দলের সঙ্গে কিছু ‘সমস্যা’ রয়েছে। তবে তিনি কখনওই সংসদে দলের শৃঙ্খলাভঙ্গ করেননি! কংগ্রেস হাইকমান্ডের সঙ্গে বৈঠকে গরহাজিরার পর তৈরি হওয়া জল্পনার মধ্যে মুখ খুললেন দলের সাংসদ শশী তারুর। তিনি এ-ও জানান, ভারতের অপারেশন সিঁদুর নিয়ে কংগ্রেসের সঙ্গে তাঁর নীতিগত মতবিরোধ রয়েছে, তা বার বার প্রকাশ্যে জানিয়েছেন।
সংবাদসংস্থা পিটিআই শশীকে উদ্ধৃত করে বলে, ‘‘আমি কোনও পর্যায়ে সংসদে কংগ্রেসের কোনও শৃঙ্খলা লঙ্ঘন করিনি। সিঁদুর অভিযান নিয়ে দলের সঙ্গে আমার নীতিগত যে ফারাক ছিল, তা আমি প্রকাশ্যেই বলেছি। তার জন্য আমার অনুশোচনা নেই।’’
কংগ্রেস এক পথে, শশী অন্য পথে! সাম্প্রতিক সময়ে নানা ঘটনায় কংগ্রেসের সঙ্গে শশীর ‘দূরত্ব’ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছিল। অনেকে এ-ও বলতে শুরু করেন, কংগ্রেসের ‘হাত’ ছাড়তে চলেছেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ। সেই জল্পনার মধ্যেই অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি। তাঁর মতে দলীয় এই সব বিষয় প্রকাশ্যে আলোচনা করা ঠিক নয়। তাঁর যা বলার নির্দিষ্ট সময়ে দলকে জানাবেন।
সামনেই কেরলে বিধানসভা নির্বাচন। সেই নির্বাচনের ‘রণকৌশল’ ঠিক করতে শুক্রবার দিল্লিতে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গে এবং লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীর সঙ্গে বৈঠকে বসেন কেরল কংগ্রেসের শীর্ষনেতৃত্ব। সেই বৈঠকে হাজির ছিলেন না তারুর। গত সপ্তাহে রাহুলের কেরল সফরের সময়ের কিছু ঘটনায় তিরুঅনন্তপুরমের চার বারের সাংসদ ‘অসন্তুষ্ট’ ছিলেন বলে খবর ছড়ায়। প্রকাশ্যে এ নিয়ে কেউই কোনও মন্তব্য করেননি। তবে ঘনিষ্ঠ মহলে নিজের অসন্তোষ গোপনও রাখেননি তারুর। অনেকের মতে, সেই কারণে তিনি রাহুল-খড়্গের বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন না তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ।
আরও পড়ুন:
এ বিষয়ে তারুর জানান, তিনি ওই বৈঠকে থাকতে পারবেন না, তা আগেই জানিয়েছিলেন দলীয় নেতৃত্বকে। তাঁর মতে, ‘‘আমি ১৭ বছর ধরে কংগ্রেসের সঙ্গে রয়েছি। আমার মনে হয় যা কিছু ভুল হয়েছে, তার সমাধান করা দরকার। সেই সব বিষয় উপযুক্ত জায়গায় তুলে ধরব।’’
অতীতেও তারুরের বিভিন্ন মন্তব্যে অস্বস্তিতে পড়তে হয়েছে কংগ্রেসকে। তাতে দলীয় নেতাদের একাংশের সঙ্গে তারুরের সম্পর্কে তিক্ততা এলেও দলের সঙ্গে সম্পর্ক ছেদ করেননি কংগ্রেস সাংসদ। তবে তারুরের সঙ্গে ‘সংঘাত’ নতুন করে উস্কে দেয় গত সপ্তাহে কোচির সভা। গত সপ্তাহে কোচিতে রাহুলের সভা ছিল। সেখানে বক্তৃতা করেন তারুরও। জানা যাচ্ছে, ওই সভায় তারুরকে বলা হয়েছিল, তাঁর বক্তৃতার পরেই রাহুলের বক্তৃতা শুরু হবে। কিন্তু বাস্তবে দেখা যায়, তারুর এবং রাহুলের মাঝে আরও বেশ কয়েক জন নেতা বক্তৃতা করেন। কেন এমনটা হয়েছে, তা নিয়েও তারুর অসন্তুষ্ট বলে সূত্রের দাবি। তার পরেই তাঁর কংগ্রেস বৈঠকে গরহাজিরা। সব মিলিয়ে তারুর এবং কংগ্রেস নেতৃত্বের দূরত্ব নিয়ে ‘সমস্যার’ কথা তুলে ধরলেন তিরুঅনন্তপুরমের সাংসদ।