ব্রিটেনের পরে এ বার ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও বাণিজ্যচুক্তি চূড়ান্ত করার পথে ভারত। আগামী মঙ্গলবারই ভারত এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে চূড়ান্ত বোঝাপড়া ঘোষণা হতে পারে। ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ভন ডার লিয়েন ইতিমধ্যে ভারতে পৌঁছে গিয়েছেন। জানা যাচ্ছে, মঙ্গলবার ভারত-ইউরোপীয় ইউনিয়ন সম্মেলনের সময়েই বাণিজ্যিক বোঝাপড়া চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণা হবে।
২০০৭ সাল থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে ভারতের বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তখন দেশে ক্ষমতায় ছিল ইউপিএ সরকার। দীর্ঘ ১৮ বছর ধরে দফায় দফায় আলোচনার পরে অবশেষে চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সমঝোতা। ঘটনাচক্রে এমন একটি সময়ে ইউরোপের সঙ্গে ভারতের এই বাণিজ্যচুক্তির আলোচনা চূড়ান্ত রূপ পাচ্ছে, যখন ওয়াশিংটনের সঙ্গে দিল্লির এক বাণিজ্যিক টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে। ভারতের উপর ৫০ শতাংশ শুল্ক চাপিয়ে রেখেছে আমেরিকা। দফায় দফায় আলোচনার পরেও সেই শুল্ক প্রত্যাহার হয়নি।
ইউরোপের সঙ্গে এই দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যচুক্তি যে দিল্লির কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ, তা স্পষ্ট কেন্দ্রীয় বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গোয়েলের কথাতেও। ইউরোপের সঙ্গে এই প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তিকে ‘সকল চুক্তির জননী’ বলে ব্যাখ্যা করেছেন তিনি। এই চুক্তি নিয়ে আলোচনা চূড়ান্ত হওয়ার কথা ঘোষণার ঠিক আগেই ভারতে পৌঁছেছেন ইউরোপীয় কমিশনের প্রধান। শনিবারই চার দিনের সফরে ভারতে এসেছেন তিনি। মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে আলোচনায় বসবেন তিনি। জানা যাচ্ছে, ওই আলোচনার সময়েই চূড়ান্ত সমঝোতার কথা ঘোষণা হতে পারে।
গত মঙ্গলবারই ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা দাবি করেন, ভারতের সঙ্গে তাদের প্রস্তাবিত বাণিজ্যচুক্তির রূপরেখা চূড়ান্ত হয়ে গিয়েছে। তিনি বলেন, ‘‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং ভারত এবং ঐতিহাসিক বাণিজ্যচুক্তি সইয়ের দোরগোড়ায় রয়েছে। এর ফলে ২০০ কোটি মানুষের এক নতুন বাজার তৈরি হবে। যা বিশ্বের মোট জিডিপির এক-চতুর্থাংশ।’’
আরও পড়ুন:
অর্থনীতিবিদদের একাংশের মতে, চিনের আগ্রাসী অর্থনীতি ও একচেটিয়া উৎপাদননীতি, অন্য দিকে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগ্রাসী শুল্কনীতি— এই দুই বিষয়ে চাপের মুখে রয়েছে ইউরোপ। একই সমস্যার মুখে ভারতও। এই আবহে দ্রুত মুক্ত দ্রুত বাণিজ্য চুক্তি রূপায়ণের তাগিদ রয়েছে দু’তরফেরই।
বাণিজ্য মন্ত্রকের একটি সূত্র জানাচ্ছে, আমেরিকার সঙ্গে চুক্তি নিয়ে দর কষাকষির প্রক্রিয়া যেহেতু গড়িয়েই চলেছে, তাই ইউরোপের সঙ্গে দ্রুত চুক্তি সারার চেষ্টা করছে ভারত। লক্ষ্য হল, ভারতীয় পণ্যে ট্রাম্পের চাপানো শুল্কের ফলে রফতানিকারীদের যে ধাক্কা লাগছে, তাকে ব্রিটেন, ইইউ-এর সঙ্গে বাণিজ্য দিয়ে কিছুটা সামলানো। জানা গিয়েছে, ইউরোপের সঙ্গে চুক্তিতে কৃষিপণ্যের মতো বিতর্কিত ক্ষেত্রগুলি বাদই রাখা হচ্ছে। ভারতের মোট রফতানির ১৭ শতাংশ হয় ইউরোপে। আমদানি ৯ শতাংশের সামান্য বেশি। ফলে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে সুবিধাজনক জায়গায় রয়েছে নয়াদিল্লি।