পঠানকোট-কাণ্ড নিয়ে দেশের অন্দরে পারস্পরিক দোষারোপের পালা অব্যাহত। তার মধ্যেই ভারত-পাকিস্তান দ্বিপাক্ষিক আলোচনার প্রক্রিয়া যাতে ভেস্তে না যায়, সে জন্য জোরদার সক্রিয়তা শুরু হয়েছে দু’দেশের তরফেই।
পঠানকোটের ঘটনায় পাক যোগের তথ্যপ্রমাণ আজই সরকারি ভাবে ইসলামাবাদের হাতে তুলে দিয়েছে দিল্লি। ইসলামাবাদ এ নিয়ে সক্রিয়ও হয়েছে। তার মধ্যেই দু’দেশের সরকারি নেতৃত্ব একযোগে চেষ্টা চালাচ্ছে যাতে আগামী ১৫ জানুয়ারি ইসলামাবাদে বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠকটি করানো যায়। নয়াদিল্লি থেকে পঠানকোট নিয়ে তথ্যপ্রমাণ হাতে পাওয়ার পরেই পাক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ তাঁর সরকারের শীর্ষ কর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন। দিল্লি থেকে পাওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে যত দ্রুত সম্ভব পদক্ষেপ করতে নির্দেশ দিয়েছেন সরকারের শীর্ষ কর্তাদের।
এ দিনই বিদেশ মন্ত্রকের তরফে সাংবাদিক বৈঠক করে বলা হয়েছে, বল এখন পাকিস্তানের কোর্টে। অনায়াসে ব্যবস্থা নেওয়া যায়, এমন তথ্যপ্রমাণ ইতিমধ্যেই দেওয়া হয়েছে ইসলামাবাদকে। ১৫ তারিখ দু’দেশের মধ্যে প্রস্তাবিত বিদেশসচিব পর্যায়ের বৈঠক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র বিকাশ স্বরূপ তাৎপর্যপূর্ণ ভাবে বলেন, ‘‘এখনও আট দিন বাকি আছে। অপেক্ষা করুন। দেখুন না কী হয়!’’ একই সঙ্গে তাঁর মন্তব্য, ‘‘আমাদের পাকিস্তান নীতি খুব স্পষ্ট। আমরা বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়েছি। কিন্তু সন্ত্রাস বরদাস্ত করা হবে না।’’ তাঁর বক্তব্য, আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার পর দু’দেশের মধ্যে সফল ভাবে জাতীয় নিরাপত্তা পর্যায়ের বৈঠক হয়েছে। কিন্তু পঠানকোটের ঘটনায় আবার সন্ত্রাস বিষয়টি চলে এল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে। বিকাশের কথায়, ‘‘এ বার পাকিস্তানকেই ঠিক করতে হবে, তারা আমাদের দেওয়া তথ্যপ্রমাণের ভিত্তিতে কী ভাবে এগোবে।’’
এই পরিস্থিতিতে এটা স্পষ্ট যে নয়াদিল্লি চাইছে, ১৫ জানুয়ারির আগে পঠানকোট-কাণ্ডের সঙ্গে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভাবে যুক্ত কয়েক জনের বিরুদ্ধে অন্তত প্রাথমিক কিছু পদক্ষেপ করুক ইসলামাবাদ। এই মর্মে চাপও বাড়ানো হচ্ছে। কারণ দিল্লি বুঝেছে যে, পঠানকোট-কাণ্ডের পরে পাকিস্তানের সঙ্গে খালি হাতে বৈঠকে বসা সম্ভব নয়। আলোচনার টেবিলে বসার আগে এটা স্পষ্ট হওয়া ভারতের কাছে জরুরি যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চাপে শেষ পর্যন্ত হাতে-কলমে কিছু ব্যবস্থা নিয়েছে ইসলামাবাদ। বিষয়টি নিয়ে নওয়াজের সঙ্গে টেলিফোনে আগেই আলোচনা সেরে নিয়েছেন মোদী। নওয়াজ নিজেও দ্বিপাক্ষিক আলোচনা এগিয়ে নিয়ে যেতে আগ্রহী। কূটনৈতিক বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নওয়াজ যে নিজেও আলোচনায় আগ্রহী তার প্রমাণ, ভারতের দেওয়া তথ্যপ্রমাণ নিয়ে আজ যে তৎপরতায় তাঁকে বৈঠক করতে দেখা গিয়েছে, তা ২৬/১১ বা সাম্প্রতিক কোনও নাশকতার (ভারতের মাটিতে) প্রেক্ষিতে কখনওই দেখা যায়নি। পঠানকোট নিয়ে নওয়াজের ডাকা বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশার আলি খান, বিদেশ মন্ত্রকের পরামর্শদাতা সরতাজ আজিজ, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা নাসির জনজুয়া, বিদেশসচিব ইজাজ আহমেদ চৌধুরি-সহ অনেক শীর্ষ কর্তা।
বিদেশ মন্ত্রকের এ দিনের সাংবাদিক বৈঠকে সন্ত্রাসবাদ নিয়ে কড়া শব্দ ব্যবহার করে পাকিস্তানের উদ্দেশে চিরাচরিত ভঙ্গিতেই বার্তা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ইসলামাবাদের সঙ্গে আলোচনার দরজাও খোলা রাখা হয়েছে। বিকাশ স্বরূপের কথায়, ‘‘আমরা চাই নির্ণায়ক কোনও পদক্ষেপ করুক পাকিস্তান। আমরা নির্দিষ্ট দিন-তারিখ দিচ্ছি না। অপেক্ষা করছি পাকিস্তানের তরফে দ্রুত এবং নির্ণায়ক পদক্ষেপের জন্য।’’
বার্তা স্পষ্ট। এখন দেখার কোন পথে এগোয় ইসলামাবাদ।