Advertisement
E-Paper

অযোধ্যায় পানীয় জল বিক্রি করতেন, রামমন্দিরে কাজ পেয়ে ঠাটবাট বদলে যায় অবিনাশের! ১৫ লক্ষ টাকা লেনদেনের হদিস

তদন্তকারী সূত্রের খবর, মন্দিরে কাজ পাওয়ার পর থেকেই অনেকের আর্থিক অবস্থার আচমকা পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের আদবকায়দা, ঠাটবাটও বদলে গিয়েছিল।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৫ জুলাই ২০২৬ ১৩:২৭
(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্ল। (ডান দিকে) অযোধ্যার রামমন্দির। ছবি: সংগৃহীত।

(বাঁ দিকে) অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্ল। (ডান দিকে) অযোধ্যার রামমন্দির। ছবি: সংগৃহীত।

অযোধ্যায় রামমন্দিরে প্রণামী চুরির ঘটনায় তদন্ত যত এগোচ্ছে, ততই নতুন এবং চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে আসছে। ক্রমেই তদন্ত নাটকীয় ভাবে মোড় নিচ্ছে। প্রণামী চুরির অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ শুক্ল সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা। মন্দিরে সামান্য বেতনের চাকরি করে কী ভাবে ফুলেফেঁপে উঠেছিলেন অবিনাশ, সেই রহস্য উদ্ঘাটন করেছেন তাঁরা।

তদন্তকারী সূত্রের খবর, মন্দিরে কাজ পাওয়ার পর থেকেই অনেকের আর্থিক অবস্থার আচমকা পরিবর্তন দেখা গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, অল্প সময়ের মধ্যে তাঁদের আদবকায়দা, ঠাটবাটও বদলে গিয়েছিল। যাঁদের মাসিক বেতন ছিল ১৪-১৫ হাজারের মধ্যে, তাঁদের বিলাসবহুল বাড়ি, গাড়ি কী ভাবে ওই স্বল্প বেতনের মধ্যে সম্ভব হল, তা নজর কাড়ে তদন্তকারীদের। এই প্রণামী চুরির ঘটনায় ইতিমধ্যেই সিট গঠন করে তদন্ত শুরু হয়েছে।

টাইমস অফ ইন্ডিয়া-র প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রণামী চুরির অন্যতম অভিযুক্ত অবিনাশ মন্দিরের প্রণামী গোনার কাজ পাওয়ার আগে অযোধ্যায় হনুমান গুফার কাছে পানীয় জল বিক্রি করতেন। তিনি প্রতাপগড়ের বাসিন্দা। অযোধ্যায় একটি বাড়িও রয়েছে তাঁর। শনিবার তাঁর একটি গাড়ি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। সূত্রের খবর, জেরায় অবিনাশ পুলিশের কাছে স্বীকার করেছেন, চুরির টাকায় তাঁর ভাইয়ের নামে একটি গাড়ি কেনেন। সেই গাড়িটি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

সূত্রের খবর, অবিনাশের ১৫ লক্ষ টাকার একটি লেনদেনের হদিস পেয়েছেন তদন্তকারীরা। তিনি ওই নগদ টাকা কয়েক জনের অ্যাকাউন্টে পাঠিয়েছিলেন। আবার কয়েক জনকে হাতে হাতে নগদ টাকা দেন বলে অভিযোগ। তদন্তকারীরা জানার চেষ্টা করছেন, এই ১৫ লক্ষ টাকার উৎস কী? এর সঙ্গে রামমন্দিরের প্রণামী চুরি যোগ আছে কি না, খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তদন্তকারী সূত্রের খবর, নগদ ২ লক্ষ টাকা দিয়ে এক বান্ধবীকে ফোন কিনে দেন অবিনাশ। এই বিষয়টিকেও তদন্তের আওতায় আনা হচ্ছে বলে সূত্রের খবর। তদন্তকারী সূত্রের দাবি, অবিনাশের ভাই অভিষেক দাবি করেছেন যে, তাঁর দাদাকে যোগ কেন্দ্রে টাকা নিয়ে যেতে দেখেছেন বেশ কয়েক বার। তাঁকে এই টাকার কথা জিজ্ঞাসা করা হলেও সঠিক কোনও উত্তর দেননি অবিনাশ। অভিষেকের দাবি, অনুকল্প নামে এক যুবকের কাছ থেকে তিনি জানতে পারেন যে, ভক্তেরা খুশি হয়ে ওই টাকা দিতেন। অভিষেকের আরও দাবি, অনুকল্প তাঁকে হুমকি দিয়েছিলেন দ্বিতীয় বার এই টাকা নিয়ে যেন কোনও প্রশ্ন না করা হয়। এই সমস্ত তথ্য খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

অন্য দিকে, আর এক অভিযুক্ত লবকুশ মিশ্র অযোধ্যার বাণীপুরে গত বছরের অক্টোবরে ১০০০ বর্গফুটের একটি জমি কেনেন। তদন্তকারী সূত্রের খবর, ওই জমির রেজিস্ট্রি মূল্য ৮.৮ লক্ষ টাকা দেখানো হয়েছিল। কিন্তু স্থানীয়দের দাবি, ওই এলাকায় ওই একই মাপের জমির দাম ২৪-২৫ লক্ষ টাকা। ইতিমধ্যেই লবকুশের স্ত্রীকে অযোধ্যা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তরফে নোটিস পাঠিয়ে ওই জমির নথি দেখাতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর এক অভিযুক্ত রামশঙ্কর যাদব ওরফে তিন্নু। এই চুরিকাণ্ডের অন্যতম আলোচিত অভিযুক্ত। সূত্রের খবর, প্রথমে তিনি গাড়িচালকের কাজ করতেন। তিনি আবার একটি হস্টেলের মালিকও।

অযোধ্যার রামমন্দিরে গত দু’বছরে ভক্তদের দেওয়া প্রণামীর কয়েক কোটি টাকা লুট হয়েছে বলে প্রাথমিক তদন্তে জানতে পেরেছে পুলিশ। রামমন্দিরের কর্মচারী (সেবাদার), এমনকি মন্দির পরিচালনার দায়িত্বপ্রাপ্ত ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সদস্য ও পদাধিকারীদের একাংশও এতে জড়িত থাকতে পারেন বলে পুলিশের ‘বিশেষ তদন্তকারী দল’ (সিট)-এর ধারণা। গত ২৫ জুন আট অভিযুক্তের গ্রেফতারির পরেই ‘শ্রীরাম জন্মভূমি তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্ট’-এর সাধারণ সম্পাদক পদ থেকে ইস্তফা দেন চম্পত রাই। সেই সঙ্গে তীর্থক্ষেত্র ট্রাস্টের সদস্য (ট্রাস্টি) পদ থেকে ইস্তফা দেন অনিল মিশ্র।

Ayodhya

সঠিক খবর পেতে গুগ্‌লে বেছে নিন আনন্দবাজার ডট কম

ফলো করুন আমাদের মাধ্যমগুলি

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy