Advertisement
E-Paper

পর পর বৈঠক, দল ভাঙাভাঙি, অসংখ্য জল্পনা! কোন অঙ্কে কী ভাবে মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়? তামিলনাড়ুতে পাঁচ দিনের নাটক

২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জিতেছে। সরকার গঠন নিয়ে গত পাঁচ দিন ধরে চলেছে নানা জল্পনা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১০ মে ২০২৬ ০৯:১৫
তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন টিভিকে প্রেসিডেন্ট বিজয়।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন টিভিকে প্রেসিডেন্ট বিজয়। —ফাইল চিত্র।

টানা পাঁচ দিনের জল্পনা, উত্তেজনা এবং নাটকীয় পটপরিবর্তনের পর অবশেষে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হচ্ছেন বিজয়। তাঁর দল টিভিকে এ বার তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে সবচেয়ে বেশি আসন পেয়েছে। তবে একক সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় জাদুসংখ্যা ছুঁতে পারেনি। তাই সর্বোচ্চ আসন পেলেও তাঁর সরকার গঠনে বাধা ছিল। পাঁচ দিনে চার বার রাজ্যপালের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিজয়। অবশেষে শনিবার পেয়েছেন কাঙ্ক্ষিত সাফল্য।

২৩৪ আসনের তামিলনাড়ু বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১১৮টি আসন। কিন্তু বিজয়ের দল ১০৮টি আসনে জিতেছে। তার মধ্যে বিজয় নিজে দু’টি আসন থেকে লড়েছিলেন। ফলে তাঁকে একটি আসন এমনিই ছেড়ে দিতে হবে। তাই আরও অন্তত ১১ জন জয়ী প্রার্থীর সমর্থন দরকার ছিল বিজয়ের। পাঁচ দিনে যা জোগাড় করতে কার্যত কালঘাম ছুটেছে। বার বার তাঁর আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন রাজ্যপাল রাজেন্দ্র আর্লেকর।

গত ৪ মে, সোমবার বিধানসভা নির্বাচনের ফলঘোষণা হয়। বুধবার সরকার গঠনের আর্জি নিয়ে প্রথম বার রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেছিলেন বিজয়। তাঁকে সমর্থন করতে রাজি হয় কংগ্রেস। ওই রাজ্যে পাঁচটি আসনে তারা জিতেছে। অর্থাৎ, পাঁচ কংগ্রেসি বিধায়কের সমর্থনে টিভিকে-র বিধায়ক সংখ্যা পৌঁছোয় ১১৩-তে। সরকার গঠনের জন্য তখনও বিজয়ের দলের দরকার ছিল ছ’জন বিধায়কের সমর্থন। বুধবার রাজ্যপাল বিজয়কে খালি হাতে ফিরিয়ে দেন। বলা হয়, জাদুসংখ্যা ছুঁতে না-পারলে সরকার গঠন সম্ভব নয়।

একাধিক দলের সঙ্গে বৈঠকের পর বৈঠক করেন বিজয়। বৃহস্পতিবার ফের রাজ্যপালের সঙ্গে দেখা করেন এবং প্রয়োজনীয় বিধায়কদের সমর্থন তাঁর কাছে আছে বলে দাবি করেন। কিন্তু লিখিত সমর্থন না-পাওয়ায় সে দিনও লোক ভবন থেকে খালি হাতে ফিরতে হয় ৫১ বছরের এই রাজনীতিক তথা প্রাক্তন অভিনেতাকে।

শুক্রবার নাটকীয় ভাবে এই বিতর্কের মোড় ঘুরে গিয়েছিল। বিজয়ের দলকে সমর্থন করতে রাজি হয় বাম দলগুলি। সিপিআই এবং সিপিএম তামিলনাড়ুতে দু’টি করে আসন পেয়েছে। মোট চারটি আসন নিয়ে তারা টিভিকে-কে সমর্থনে এগিয়ে আসে। বিজয়ের সমর্থনকারী বিধায়কসংখ্যা এ বার পৌঁছোয় ১১৭-তে। আর দু’জনের সমর্থন পেলেই বিজয় সরকার গড়়তে পারবেন। এই পরিস্থিতিতে শুক্রবারই তিনি ফের দেখা করেন রাজ্যপালের সঙ্গে। কিন্তু তৃতীয় বৈঠকেও লাভ হয়নি। ১১৮ জনের লিখিত সমর্থন দেখতে চান রাজ্যপাল।

এর পর শনিবার ভিসিকে এবং ইন্ডিয়ান ইউনিয়ন মুসলিম লিগ (আইইউএমএল) বিজয়ের দিকে সমর্থনের হাত বাড়িয়ে দেয়। অবশেষে সরকার গঠনের জাদুসংখ্যা ছুঁতে পারেন বিজয়। এই দুই দলের সম্মিলিত বিধায়ক সংখ্যাও চার। ফলে টিভিকে-র সমর্থনে চলে আসেন ১২০ জন বিধায়ক। এ বার আর রাজ্যপালের তাঁকে ফিরিয়ে দেওয়ার উপায় ছিল না। উল্লেখ্য, তামিলনাড়ুর পূর্ববর্তী ক্ষমতাসীন দল ডিএমকে-র দীর্ঘ দিনের জোটসঙ্গী ছিল কংগ্রেস। আইইউএমএল এবং ভিসিকে-ও ডিএমকে-র সঙ্গে জোটে ছিল। তারা বিজয়ের সঙ্গে হাত মেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

শনিবার বিজয় ফের লোক ভবনে যান এবং ঘণ্টা খানেক বৈঠকের পর ১২০ জনের লিখিত সমর্থন দেখে রাজ্যপাল তাঁকে সরকার গঠনের আহ্বান জানান। বিজয়কে মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে নিয়োগে আনুষ্ঠানিক সম্মতি দেন রাজ্যপাল। তাঁর সঙ্গে লোক ভবনে গিয়েছিলেন তামিলনাড়ুর কংগ্রেস প্রধান কে সেলভাপেরুনথাগাই এবং সিপিএমের রাজ্য সম্পাদক পি শানমুগাম। বিজয়কে ১৩ মে-র মধ্যে আস্থা ভোট ডাকার নির্দেশ দিয়েছেন রাজ্যপাল। সেখানে তাঁকে সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রমাণ দিতে হবে। রবিবার সকালে তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে শপথ নেবেন বিজয়।

Tamil Nadu TVK indian politics
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy