জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি মামলায় অন্যতম অভিযুক্ত লালুপ্রসাদের আবেদন খারিজ করে দিল দিল্লি হাইকোর্ট। আরজেডি প্রধান তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী এই মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে সিবিআই-এর দায়ের করা এফআইআর বাতিল করার আবেদন জানিয়েছিলেন দিল্লি হাইকোর্টে। কিন্তু সোমবার বিচারপতি রবীন্দ্র দুদেজা তা নাকচ করে দিয়েছেন।
প্রাক্তন কেন্দ্রীয় রেলমন্ত্রী লালুপ্রসাদ, তাঁর স্ত্রী তথা বিহারের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী রাবড়ি দেবী দুই পুত্র তেজস্বী (বিহারের প্রাক্তন উপমুখ্যমন্ত্রী), তেজপ্রতাপ (বিহারের প্রাক্তন মন্ত্রী) এবং কন্যা মিসা ভারতী (লোকসভার সাংসদ)-সহ ৪৬ জনের বিরুদ্ধে গত ৯ জানুয়ারি জমির বিনিময়ে রেলে চাকরি মামলায় চার্জ গঠন করা হয়েছিল দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালতে। এর পরে ২০২২, ২০২৩ এবং ২০২৪ সালে সিবিআই-এর দায়ের করা এ সংক্রান্ত তিনটি এফআইআর খারিজের দাবিতে লালু হাইকোর্টে আবেদন জানিয়েছিলেন।
আরও পড়ুন:
লালুর আইনজীবী শুনানিতে বলেন, ‘‘সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়া এবং পরবর্তী চার্জশিটগুলি আইনগত ভাবে বৈধ নয়। কারণ দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ধারা ১৭এ অনুযায়ী সিবিআই-এর তরফে আগাম অনুমতি নেওয়া হয়নি।’’ কিন্তু বিচারপতি রবীন্দ্র তাঁর রায়ে বলেছেন, ‘‘যে সাফাই দিয়ে সিবিআই-এর এফআইআর খারিজের আর্জি জানানো হয়েছে, তা ভিত্তিহীন।’’ প্রসঙ্গত, ২০০৪ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত কেন্দ্রে ইউপিএ সরকারের রেলমন্ত্রী ছিলেন লালু। অভিযোগ, সেই সময় জমির বিনিময়ে চাকরি দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন তিনি। অভিযোগ, মধ্যপ্রদেশের জবলপুরে অবস্থিত ভারতীয় রেলের ওয়েস্ট-সেন্ট্রাল জ়োনে ‘গ্রুপ ডি’ পদে নিয়োগের বিনিময়ে চাকরিপ্রার্থীদের জমি লালুর পরিবার বা তাঁর ঘনিষ্ঠদের নামে করিয়ে নেওয়া হয়েছিল।
অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই। পরে ইডি-ও বেআইনি লেনদেনের অভিযোগ এনে এফআইআর দায়ের করে ওই মামলার তদন্ত শুরু করে। গত বছরের মার্চ মাসে এই মামলার তদন্তের স্বার্থে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য লালুকে ডেকে পাঠিয়েছিল ইডি। শুধু তাঁকে নয়, লালুর স্ত্রী-পুত্রদেরও তলব করা হয়েছিল। সেই তলবে সাড়া দিয়ে হাজিরাও দিয়েছিলেন লালু এবং তাঁর পরিবারের সদস্যেরা। সিবিআই আগেই এই মামলায় বেশ কয়েকটি চার্জশিট জমা করেছে। সেই সব চার্জশিটে দাবি করা হয়েছে, কী ভাবে রেলে চাকরি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে জমির দাবি করা হয়েছিল। শুধু তা-ই নয়, দুর্নীতির শিকড় কী ভাবে গজিয়েছিল, কী ভাবে তার বিস্তার হয়েছিল— তা-ও চার্জশিটে উল্লেখ করেছে সিবিআই। এই মামলার মোট ৯৮ জন জীবিত অভিযুক্তের মধ্যে ৪৬ জনের বিরুদ্ধে চার্জ গঠনের অনুমতি দিয়েছে দিল্লির বিশেষ সিবিআই আদালত। প্রসঙ্গত, ‘জমির বিনিময়ে চাকরি’র মামলায় বেআইনি আর্থিক লেনদেন প্রতিরোধ আইনে ইডি ২০২৪ সালের ৮ জানুয়ারি লালুর পরিবারের একাধিক সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছিল। গত নভেম্বরে বিহারে বিধানসভা ভোটে ধরাশায়ী হয়েছে লালুর আরজেডি। সোমবার দিল্লি হাই কোর্টের রায় বিহারের প্রাক্তন শাসক পরিবারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দিল বলে মনে করা হচ্ছে।