চিনকে টপকে চাল উৎপাদনকারী দেশ হিসাবে বিশ্বে প্রথম স্থানে উঠে এল ভারত। রবিবার এমনটাই জানিয়েছে কেন্দ্র। কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিংহ জানান, বর্তমানে ভারতে ১৫ কোটি টন চাল উৎপাদিত হচ্ছে। রবিবার ২৫টি শস্যের মোট ১৮৪টি উন্নত মানের দানায় অনুমোদনের কথা ঘোষণা করেন তিনি। সেই সময়েই চাল উৎপাদনে ভারতের সাফল্যের কথাও উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
শিবরাজ বলেন, “যে ভারত একসময়ে খাদ্য ঘাটতির দেশ হিসাবে পরিচয় ছিল, সেই দেশই এখন বিশ্বব্যাপী খাদ্য সরবরাহকারী দেশে পরিণত হয়েছে। ভারত চাল উৎপাদনে চিনকেও ছাপিয়ে গিয়েছে। চাল উৎপাদক দেশ হিসাবে বিশ্বের প্রথম স্থানে উঠে এসেছে ভারত।” কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও জানান, চিন বর্তমানে সা়ড়ে ১৪ কোটি চাল উৎপাদন করে। ভারত সেখানে ১৫ কোটি টন চাল উৎপাদন করছে। এটি ভারতের এক ‘অভূতপূর্ব সাফল্য’ হিসাবে বর্ণনা করেন কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আরও বলেন, “ভারত এখন বিদেশের বাজারেও চাল সরবরাহ করছে। দেশে প্রচুর পরিমাণে খাদ্যশস্য মজুত রয়েছে। এটি ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করছে।”
পাঁচ বছর আগে নতুন কৃষি আইন কার্যকর করে বিতর্কের মুখে পড়তে হয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারকে। ধারাবাহিক আন্দোলনের জেরে তা প্রত্যাহারও করতে হয় কেন্দ্রকে। ওই ঘটনা বেশ অস্বস্তিতে ফেলেছিল নরেন্দ্র মোদীর সরকারকে। তবে রবিবার কেন্দ্রীয় মন্ত্রী বোঝাতে চাইলেন, দেশের কৃষি ক্ষেত্রকে উন্নত করার লক্ষ্যেই কাজ করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। শিবরাজের দাবি, ১৯৬৯ সাল থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে ৩,৯৬৯টি বেশি ফলনের শস্যদানায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। অন্য দিকে, মোদী সরকার এক দশকেই ৩,২৩৬টি উচ্চ ফলনশীল শস্যদানায় অনুমোদন দিয়েছে।
আরও পড়ুন:
বস্তুত, ১৯৬৯ সাল থেকে এখনও পর্যন্ত মোট ৭,২০৫টি বেশি ফলনের শস্যদানায় অনুমোদন দিয়েছে কেন্দ্র। এর মধ্যে ধান, গম, ভুট্টা, ডাল, তৈলবীজ-সহ বিভিন্ন শস্যের দানা রয়েছে। রবিবার এমনই ১৮৪টি শস্যদানায় অনুমোদনের কথা ঘোষণার সময়ে শিবরাজ বলেন, “এগুলি উচ্চফলনশীল দানা। এতে কৃষকেরা যেমন উপকৃত হবেন, তেমনই ফসলের মানও উন্নত হবে।” এই ১৮৪টি শস্যদানার মধ্যে ১২২টি রয়েছে খাদ্যশস্যের দানা। এ ছাড়া ৬টি ডাল এবং ১৩টি তৈলবীজের দানাও রয়েছে।