ওজন ঝরাতে গিয়ে বলিরেখা পড়ছে না তো?
ওজন ঝরাতে অনেকেই এখন ক্র্যাশ ডায়েট করছেন। কেউ পুষ্টিবিদের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট করছেন। কেউ আবার নেটমাধ্যমের উপর ভরসা করে ডায়েট শুরু করেছেন। পুষ্টিবিদদের মতে, স্বাস্থ্যকর পদ্ধতিতে ডায়েট মেনে চললে মাসে ৪-৫ কেজি ওজন কমানো সম্ভব। তবে প্রত্যেকের শারীরিক গঠন আলাদা। তাই কোন ডায়েট মেনে চললে আপনি দ্রুত ওজন ঝরাতে পারবেন তা আপনার শারীরিক অবস্থা, উচ্চতা, বয়স বিচার করে এক জন পুষ্টিবিদই বলতে পারেন। তবে ডায়েট করতে গিয়ে অনেকে এমনই কড়া ডায়েট করে বসেন, যাতে ওজন কমলেও ত্বকের ক্ষতি হয়ে যায়। যে কোনও সুষম ডায়েটে ফ্যাটি অ্যাসিড, প্রোটিন, ভিটামিন, খনিজ পদার্থ এবং ইলেকট্রোলাইটসের ভারসাম্য থাকে। কিন্তু ডায়েটের আমূল পরিবর্তনে শরীরে এই উপাদানগুলির ঘাটতি তৈরি হয়, আর তাতেই বারোটা বাজে ত্বকের।
কী কী সমস্যা দেখা যায় ত্বকে?
১) ত্বকের স্বাভাবিক উজ্জ্বলতা অনেকটাই কমে যায়। ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়। কিন্তু কম বয়সে এমন ডায়েটের কারণে ত্বকের টানটান ভাব কমে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে। বলিরেখাও দেখা দিতে পারে।
২) কারও ত্বকে ছোপ ছোপ কালো দাগ, কারও বা সাদা দাগ হতে পারে। ঠোঁট, হাতেও এমন দাগ দেখা যেতে পারে।
৩) শরীরে প্রোটিনের জোগান কমে যাওয়ায় চনমনে বা ফুরফুরে ভাব কমে যেতে পারে। কাজে অনীহা, ক্লান্তি দেখা দেয়।
৪) ভিটামিন এ-র অভাবে রাইনোডার্মা বা টোড স্কিন হতে পারে। এতে ব্যক্তির হাত-পায়ে পদ্মকাঁটার মতো দেখা যায়। ভিটামিন বি কমপ্লেক্স বা রাইবোফ্লেভিনের অভাবে ঠোঁট লাল হয়ে থাকে, ঠোঁটের কোণ ফেটে যায়। ভিটামিন বি ১২-এর অভাবে হাতের আঙুলগুলি কালো হয়ে যায়। ভিটামিন সি-এর অভাবে হাত-পায়ে ছোপ পড়তে পারে।
বাঁচার উপায় কী?
চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের সাহায্য নিয়ে ডায়েট করলে প্রয়োজনে তাঁরা ভিটামিনের সাপ্লিমেন্ট দেন। তবে না জেনেই মুঠো মুঠো সাপ্লিমেন্ট খাওয়া ভাল নয়। ডায়েটে প্রোটিনের মাত্রা ঠিকঠাক থাকছে কি না তা যাচাই করা জরুরি। এ ছাড়া ডায়েট করার সময় শরীরে পর্যাপ্ত মাত্রায় জল যাচ্ছে কি না, সেই বিষয়েও নজর রাখা জরুরি। পিগমেন্টেশন দূর করার জন্য সানস্ক্রিন ব্যবহারের পরামর্শ দেন চিকিৎসকেরা। রোগের কারণ নির্মূল না করলে ত্বকের সমস্যা মিটবে না। অভিজ্ঞ পুষ্টিবিদ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিয়ে ডায়েট চার্ট তৈরি করতে হবে।