Advertisement
E-Paper

বার্লিনে ‘বন্দি’ ছয় বছরের আরিহাকে নিয়ে কী ভাবনা? জার্মান রাষ্ট্রপ্রধানের ভারত সফরের মাঝেই জানাল নয়াদিল্লি

২০২১ সাল থেকে জার্মানির সরকার নির্দেশিত ঠিকানায় (ফস্টার শেল্টারে) বেড়ে উঠছে আরিহা। যথাযথ দেখাশোনা হচ্ছে না অভিযোগ তুলে জার্মানিবাসী ভারতীয় দম্পতি ভবেশ ও ধারা শাহের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁদের সন্তানকে।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১২ জানুয়ারি ২০২৬ ২২:০৪
ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী।

ভারতের বিদেশসচিব বিক্রম মিস্রী। —ফাইল চিত্র।

জার্মানি থেকে আরিহা শাহকে ফিরিয়ে আনার জন্য স‌ে দেশের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে ভারত। বিষয়টিকে মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই দেখছে নয়াদিল্লি। তার পরিবারকেও সবরকম সাহায্য করা হচ্ছে। সোমবার এমনটাই জানিয়েছেন ভারতের বিদেশসচিব বিক্রিম মিস্রী।

সাড়ে ছ’বছর বয়সি আরিহাকে ভারতে ফেরানোর জন্য গত কয়েক বছর ধরে চেষ্টা চালাচ্ছে নয়াদিল্লি। কূটনৈতিক স্তরে অনুরোধ করা হয়েছে। দফায় দফায় আলোচনাও হয়েছে। কিন্তু জার্মানি থেকে এখনও ফেরানো যায়নি তাকে। সোমবার মিস্রি জানান, জার্মান সরকার এবং সে দেশের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে ভারত। দিল্লিতে জার্মান দূতাবাসের সঙ্গেও আলোচনা চলছে।

এমন এক সময়ে আরিহা প্রসঙ্গ উঠে এল যখন জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎজ় ভারত সফরে এসেছেন। সোমবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে বৈঠকও করেছেন তিনি। ঠিক এমনই একটি সময়ে মিস্রির সাংবাদিক বৈঠকে উঠে এল জার্মানিতে আটকে পড়া আরিহার কথা। বস্তুত, ২০২১ সাল থেকে জার্মানির সরকার নির্দেশিত ঠিকানায় (ফস্টার শেল্টারে) বেড়ে উঠছে আরিহা। যথাযথ দেখাশোনা হচ্ছে না অভিযোগ তুলে জার্মানিবাসী ভারতীয় দম্পতি ভবেশ ও ধারা শাহের থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছিল তাঁদের সন্তানকে। এমনকি যৌন নিগ্রহের অভিযোগও তোলা হয়েছিল মা-বাবার বিরুদ্ধে। পরে সেই অভিযোগ খারিজ হয়ে গেলেও আরিহাকে ফিরিয়ে দেওয়া হয়নি মা-বাবার কাছে।

২০২১ সালের সেপ্টেম্বরের সেই ঘটনায় ভবেশ ও ধারা তাঁদের মেয়েকে নিয়ে ডাক্তার দেখাতে গিয়েছিলেন। মেয়ের ডায়পারে রক্ত দেখে তাঁরা ডাক্তারের কাছে যান। সে সময়ে কিছু না হলেও পরে আবার মেয়েকে নিয়ে হাসপাতালে গেলে তখন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চাইল্ড কেয়ার সার্ভিসেসে খবর দেন। সেই থেকে জার্মানিতে একটি ফস্টার কেয়ার অর্থাৎ পালক মা-বাবার তত্ত্বাবধানে রয়েছে শিশুটি।

ধারা শাহের মতোই ২০১১ সালে সাগরিকা চক্রবর্তীর কাছ থেকে তাঁর সন্তানকে কেড়ে নিয়েছিল নরওয়ের প্রশাসন। সন্তানকে ফিরে পেতে নরওয়ে সরকারের সঙ্গে আইনি লড়াই লড়েছিলেন সাগরিকা। শেষে নিজের সন্তানকে ফিরে পেয়েছেন তিনি। সাগরিকার এই লড়াই নিয়ে পরবর্তী সময়ে সিনেমাও হয়েছে। তবে আরিহা এখনও তার নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যেতে পারেনি।

সোমবার মিস্রী বলেন, “একটি পর্যায় পর্যন্ত এটি একটি আইনি বিষয় ছিল। কিন্তু আমরা মনে করি শেষ পর্যন্ত এটিকে মানবিক দৃষ্টভঙ্গি থেকেই দেখা উচিত। আমরা পরিবারের সমস্যার কথাও বুঝি। আমরা তাদের অবস্থা সম্পর্কে সম্পূর্ণ ভাবে অবগত। আমরা তাদের সব রকম ভাবে সাহায্য করার চেষ্টা করছি।” পাশাপাশি আরিহা জার্মানিতে থাকাকালীনও যাতে ভারতীয় সংস্কৃতির সঙ্গে জুড়ে থাকতে পারে, সেই চেষ্টাও করা হচ্ছে বলে জানান বিদেশসচিব। সাড়ে ছয় বছর বয়সি আরিহা যাতে সেখানে ভারতীয়দের সঙ্গে মেলামেশা করতে পারে, ভারতীয় উৎসবগুলিতে শামিল হতে পারে— তার জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে দিল্লি। তাকে হিন্দি শেখানোর চেষ্টা করতেও উদ্যোগী হয়েছে ভারত সরকার।

Germany
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy