E-Paper

দিল্লি কী করবে, হাসিনা-বার্তায় কৌশলী কেন্দ্র

সাউথ ব্লক সূত্রের মতে, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক বন্দি নন। তাঁকে দেশে গ্রেফতার করে রাখা হয়নি। ফলে স্বাধীন মত প্রকাশের জায়গা তাঁর থাকছেই। এ ছাড়াও বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা এবং শেখ হাসিনা তাঁদের বক্তব্য জানাচ্ছেন মূলত সমাজমাধ্যমে, যার উপর ভারত সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০২৬ ০৯:১১
শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা। — ফাইল চিত্র।

বিএনপি-র চেয়ারম্যান তারেক রহমান এখনও পর্যন্ত শেখ হাসিনা বা আওয়ামী লীগকে নিয়ে কোনও কটু মন্তব্য করেননি দেশে ফেরার পর। এমনকি তাঁর ভারতে আশ্রয় নেওয়া নিয়েও খোঁচা দেননি তিনি। তবে তাঁর দলের একাংশ, জামায়েতে ইসলামী, অন্তর্বর্তিকালীন সরকার এবং বাংলাদেশের নাগরিক সমাজের বহুলাংশেরই ভারতে বসে হাসিনার সাক্ষাৎকার এবং ধারাবাহিক বক্তৃতা নিয়ে নয়াদিল্লির প্রতি ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তাঁদের মত, ফাঁসির দড়িতে ঝোলানোর জন্য ভারত শেখ হাসিনাকে ফেরাতে পারে না, এই পর্যন্ত বোধগম্য। কিন্তু ভারতের মাটিতে বসে বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে তিনি যে ক্রমাগত কথা বলে যাচ্ছেন, এমনকি, ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে তাঁর অডিয়ো বক্তব্য যে শোনানো হল, তাতে ভারত এবং বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে তিক্ততা আরও বাড়ছে।

বিষয়টি নিয়ে পাল্টা বয়ান দিচ্ছে নয়াদিল্লি। সাউথ ব্লক সূত্রের মতে, শেখ হাসিনা ভারতে রাজনৈতিক বন্দি নন। তাঁকে দেশে গ্রেফতার করে রাখা হয়নি। ফলে স্বাধীন মত প্রকাশের জায়গা তাঁর থাকছেই। এ ছাড়াও বিদেশ মন্ত্রকের বক্তব্য, আওয়ামী লীগের নেতা-মন্ত্রীরা এবং শেখ হাসিনা তাঁদের বক্তব্য জানাচ্ছেন মূলত সমাজমাধ্যমে, যার উপর ভারত সরকারের কোনও নিয়ন্ত্রণ নেই। এ কথাও বলা হচ্ছে, শেখ হাসিনার প্রথম তিনটি সাক্ষাৎকার ছিল আমেরিকার সংবাদমাধ্যমে। কিন্তু বাংলাদেশের নেতৃত্ব তা নিয়ে সম্পূর্ণ নীরব। নয়াদিল্লির বক্তব্য, ভারতের বেসরকারি সংবাদমাধ্যম কী ছাপবে না ছাপবে তা তাদের এক্তিয়ারের মধ্যে পড়ে। সরকার সেই স্বাধীনতায় মাথা গলায় না।

প্রসঙ্গত, দিন কয়েক আগে থেকে আওয়ামী লীগের সূত্রে ভাসিয়ে দেওয়া হয় যে শেখ হাসিনা দিল্লিতে বসে সাংবাদিক বৈঠক করবেন। ক’দিন পর বলা হয়, তিনি ভার্চুয়ালি তা করতে পারেন, অবশেষে তা এসে দাঁড়ায় অডিয়ো বক্তৃতায়। নয়াদিল্লির সূত্রের বক্তব্য, বাংলাদেশে ভোটের ঠিক আগে শেখ হাসিনা সাংবাদিক বৈঠক করলে ভারত চাপে পড়ত, জামাত অপপ্রচারের সুযোগ পেত, ক্ষুব্ধ হত বিএনপি। সেই পরিস্থিতি অন্তত ঠেকানো গিয়েছে।

পাকিস্তানের গোয়েন্দা সংস্থা আইএসআই বাংলাদেশের টালমাটাল অবস্থার সুযোগ নিয়ে প্রভাব বাড়াচ্ছে এবং ভাষ্য তৈরির চেষ্টা করছে বলেই মনে করছে ভারতের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা শাখার একাংশ। চব্বিশের ৫ অগস্ট ঢাকায় ভারতীয় সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে ভাঙচুর চালানোর বিষয়টিকে এই প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত করেই দেখা হচ্ছে। ছায়ানট, উদীচীর মতো ধর্মনিরপেক্ষ, সাংস্কৃতিক কেন্দ্রেও হামলা হয়েছে। এখনও পর্যন্ত তার নিন্দা করেনি অন্তর্বর্তিকালীন সরকার।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sheikh Hasina Bangladesh

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy