Follow us on

Download the latest Anandabazar app

© 2021 ABP Pvt. Ltd.

Advertisement

২৯ মে ২০২২ ই-পেপার

URL Copied
Something isn't right! Please refresh.

ভেলোরের পরও শিক্ষা হয়নি! ভোটের মুখে তামিলনাড়ুতে ফের বিলির জন্য রাখা টাকা উদ্ধার

আয়কর দফতরের একটি সূত্রের খবর, ভোটার পিছু ৩০০ টাকা করে দেওয়ার হিসেব লেখা নথিও উদ্ধার হয়েছে।

সংবাদ সংস্থা
চেন্নাই ১৭ এপ্রিল ২০১৯ ১০:৫৭
Save
Something isn't right! Please refresh.
প্যাকেটে প্যাকেটে রাখা টাকা উদ্ধার করল আয়কর দফতর। ছবি: টুইটার থেকে

প্যাকেটে প্যাকেটে রাখা টাকা উদ্ধার করল আয়কর দফতর। ছবি: টুইটার থেকে

Popup Close

সামনে দোকান। কিন্তু ভিতরে ঢুকতেই থরে থরে সাজানো ৯৪টি নগদ টাকার প্যাকেট। তার গায়ে লেখা ওয়ার্ড নম্বর এবং ভোটার পিছু কত টাকা দিতে হবে, তার হিসেব। ভোটের মুখে আয়কর দফতরের অভিযানে প্রচুর নগদ টাকা উদ্ধার হয়েছে। মঙ্গলবারই ভোটারদের টাকা বিলির অভিযোগে বাতিল হয়েছে ভেলোর কেন্দ্রের নির্বাচন। কিন্তু এই রকম সুনির্দিষ্ট করে ওয়ার্ড নম্বর এবং ভোটারদের টাকা বিলির অঙ্কের হিসেব লেখা বিপুল পরিমাণ টাকা সম্ভবত এই প্রথম উদ্ধার করল আয়কর দফতর। তামিলনাড়ুর আন্দিপত্তিতে এই অভিযানে গ্রেফতার করা হয়েছে চার জনকে।

রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতে এবং চাপে রাখতে ভোটের মুখে বেছে বেছে বিরোধীদেরই অভিযানের নিশানা করছে আয়কর দফতর— এই অভিযোগে সরব হয়েছে বিরোধীরা। পরিসংখ্যান বলছে, গত ছ’মাসে সারা দেশে ১৫টিরও বেশি অভিযান চালিয়েছে আয়কর দফতর। তার মধ্যে মাত্র একটি অভিযান হয়েছে এক বিজেপি নেতার বাড়ি। তাও আবার উত্তরাখণ্ডের যে বিজেপি নেতার বাড়িতে হানা দিয়েছিল আয়কর দফতর, তিনিও বিজেপি থেকে সম্প্রতি দূরত্ব বাড়িয়েছেন। বিরোধীদের মধ্যে আয়করের আতস কাচের নীচে এসেছেন, মধ্যপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী কমলনাথ এবং তাঁর ঘনিষ্ঠরা, কর্নাটকের মুখ্যমন্ত্রী কুমারস্বামীর ঘনিষ্ঠরা, অন্ধ্রের তেলুগু দেশম নেতা সি এম রমেশ ও পুত্তা সুধাকর, ডিএমকে নেতা তথা দলের কোষাধ্যক্ষ দুরাই মুরুগান, দিল্লির আম আদমি পার্টির নেতা কৈলাস গেহলত এবং নরেশ বলিয়ান, উত্তরপ্রদেশে বিএসপি নেত্রী মায়াবতীর ঘনিষ্ঠ সহযোগী নেট রামের মতো নেতার বাড়িতে। তালিকায় শেষতম সংযোজন ডিএমকে নেত্রী কানিমোঝি। সেখানে অভিযানে গিয়ে কার্যত মুখ পুড়েছে আয়কর কর্তাদের। মঙ্গলবারের এই অভিযানে নগদ টাকা বা বেআইনি কোনও কিছুই উদ্ধার বা বাজেয়াপ্ত করতে পারেননি আয়কর কর্তারা। শেষমেষ জানিয়েছে, যে গোপন খবরের ভিত্তিতে তাঁরা অভিযান চালিয়েছেন, সেটা ‘ভুয়ো’ ছিল।

