E-Paper

বন্দেমাতরমে সুর বিভ্রাট, বিস্ময় সংসদে

কমনওয়েলথ গোষ্ঠীভুক্ত স্পিকার সম্মেলনের শেষ হওয়ার কথা ছিল জাতীয় গান বন্দেমাতরম দিয়ে। সেই মতো বন্দেমাতরমের সুর বেজে উঠতেই উপস্থিত সাংবাদিক, নিরাপত্তারক্ষীরা একে-অপরের মুখের দিকে তাকাতে শুরু করেন।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৯
বন্দেমাতরম গানকে কেন্দ্র করে সুরবিভ্রাটের সাক্ষী থাকল সংসদের সেন্ট্রাল হল।

বন্দেমাতরম গানকে কেন্দ্র করে সুরবিভ্রাটের সাক্ষী থাকল সংসদের সেন্ট্রাল হল। —ফাইল চিত্র।

ফের বিতর্কে বন্দেমাতরম। ‘বঙ্কিমদা’-র পরে আজ ওই জাতীয় গানকে কেন্দ্র করে সুরবিভ্রাটের সাক্ষী থাকল সংসদের সেন্ট্রাল হল।

কমনওয়েলথ গোষ্ঠীভুক্ত স্পিকার সম্মেলনের শেষ হওয়ার কথা ছিল জাতীয় গান বন্দেমাতরম দিয়ে। সেই মতো বন্দেমাতরমের সুর বেজে উঠতেই উপস্থিত সাংবাদিক, নিরাপত্তারক্ষীরা একে-অপরের মুখের দিকে তাকাতে শুরু করেন। খানিক পরে বোঝা যায়, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুর করে দেওয়া বন্দেমাতরম নয়, ১৯৫২ সালে আনন্দমঠ সিনেমায় হেমন্ত মুখোপাধ্যায় ওই গানটির যে সুর করেছিলেন, সেই সুর বাজানো হচ্ছে আজ। সংসদের প্রতিটি অধিবেশনের শেষ দিনে নিয়ম করে জাতীয় গান হিসেবে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুর করে দেওয়া বন্দেমাতরম বাজানো হয়ে থাকে। কিন্তু আজ কেন রবীন্দ্রনাথের পরিবর্তে হেমন্তের সুর দেওয়া সিনেমার গানকে বেছে নেওয়া হল তা নিয়ে নীরব শাসক শিবির। ভেবেচিন্তে সিদ্ধান্ত নিয়ে ওই সুর বাজানো হয়েছে না কি অনিচ্ছকৃত ভুল-তা নিয়ে মুখ খুলতে চাননি কেউই।

গত মাসে শেষ হওয়া শীতকালীন অধিবেশনে বন্দেমাতরম বিতর্কে গানটির রচয়িতা হিসেবে বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়কে ‘বঙ্কিমদা’ বলে সম্বোধন করায় তৃণমূলের আক্রমণের মুখে পড়েছিলেন খোদ প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। নিজেকে শুধরে নিয়ে পরে ‘বঙ্কিমবাবু’ বলে বিষয়টি সামলে নেওয়ার চেষ্টা প্রধানমন্ত্রী করলেও, এ নিয়ে প্রবল অস্বস্তিতে পড়ে রাজ্য বিজেপি। ওই ঘটনার রেশ ভাল করে মেটার আগেই এ বার সংসদের সেন্ট্রাল হলে বন্দেমাতরম নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হল।

প্রজাতন্ত্র দিবসের কুচকাওয়াজেও বন্দেমাতরমকে অন্যতম মূল থিম হিসেবে তুলে ধরা হবে বলে জানিয়েছে প্রতিরক্ষা মন্ত্রক। কর্তব্য পথে দর্শকের আসনের পিছনে থাকবে বন্দেমাতরমের প্রথম স্তবকগুলির ভাবনা শিল্পী তেজেন্দ্রকুমার মিত্রের যে ছবিগুলিতে মূর্ত হয়েউঠেছিল সেই ছবিগুলির প্রতিলিপি। মূল মঞ্চে শিল্পকর্মের মাধ্যমে সম্মান জানানো হবে বঙ্কিমচন্দ্রকে। দর্শকের আসনগুলিতে ‘ভিভিআইপি’-র মতো লেবেল থাকবে না। সেগুলির নাম দেওয়া হবে ভারতের নদীগুলির নামে।

আজ দু’দিনের অধিবেশন শেষে বক্তব্য রাখতে গিয়ে লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রে মতৈক্যের পাশাপাশি মতানৈক্যের দরকার হয়েছে। কিন্তু তা নির্দিষ্ট গন্ডির মধ্যে যাতে সীমাবদ্ধ থাকে সে জন্য সদস্যদের নিজেদের দায়িত্ব মনে করিয়ে দেন তিনি। জনতার সরাসরি অংশগ্রহণ গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করে বলে মনে করেন বিড়লা। তাঁর মতে, ‘‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলি তখনই শক্তিশালী ও প্রাসঙ্গিক থাকতে পারে যখন তারা স্বচ্ছ, সংবেদনশীল, দায়বদ্ধ হয় ও সকলকে নিয়ে চলার ক্ষমতা রাখে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

parliament Vande Mataram

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy