লোকসভার সাংসদ হিসাবে শপথ নেওয়ার জন্য ২০২৪ সালের জুলাই মাসে জাতীয় তদন্তকারী সংস্থা (এনআইএ)-র বিশেষ অনুমতি পেয়েছিলেন তিনি। এর আগে জম্মু ও কাশ্মীরের বিধানসভা ভোটপর্ব শুরুর ঠিক আগে দিল্লি হাই কোর্ট তাঁর অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করেছিল। এ বার বারামুলার নির্দল সাংসদ তথা ‘আওয়ামি ইত্তেহাদ পার্টি’র প্রতিষ্ঠাতা-প্রধান আব্দুল রশিদ শেখ ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রশিদের পাঁচ দিনের অন্তর্বর্তী জামিনের আবেদন মঞ্জুর করল দিল্লি হাই কোর্ট।
পিতার মৃত্যু-পরবর্তী ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার জন্য আগামী ২৫-৩০ জুন সাংসদ রশিদের অন্তর্বর্তিকালীন জামিন মঞ্জুর করেছে দিল্লি হাই কোর্টের বিচারপতি প্রতিভা এম সিংহ এবং বিচারপতি মধু জৈনের বেঞ্চ। পিতার মৃত্যুর কারণে চলতি মাসের ১৮ তারিখ অন্তর্বর্তী জামিনে মুক্তি পেয়েছিলেন সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে আর্থিক সাহায্যের মামলায় অভিযুক্ত রশিদ। ২ জুন সেই অন্তর্বর্তী জামিনের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। দুই বিচারপতির বেঞ্চ মঙ্গলবার জানিয়েছে, ওই দিন আন্তসমর্পণ করতে হবে বারামুলার সাংসদকে।
আরও পড়ুন:
রশিদের আইনজীবী দিল্লি হাই কোর্টে অন্তর্বর্তিকালীন জামিনের মেয়াদ বাড়ানোর আবেদন জানিয়ে বলেছিলেন, ‘‘যাতে তিনি শ্রীনগরে তাঁর পিতার শেষকৃত্যের ৪০তম দিনে অনুষ্ঠিত ধর্মীয় কাজে অংশ নিতে পারেন, সে জন্যই এই আর্জি।’’ জবাবে দুই বিচারপতির বেঞ্চ বলেছে, ‘‘২ জুন অন্তর্বর্তিকালীন জামিনের (যা ১৮ মে মঞ্জুর করা হয়েছিল) মেয়াদ শেষ হলে আবেদনকারী (রশিদ) আত্মসমর্পণ করবেন। তবে ২৫ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত সময়ের জন্য আবার অন্তর্বর্তিকালীন জামিন মঞ্জুর করা হচ্ছে, যাতে আবেদনকারী ৪০তম দিনের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন।” আদালত আরও জানিয়েছে যে, ২৫-৩০ জুনের অন্তর্বর্তিকালীন জামিনের ক্ষেত্রেও রশিদের বর্তমান মুক্তির সময়কার শর্তই প্রযোজ্য থাকবে।
১৮ মে বেঞ্চ রশিদের অন্তর্বর্তিকালীন জামিন মঞ্জুর করার সময় আদালত বেশ কিছু শর্ত আরোপ করেছিল। এর মধ্যে ছিল, তিনি সর্বদা সাধারণ পোশাকে থাকা অন্তত দু’জন পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে থাকবেন, যাঁরা তিহার জেল থেকে যাত্রা শুরুর সময় থেকে শ্রীনগর থেকে ফেরত আসা পর্যন্ত তাঁর সঙ্গে থাকবেন। তাঁকে কবরখানা বা কোনও উপাসনাস্থলে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হবে, তবে নিজের বাসস্থান ছাড়া অন্য কোথাও যাওয়ার অনুমতি থাকবে না বলেও শর্ত দিয়েছিল আদালত। প্রসঙ্গত, ২০১৯ সাল থেকে রশিদ এনআইএ-র মামলায় দিল্লির তিহাড় জেলে বন্দি। ২০২২-এর মার্চ মাসে বিশেষ এনআইএ আদালত রশিদ ও সহ-অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ভারতীয় দণ্ডবিধির ১২০বি (অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র), ১২১ (সরকারের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা), এবং ১২৪এ (রাষ্ট্রদ্রোহ) ধারায় এবং গুরুতর বেআইনি কার্যকলাপ (প্রতিরোধ) আইনের বিভিন্ন ধারায় চার্জ গঠন করে।