ভেলোরের পর টাকা উদ্ধারে আবারও শিরোনামে তামিলনাড়ু। এ বার আন্দিপত্তি, যেখানে আবার লোকসভা ভোটের পাশাপাশি বিধানসভার উপনির্বাচনও একই সঙ্গে হচ্ছে। ভোটগ্রহণ আগামিকাল বুধবার। তার আগেই টিটিভি দিনকরণের আম্মা মাক্কাল মুনেত্র কাজাঘম বা এএমএমকে দলের এক নেতার দোকান থেকে উদ্ধার হয়েছে বিপুল টাকা। আয়কর দফতরের একটি সূত্রে খবর, প্রায় দেড় কোটি টাকা উদ্ধার হয়েছে। যদিও অন্য একটি সূত্রের দাবি, উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৫০ লক্ষের কাছাকাছি।

Advertisement

আরও পড়ুন: ভোটের আগে আয়কর দফতরের নিশানায় শুধু বিরোধীরাই?

আরও পডু়ন: কমল নাথ ঘনিষ্ঠদের বাড়িতে আয়কর দফতরের তল্লাশি, উদ্ধার বিপুল পরিমাণ নগদ টাকা

এই অভিযানে গিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় আয়কর কর্তাদের। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে আন্দিপত্তিতে এএমএমকে-র এক নেতার দোকানে পুলিশকে সঙ্গে নিয়ে অভিয়ানে যায় আয়কর দফতরের ফ্লাইং স্কোয়াড। সেখানে পৌঁছতেই এএমএমকে কর্মীরা আয়কর দফতরের কর্মী-অফিসারদের বাধা দেন। তাঁদের সঙ্গে পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তি শুরু হয়। পরিস্থিতি এতটাই উত্তপ্ত হয়ে ওঠে যে, শূন্যে গুলি চালাতে বাধ্য হন আয়কর কর্মীদের সঙ্গে থাকা পুলিশকর্মীরা। পালিয়ে যান ওই দোকানদার। ঘটনাস্থল থেকে এএমএমকে-র চার কর্মীকে গ্রেফতার করা হয়।

আরও পডু়ন: বাংলাদেশি অভিনেতা ফিরদৌসকে ভারত ছাড়ার নির্দেশ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের

আরও পডু়ন: আন্না-আম্মা নেই, জৌলুস অতীত, তামিলভূমের খরায় রাস্তা খুঁজছে বিজেপি-কংগ্রেস

দোকানের ভিতরে ঢুকতেই আয়কর কর্তাদের চোখে পড়ে প্রচুর প্যাকেট। সেই প্যাকেটগুলির উপর আবার ওয়ার্ড নম্বর লেখা রয়েছে। আয়কর দফতরের একটি সূত্রের খবর, ভোটার পিছু ৩০০ টাকা করে দেওয়ার হিসেব লেখা নথিও উদ্ধার হয়েছে।

ভেলোরের এক ডিএমকে নেতার কাছ থেকে প্রায় ১২ কোটি উদ্ধার হয়। ওই টাকা ভোটারদের বিলির চেষ্টা চলছিল বলে অভিযোগ ওঠে। সেই কারণেই রাষ্ট্রপতির অনুমোদনের পর ভেলোর কেন্দ্রের ভোটগ্রহণ বাতিল করে দিয়েছে নির্বাচন কমিশন। সেই ঘোষণার পর ২৪ ঘণ্টাও কাটেনি। তার মধ্যেই ফের সেই তামিলনাড়ুতেই বিপুল পরিমাণ টাকা উদ্ধার হল। এক্ষেত্রে আবার ভোটারদের বিলি করার উদ্দেশে রাখা টাকার অঙ্কের স্পষ্ট হিসেবও রয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই এই ঘটনায় ভেলোরের পর এ বার আন্দপত্তি কেন্দ্রের ভোট প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়েই প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। তবে নির্বাচন কমিশনের তরফে এখনও এ নিয়ে কোনও মন্তব্য করা হয়নি। অন্য দিকে এএমএমকে সুপ্রিমো টিটিভি দিনকরণও এ নিয়ে এখনও মুখ খোলেননি।



Something isn't right! Please refresh.

Advertisement