মুম্বইয়ের তরুণী জাহ্নবী কুকরেজা হত্যাকাণ্ড আবার আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে। তাঁকে খুনের জন্য যাবজ্জীবন সাজা হয়েছে প্রেমিক শ্রী জোগধঙ্করের। তবে জাহ্নবী এবং জোগধঙ্করের বান্ধবী দিয়া পাডনকরকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে আদালত। তাদের পর্যবেক্ষণ, এই ঘটনায় দিয়া ঘটনাস্থলে থাকলেও জাহ্নবী খুনে তাঁর কোনও ভূমিকা বা জড়িয়ে থাকার কোনও প্রমাণ মেলেনি। ঘটনাচক্রে, দিয়ার সঙ্গেই জোগধঙ্করকে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফেলেছিলেন জাহ্নবী। আর সেখান থেকেই অশান্তির সূত্রপাত।
সাল ২০২০। ৩১ ডিসেম্বরের রাত। মুম্বইয়ের সান্তাক্রুজ় এলাকায় নিজের বাড়িতে বাবার জন্মদিন পালনে ব্যস্তি ছিলেন জাহ্নবী। সেখানে আসেন দিয়া এবং জোগধঙ্করও। তার পর তিন জনে মিলে খারে যশ আহুজা নামে এক বন্ধুর ফ্ল্যাটে যান। নতুন বছরের পার্টির আয়োজন করেছিলেন যশ। সেখানে আরও অনেক বন্ধু হাজির হয়েছিলেন। খাওয়াদাওয়া, মদ্যপানও হয়। রাত তখন ২টো। বহুতলের ১৭তলায় তখন নতুন বছরের পার্টিতে মজে জাহ্নবীরা। হঠাৎই জাহ্নবীর চোখ যায় প্রেমিক জোগধঙ্করের দিকে। দিয়ার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ অবস্থায় দেখে ফুঁসে ওঠেন তিনি।
পুলিশ জানিয়েছে, জাহ্নবী এই ঘটনার প্রতিবাদ করতেই মদের নেশায় তাঁকে মারধর করা শুরু করেন। তার পর রাগের বশে জাহ্নবীকে ধাক্কা দিয়ে ছাদ থেকে ফেলে দেন। তাঁর দেহ টেনে নিয়ে সরিয়ে ফেলার চেষ্টা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে সেই দৃশ্য ধরা পড়েছে। এই ঘটনা যখন ঘটেছে, সেই সময় ওই আবাসনেরই কেউ এক জন পুলিশকে ফোন করেন। ঘটনাস্থলে পুলিশ এসে জাহ্নবীর দেহ উদ্ধার করে। তার পর গ্রেফতার হন জোগধঙ্কর। মামলা দায়ের হয় দিয়ার বিরুদ্ধেও। তাঁকে গ্রেফতার করা হয়।
পাঁচ বছর ধরে মামলা চলার পর অবশেষে জোগধঙ্করকে দোষী সাব্যস্ত করে মুম্বইয়ের আদালত।