সামগ্রিক ভাবে গোটাদেশ থেকে রফতানি অর্থ বছরের প্রথম ছয় মাসে বেড়েছে। বছরেরশেষেও বাড়বে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

US Tariff

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy