আরও এক নজরদারি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাচ্ছে ভারত। সোমবার সকালে অন্ধ্রপ্রদেশের শ্রীহরিকোটা থেকে উৎক্ষপণ করা হবে ‘অন্বেষা’ কৃত্রিম উপগ্রহকে। যার পোশাকি নাম ইওএস-এন১। ‘ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজ়েশন’ (ডিআরডিও)-এর তৈরি এই কৃত্রিম উপগ্রহের অন্যতম প্রধান কাজ হল মহাকাশ থেকে নজরদারি করা।
সোমবার সকাল ১০টা ১৭ মিনিটে শ্রীহরিকোটার সতীশ ধাওয়ান মহাকাশকেন্দ্র থেকে উৎক্ষেপণ করা হবে এই কৃত্রিম উপগ্রহটি। এটিকে মহাকাশে পৌঁছে দেবে ভারতের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরোর পিএসএলভি-সি৬২ রকেট। অন্বেষার পাশাপাশি আরও ১৫টি কৃত্রিম উপগ্রহকে সোমবার মহাকাশে পৌঁছে দেবে পিএসএলভি রকেট। এর মধ্যে রয়েছে ভারতীয় বেসরকারি সংস্থা ‘ধ্রুব স্পেস’-এর সাতটি কৃত্রিম উপগ্রহও। এ ছাড়া ফ্রান্স, নেপাল, ব্রাজ়িলের কৃত্রিম উপগ্রহ-সহ মোট আটটি কৃত্রিম উপগ্রহ রয়েছে।
নজরদারির জন্য বিশেষ ভাবে তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ অন্বেষা মহাকাশ থেকে অত্যাধুনিক মানের ছবি সংগ্রহ করতে পারে। নির্ভুল ভাবে মানচিত্র তৈরি করতে পারে। সূত্রের দাবি, ভারতের শত্রুপক্ষের কোথায় কী রাখা আছে, তা-ও চিহ্নিত করতে সক্ষম এই কৃত্রিম উপগ্রহ।
আরও পড়ুন:
এর আগে পিএসএলভি-র একটি মহাকাশ অভিযানে বিঘ্ন ঘটেছিল। গত বছরের মে মাসে ব্যর্থ হয়েছিল ইসরোর পিএসএলভি অভিযান। ওই সময়ে ইওএস-০৯ কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠানোর চেষ্টা হয়েছিল। উৎক্ষেপণ হয়েছিল শ্রীহরিকোটা থেকেই। কিন্তু মাঝপথে গিয়ে রকেট থেকে ওই কৃত্রিম উপগ্রহটিকে মহাকাশে প্রতিস্থাপন করা যায়নি। যান্ত্রিক গোলযোগের কারণে অভিযান মাঝপথে বাতিল করতে বাধ্য হয় ইসরো। মে মাসের ওই ব্যর্থতার পরে সোমবার সকালের মহাকাশ অভিযান ইসরোর কাছে যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
গত নভেম্বরেই শ্রীহরিকোটা থেকে মহাকাশে পাঠানো হয় ‘ইসরো’র তৈরি কৃত্রিম উপগ্রহ ‘সিএমএস-০৩’। সেটিকে মহাকাশে পৌঁছে দেয় ভারতের তৈরি এলভিএম৩-এম৫ রকেট। ওই সময়ে পিটিআই জানিয়েছিল, এই কৃত্রিম উপগ্রহটিকে যে সব কাজে ব্যবহার করা হবে, তার মধ্যে অন্যতম হল সামরিক নজরদারি। যদিও ইসরোর তরফে তখন আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কিছু ঘোষণা করা হয়নি। এ বার আরও এক নজরদারি উপগ্রহ মহাকাশে পাঠাচ্ছে ভারত।