পাকিস্তানের লাহৌরে আনারকলি বাজারে যখন ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন জ্যোতি মলহোত্রা, তখন তাঁর সঙ্গে ছিলেন অন্তত ছ’জন। তাঁদের হাতে ছিল একে ৪৭। ওই ছ’জনের গায়ে সেনা বা পুলিশের উর্দি ছিল না। সে সময় জ্যোতির সঙ্গে দেখা হয়েছিল স্কটল্যান্ডের এক ইউটিউবারের। তিনি প্রশ্ন তুলেছিলেন, কেন ওই বন্দুকধারীদের সঙ্গে রাখার প্রয়োজন হয়েছিল জ্যোতির, যেখানে তাঁর সঙ্গে কোনও রক্ষী ছিলেন না। ওই সশস্ত্র ব্যক্তিরা রক্ষী ছিলেন, না কি অন্য কেউ, সেই প্রশ্নও রয়েছে। সূত্রের খবর, এই প্রশ্নগুলি ভাবাচ্ছে হরিয়ানা পুলিশকেও। পাকিস্তানি চরদের তথ্য পাচারের অভিযোগে জ্যোতিকে গ্রেফতার করেছে তারা।
কাল্লাম মিল নামে স্কটল্যান্ডের ওই ইউটিউবার গত মার্চে পাকিস্তানে গিয়েছিলেন। তাঁর চ্যানেলের নাম ‘কাল্লাম অ্যাব্রড’। লাহৌরের আনারকলি বাজারে গিয়ে ভিডিয়ো শুট করছিলেন তিনি। তাঁর তোলা সেই ভিডিয়োয় দেখা যায়, একে ৪৭ হাতে কয়েক জন বাজারে ঘুরছেন। সেই ব্যক্তিদের গায়ে যে জ্যাকেট ছিল, তাতে লেখা ‘ভয় নেই’। তার পরেই ভিডিয়োয় দেখা যায় জ্যোতিকে। তিনিও সে সময় ভিডিয়োই তুলছিলেন। দু’জনের পরিচয় হয়। জ্যোতি কাল্লামকে জিজ্ঞেস করেন, তিনি কি প্রথম বার পাকিস্তানে এসেছেন? কাল্লাম জবাবে জানান, এই নিয়ে তাঁর পঞ্চম পাক সফর। এর পরে পাকিস্তানের আতিথেয়তা কেমন লাগছে, তা নিয়ে কাল্লাম প্রশ্ন করেন জ্যোতিকে। তিনি জানান, দারুণ।
এর পরে জ্যোতি বাজারে হাঁটতে হাঁটতে এগিয়ে যান। তখনই কাল্লাম বুঝতে পারেন, ওই সশস্ত্র ব্যক্তিরা জ্যোতির সঙ্গে রয়েছেন। তখন কাল্লামকে বলতে শোনা যায়, ‘‘ওই রক্ষীদের সঙ্গে ইনিই ছিলেন। কী জানি কেন, এত বন্দুকের দরকার হয়ে পড়ল! ওই মহিলাকে ঘিরে কত বন্দুক, এক বার দেখুন। ছয় জন বন্দুকধারী রয়েছেন তাঁকে ঘিরে।’’ ওই ইউটিউবারের ভিডিয়োয় জ্যোতির সঙ্গে আরও কয়েক জনকে দেখা গিয়েছে। তাঁদের পরিচয় নিয়ে ধন্দ তৈরি হয়েছে। সূত্রের খবর, ওই ইউটিউবারের মতোই তদন্তকারীদের মনেও প্রশ্ন, পাকিস্তান সফরে কেন বন্দুকধারী ‘রক্ষী’র প্রয়োজন হয়েছিল জ্যোতির?
পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, পাকিস্তানি আধিকারিকদের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল জ্যোতির। নয়াদিল্লিতে পাকিস্তানি আধিকারিক দানিশের সঙ্গে তাঁর ‘ঘনিষ্ঠতা’ ছিল বলে অভিযোগ। দানিশকে আগেই ‘অবাঞ্ছিত’ ঘোষণা করেছে ভারত। অভিযোগ, দানিশের মাধ্যমে পাকিস্তানের আরও আধিকারিক, এমনকি গুপ্তচরদের সঙ্গে যোগাযোগ হয়েছিল জ্যোতির। তিনি পাক চরদের কী তথ্য দিয়েছেন, তা এখন খতিয়ে দেখছে পুলিশ।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
- সংঘর্ষবিরতিতে রাজি ভারত এবং পাকিস্তান। গত ১০ মে প্রথম এই বিষয় জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পরে দুই দেশের সরকারের তরফেও সংঘর্ষবিরতির কথা জানানো হয়।
- সংঘর্ষবিরতি ঘোষণার পরেও ১০ মে রাতে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে গোলাবর্ষণের অভিযোগ ওঠে। পাল্টা জবাব দেয় ভারতও। ইসলামাবাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তবে ১১ মে সকাল থেকে ভারত-পাক সীমান্তবর্তী এলাকার ছবি পাল্টেছে।
-
ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক বিষয়, তৃতীয় পক্ষের হস্তক্ষেপ চায় না নয়াদিল্লি, জানিয়েছে আমেরিকা: পাক বিদেশমন্ত্রী
-
পাকিস্তানের বিরুদ্ধে দুরন্ত লড়াই, অগ্নিবীরদের ভাগ্য খুলে যেতে পারে, ৪ বছরের মেয়াদ বাড়বে? কী পরিবর্তন হতে পারে? চর্চা
-
ভারতের হামলায় কি গুঁড়িয়ে গিয়েছে আমেরিকায় তৈরি পাক যুদ্ধবিমান এফ-১৬? এক বাক্যে জবাব মার্কিন বিদেশ দফতরের
-
৩ মাস ধরে পালানোর চেষ্টা, শেষে চিনা যন্ত্র চালু করতেই গোয়েন্দাদের জালে পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা
-
গোপন সুড়ঙ্গের মুখ কৌশলে বন্ধ করে ‘ফাঁদ’ পাতে সেনা? কেন তিন মাসেও কাশ্মীর ছাড়তে পারেনি পহেলগাঁওয়ের জঙ্গিরা