রাজনৈতিক প্রতিহিংসা চরিতার্থ করতেই হেরাল্ড মামলা করা হয়েছে। মঙ্গলবারও এই দাবিতে সরব থাকল কংগ্রেস। অভিযোগের আঙুল সরাসরি বিজেপির দিকেই। পরিস্থিতি এমন জায়গায় পৌঁছেছে যে, সনিয়া গাঁধীকে পর্যন্ত প্রকাশ্যে মুখ খুলতে হয়েছে। বিজেপিকে হুঁশিয়ারি দিতে নাম নিতে হয়েছে খোদ ইন্দিরা গাঁধীর। কাউকে তিনি যে ডরান না সে কথাও মনে করিয়েছেন কংগ্রেস সভানেত্রী।
তবে কি তিনি ভয় পেয়েছেন?
এ দিন রীতিমতো ক্ষিপ্ত দেখায় সনিয়াকে। তিনি বলেন, ‘‘আমি ইন্দিরা গাঁধীর পুত্রবধূ। এবং কোনও কিছুকেই আমি ভয় পাই না।’’ সংসদেও এ দিন তাঁকে রাগে ফেটে পড়তে দেখা গিয়েছে। ইদানীং কালে তাঁকে এমন রুদ্রমূর্তিতে সংসদে কেউই দেখেননি। কাজেই অমেঠির সাংসদকে এমন ভূমিকায় দেখে সতীর্থদের অনেকেই নিজেদের মধ্যে মুখ চাওয়াচাওয়ি করেছেন।
যদিও বিজেপি নেতা তথা কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি জানিয়েছেন, এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কোনও সম্পর্ক নেই। কোনও ব্যক্তি যদি আদালতে মামলা করেন, তার সঙ্গে সরকারের কোনও যোগ থাকতে পারে না বলেই এ দিন দাবি করেছেন তিনি। তবে সেই ব্যক্তি যদি শাসক দলের নেতা হন? জেটলি বলেন, ‘‘আইনের চোখে সকলেই সমান।’’
এ দিন ন্যাশনাল হেরল্ড মামলা নিয়ে পাতিয়ালা হাউজ কোর্টে শুনানি হয়নি। পরবর্তী শুনানি হবে ১৯ ডিসেম্বর। সোমবারেই এই মামলায় সনিয়া গাঁধী ও রাহুলকে নিম্ন আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দিয়েছিল দিল্লি হাইকোর্ট। সনিয়া-রাহুলের আইনজীবী তথা কংগ্রেস নেতা মনু সিঙ্ঘভি আদালতে আবেদন করেন, পূর্ব নির্ধারিত কয়েকটি কাজ থাকার জন্য এ দিন তাঁদের শুনানি থেকে যেন অব্যাহতি দেওয়া হয়। সেই আবেদনে সাড়া দেন বিচারপতি। সিঙ্ঘভি বলেন, “বিচারপতিকে জানিয়েছি, সকলেই আদালতে হাজির হবেন। তিনি আমাদের আবেদনপত্রটি দেখে অনুমতিও দেন।” তিনি আরও জানান, এই মামলায় রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে বিজেপি। তবে শেষে কংগ্রেসরই জয় হবে বলে মত তাঁর।
সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে গাঁধীদের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এ দিনও শুনানি না হওয়ায় সুপ্রিম কোর্টে আপিল হওয়ার আরও বেশ খানিকটা সময় পেলেন সনিয়া-রাহুল। তবে তাঁরা এখনই সুপ্রিম কোর্টে যাবেন কি না সে বিষয়ে কোনও স্পষ্ট ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
আদালতে সনিয়া-রাহুলের বিরুদ্ধে যিনি মামলা দায়ের করেছেন সেই বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামী জানিয়েছেন, ১৯ ডিসেম্বর গাঁধীরা আদালতে জামিনের আবেদন করলে তিনি বিরোধিতা করবেন। যদি আদালত তাঁদের জামিনও দেন, তা হলে তাঁদের পাসপোর্ট জমে নেওয়ার জন্য আদালতে পাল্টা আবেদন জানাবেন।