Advertisement
E-Paper

২০২৪-’২৫ সালে আরও ৭০ জন মাল্য-চোকসীর সন্ধান মিলেছে বিদেশে! পলাতকদের রিপোর্ট প্রকাশ করেছে কেন্দ্র

রিপোর্ট বলছে, এনসিবি যে সব ইন্টারপোল নোটিস জারি করেছে, তার মধ্যে ১২৬টি রেড নোটিস, ৮৯টি ব্লু নোটিস এবং ২৪টি ইয়েলো নোটিস, সাতটি ব্ল্যাক নোটিস এবং একটি গ্রিন নোটিস রয়েছে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৪ জানুয়ারি ২০২৬ ১৮:২৮
Government report says over 70 fugitives wanted by India located abroad during 2024-25

(বাঁ দিকে) বিজয় মাল্য, মেহুল চোকসী (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

ভারত থেকে পালিয়ে গিয়েছেন এমন অন্তত ৭০ জনের ২০২৪-২৫ সালে হদিস মিলেছে বিদেশে। এমনটাই বলছে কর্মিবর্গ, পাবলিক গ্রিভ্যান্স এবং পেনশন মন্ত্রকের রিপোর্ট। রিপোর্টে বলা হয়েছে, ওই একই সময়ে অন্য দেশ থেকে পলাতক এমন ২০৩ জনের হদিস মিলেছে ভারতে। ঋণখেলাপি বিজয় মাল্য, মেহুল চোকসী, নীরব মোদী বহু বছর ধরে পলাতক। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ওই নির্দিষ্ট বছরে আরও অন্তত ৭০ জন মাল্যদের খোঁজ মিলেছে।

মন্ত্রকের রিপোর্ট বলছে, ভারতে যাঁর খোঁজ চলছে বা দেশ থেকে ফেরার এমন ৭১ জন বিদেশে রয়েছেন বলে ২০২৪-২৫ সালে দেখা গিয়েছে। এক আধিকারিক জানিয়েছেন, গত ১০ বছরে এই সংখ্যাটা সর্বাধিক। ২০২৪-২৫ সালেই বিদেশ থেকে ২৭ জনকে ভারতে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যাঁরা দেশ থেকে ফেরার ছিলেন। কেন্দ্রীয় মন্ত্রকের ওই রিপোর্টে সিবিআইয়ের কাজকর্ম নিয়েও বিশদ বলা রয়েছে।

কেন্দ্রীয় রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত এ দেশের তরফে ৭৪টি লেটার্স রোগেটরি পাঠানো হয়েছে। ‘লেটার্স রোগেটরি’ হল সেই চিঠি যা এক দেশের আদালতের তরফে অন্য দেশের আদালতে কোনও অনুসন্ধানের ক্ষেত্রে আইনি সহায়তা চেয়ে পাঠানো হয়। ওই ৭৪টি চিঠির মধ্যে ৫৪টি হল সিবিআইয়ের কোনও মামলা নিয়ে। বাকি ২০টি কোনও না কোনও রাজ্যের আইন সংস্থা বা কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার অনুসন্ধানের সূত্রে পাঠানো হয়েছে।

সিবিআই-সহ কেন্দ্রীয় আইন কার্যকর সংস্থাগুলির রিপোর্ট বলছে, যে ৭৪টি ‘লেটার্স রোগেটরি’ বিদেশে পাঠানো হয়েছিল, তার মধ্যে ৪৭টি পুরোপুরি কার্যকর করা হয়েছে ওই নির্দিষ্ট সময়ে। ২৯টি চিঠির ক্ষেত্রে মামলাটি বন্ধ বা প্রত্যাহার করা হয়েছে। ২০২৫ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত ৫৩৩টি ‘লেটার্স রোগেটরি’ বিদেশে পাঠানো হলেও তার সুরাহা হয়নি (পেন্ডিং)। তার মধ্যে ২৭৬টি সিবিআইয়ের মামলা সংক্রান্ত। ২৫৭টি রাজ্য পুলিশ বা অন্য কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থার করা মামলা সংক্রান্ত।

একই ভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবর্ষের মধ্যে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ৩২টি ‘লেটার্স রোগেটরি’ পেয়েছে ভারত। ওই বছরেই এনসিবি (ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো) পলাতকদের দেশে ফেরাতে বেশ কয়েকটি ইন্টারপোল নোটিস জারি করেছে। হয় ওই অভিযুক্তদের বিচার চালাতে, নয়তো তাঁদের সাজা খাটানোর জন্য দেশে ফেরাতে চেয়েছে এনসিবি। এ দেশের ইন্টারপোলের সঙ্গে সংযোগকারী (নোডাল) সংস্থা হিসাবে কাজ করে এনসিবি-ই। ফলে এনসিবি-র নামে নথিভুক্ত আবেদনের অধিকাংশই সিবিআইয়েরই।

রিপোর্ট বলছে, এনসিবি যে সব ইন্টারপোল নোটিস জারি করেছে, তার মধ্যে ১২৬টি রেড নোটিস, ৮৯টি ব্লু নোটিস এবং ২৪টি ইয়েলো নোটিস, সাতটি ব্ল্যাক নোটিস, একটি গ্রিন নোটিস রয়েছে। কোনও ব্যক্তিকে গ্রেফতার করে দেশে পাঠানোর অনুরোধ জানাতে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের আইন সংস্থাকে রেড নোটিস পাঠানো হয়। কোনও ব্যক্তির পরিচয়, অবস্থান, কার্যকলাপ জানাতে বলে বিভিন্ন দেশের আইন সংস্থাকে ব্লু নোটিস পাঠানো হয়। ইয়েলো নোটিস পাঠিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের পুলিশকে সতর্ক করা হয়। কোনও দেহ শনাক্ত করার জন্য ব্ল্যাক নোটিস পাঠানো হয় বিদেশে। জনসুরক্ষার ক্ষেত্রে কেউ বিপজ্জনক হলে সেই নিয়ে সতর্ক করে সদস্য-দেশগুলিকে সতর্ক করে ইন্টারপোল।

ইন্টারপোল চ্যানেলের মাধ্যমে বিদেশি আইন রক্ষাকারী সংস্থাগুলির সহায়তায় বিদেশে পলাতক বা ‘ওয়ান্টেড অপরাধী’-দের চিহ্নিত করে সিবিআই। নিজেদের গ্লোবাল অপারেশন সেন্টার (জিওসি)-র মাধ্যমে এই কাজ করে কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা। যাঁকে খুঁজছে, তাঁর সন্ধান পেলে সিবিআই সংশ্লিষ্ট দেশের আইন রক্ষাকারী সংস্থা, সেখানকার ইন্টারপোল ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরোর সঙ্গে যোগাযোগ করে। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক এবং বিদেশ মন্ত্রকের সঙ্গেও যোগাযোগ করে ওই পলাতক বা ‘অপরাধীকে’ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য।

রিপোর্ট বলছে, ২০২৪ সালের এপ্রিল থেকে ২০২৫ সালের মার্চ পর্যন্ত ২২,২০০ জন এ দেশের নাগরিকত্ব ছাড়তে চেয়ে আবেদন করেছেন। সেগুলি খতিয়ে দেখেছে সিবিআই। সেই তথ্যও আপলোড করা হয়েছে।

Central Government NCB Interpol
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy