Advertisement
E-Paper

মেকানিক থেকে টোটোচালক, কী ভাবে পাকিস্তানের চরবৃত্তিতে জড়ালেন উত্তরপ্রদেশের মীরা

পরিবার সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, মীরার নজর ছিল কী ভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বেশি টাকা উপার্জন করা হয়। অভিযোগ, সেই চাহিদাই তাঁকে অপরাধের রাস্তায় ঠেলে দেয়। পাচারের কাজে জড়িয়ে পড়েন মীরা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৫ মার্চ ২০২৬ ১২:১৩
পাক চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার মথুরার মীরা। ছবি: সংগৃহীত।

পাক চরবৃত্তির অভিযোগে গ্রেফতার মথুরার মীরা। ছবি: সংগৃহীত।

পাকিস্তানের হয় চরবৃত্তির অভিযোগে দু’দিন আগেই তাঁকে গ্রেফতার করা হয়েছে। উত্তরপ্রদেশের মথুরার সেই মহিলা মীরা ঠাকুর এখন আলোচনার কেন্দ্রে। পুলিশ সূত্রে খবর, তাঁর মোবাইল থেকে বেশ কয়েকটি সংবেদনশীল এলাকার ছবি উদ্ধার হয়েছে। এ ছাড়াও পাক হ্যান্ডলারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল বলেও সন্দেহ করা হচ্ছে। ওই ছবিগুলি সেই হ্যান্ডলারকে মীরা পাঠাতেন বলে দাবি তদন্তকারীদের।

মীরার ভাই নরোত্তম জানিয়েছেন, তাঁরা ভেবেছিলেন স্বামীর সঙ্গে কোনও ঝামেলার জেরে পুলিশ মীরাকে গ্রেফতার করেছে। কিন্তু পরে সংবাদমাধ্যম এবং স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে জানতে পারেন কোনও অপরাধমূলক কাজের সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন মীরা। পরিবার সূত্রে খবর, ২০১২ সালে মীরার বিয়ে হয় আগরার মুকেশ নামে এক যুবকের সঙ্গে। বিয়ের পর মীরা মথুরায় থাকা শুরু করেন মুকেশ। সেখানে মেকানিকের কাজ করতেন তিনি।

পরিবার সূত্রে আরও জানানো হয়েছে, মীরার নজর ছিল কী ভাবে অল্প সময়ের মধ্যে বেশি টাকা উপার্জন করা হয়। অভিযোগ, সেই চাহিদাই তাঁকে অপরাধের রাস্তায় ঠেলে দেয়। পাচারের কাজে জড়িয়ে পড়েন মীরা। সেই কাজ করতে গিয়ে গ্রেফতার হন তিনি। পরে জেল থেকে ছাড়া পেয়ে টোটো চালাতে শুরু করেন তিনি। মথুরা এলাকায় মূলত তিনি টোটো চালাতেন। অভিযোগ, তাঁর সেই কাজের আড়ালে তিনি পাকিস্তানের হয়ে চরবৃত্তি শুরু করেন। পুলিশ সূত্রে খবর, বেশ কিছু দিন ধরেই উত্তরপ্রদেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে খবর আসছিল যে, তরুণ-তরুণীরা ছবি তুলছেন, ভিডিয়ো করছেন রেলস্টেশন, ধর্মীয়স্থান, সেনাশিবিরের মতো জায়গাগুলির। শুধু তা-ই নয়, কোথাও কোথাও আবার সিসিটিভি ক্যামেরাও বসাচ্ছেন। সেই সূত্র ধরেই পুলিশ তদন্তে নেমে প্রথমে তিন জনকে গ্রেফতার করে। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মীরা।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস ধরেই মীরার গতিবিধি সন্দেহজনক ঠেকছিল। মীরাকে জেরা করে পুলিশ জানতে পেরেছে, সমাজমাধ্যমে নওশাদ এবং সোহেলের সঙ্গে পরিচয় হয় তাঁর। তার পর তাঁদের দলে শামিল হন মীরা। তাঁর দাবি, রেলস্টেশন, ধর্মীয়স্থান, ভিড় এলাকা এবং সেনাশিবিরের মতো সংবেদনশীল এলাকাগুলির ছবি তোলার কাজ দিয়েছিলেন নওশাদেরা। তাঁদের কথামতোই সেই কাজ করছিলেন। মীরার দাবি খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, তথ্য পাচারের জন্য ৫-২০ হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছিল চরবৃত্তির সঙ্গে জড়িত তরুণ-তরুণীদের। শুধু তথ্য পাচারই নয়, এই তরুণ-তরুণীদের মধ্যে‌‌ যাঁরা প্রযুক্তি এবং সমাজমাধ্যমে অত্যন্ত দক্ষ, তাঁদের মাধ্যমে মগজধোলাই এবং চরবৃত্তিতে নিয়োগের কাজও চলছিল। উত্তরপ্রদেশ পুলিশ সূত্রে খবর, যে ছ’জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে ভবাপুর থেকে, তাঁদের মধ্যে চার জন জম্মু-কাশ্মীরের পুলওয়ামা গিয়েছিলেন। সেখান থেকে সংবেদনশীল তথ্য পাকিস্তানে পাচার করেন। আর এই ঘটনা থেকে তদন্তকারীদের অনুমান, জম্মু-কাশ্মীরে বড় কোনও নাশকতার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। জম্মু-কাশ্মীরের বেশ কিছু জায়গায় সৌরচালিত সিসিটিভি ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। দিল্লি-জম্মু রেলওয়ে করিডরেও এ রকম বেশ কিছু ক্যামেরা উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীদের দাবি, সেই ক্যামেরার মাধ্যমে সরাসরি পাকিস্তানে ছবি পৌঁছোচ্ছিল। সেনাদের গতিবিধি রেকর্ড হচ্ছিল ওই ক্যামেরায়।

Uttar Pradesh
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy