E-Paper

বৃষ্টি ও ঝড় উপেক্ষা করে রাতেই পথে নামল বিজেপি

লোকসভায় সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে হওয়া ভোটাভুটি শেষ হতেই সংসদের মকর দ্বারের সামনে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়াকে উপেক্ষা করে প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে পড়েন এনডিএ সাংসদেরা। নেতৃত্বে ছিলেন বাঁশুরি স্বরাজের মতো মহিলা সাংসদেরা।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:১৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

প্রস্তুত ছিল দু’ধরনের প্ল্যাকার্ড। একটিতে নরেন্দ্র মোদী সরকারের নারী ক্ষমতায়নের প্রশ্নে আরও এক ধাপ এগিয়ে যাওয়ার প্রশংসা, অন্যটি বিরোধীদের কারণে নারী ক্ষমতায়ন সংক্রান্ত বিলটি আটকে যাওয়া। দিনের শেষে বেজার মুখে দ্বিতীয় প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে সংসদ চত্বরে পথে নামলেন এনডিএ সাংসদেরা। আজ রাত থেকে মহিলা সংরক্ষণ বিল রুখে দেওয়ার জন্য বিরোধীদের সমালোচনা করে দেশ জুড়ে দলের মহিলা নেতৃত্বকে পথে নামার নির্দেশ দিয়েছেন বিজেপি। অন্য দিকে, পরবর্তী রণকৌশল ঠিক করতে আজ লোকসভায় মহিলা সংরক্ষণ বিলের ভোটাভুটিতে পরাস্ত হওয়ার পরেই সংসদে বৈঠকে বসেন এনডিএ নেতৃত্ব।

অপেক্ষা ছিল শুধু বোধহয় হেরে যাওয়ার। আজ লোকসভায় সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে হওয়া ভোটাভুটি শেষ হতেই সংসদের মকর দ্বারের সামনে বৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়াকে উপেক্ষা করে প্ল্যাকার্ড হাতে নেমে পড়েন এনডিএ সাংসদেরা। নেতৃত্বে ছিলেন বাঁশুরি স্বরাজের মতো মহিলা সাংসদেরা। পিছনে দল বেঁধে পুরুষেরা। কার্যত যাকে ব্যতিক্রমী দৃশ্য বলেই ব্যাখ্যা করছেন রাজনীতিকেরা। কারণ এতদিন সরকারের বিরোধিতায় সংসদ চত্বরে মিছিল করতে দেখা যেত বিরোধী দলের সাংসদদের। আর এ যাত্রায় বিরোধীদের মুন্ডুপাত করে প্রতিবাদ মিছিলে পা বাড়াতে দেখা গেল এনডিএ সাংসদদের। বিজেপি শিবিরের মতে, ওই বিল নিয়ে আলোচনায় হারার সম্ভাবনা প্রবল থাকায় আজ দু’ধরনের প্ল্যাকার্ড এনে রাখা হয়েছিল। সূত্রের মতে, পরাজিত হলে সংসদ চত্বরে আরও বড় মাপের প্রতিবাদ করার পরিকল্পনা ছিল। সেই মতো মহিলা সাংসদ ছাড়াও দিল্লি বিজেপির মহিলা সদস্যদের সংসদে আনা হয়েছিল। কিন্তু বৃষ্টি সেই পরিকল্পনায় জল ঢেলে দেয়। তবে রাতে এসপি নেতা অখিলেশ যাদবের বাড়ির সামনে প্ল্যাকার্ড হাতে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির মহিলা কর্মীরা।

সংবিধান সংশোধনকারী মহিলা সংরক্ষণ বিলের সঙ্গে লোকসভার এলাকা পুনর্বিন্যাস বিলটি জুড়ে দেওয়ায় বিরোধীদের যে পাশে পাওয়া কঠিন তা গোড়া থেকেই স্পষ্ট হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু তা জেনেও বিলটি আনে সরকার। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠেছে, যখন আনা হয়েছে, তখন কেন বিলটি পাশ করানোর প্রশ্নে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা লক্ষ করা গেল না। কেন গা-ছাড়া দিয়ে রইলেন বিজেপি মন্ত্রীরা। রাজনীতিকদের মতে, অতীতে অনুচ্ছেদ ৩৭০ প্রত্যাহারের প্রশ্নে সমর্থন জোগাতে অমিত শাহ নিজে যাবতীয় উদ্যোগ নেওয়ার পাশাপাশি প্রত্যেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রীকে এক-একটি দলের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। এ যাত্রায় সে সব কিছুই দেখা যায়নি। ডাকা হয়নি সর্বদলীয় বৈঠকও। আজ সকাল থেকে সমর্থন জোটাতে কিছুটা উদ্যোগী হন সংসদীয় মন্ত্রী কিরেন রিজিজু। লোকসভার অভ্যন্তরে তিনি এসপি নেতা অখিলেশ যাদবের পাশে প্রায় পাঁচ মিনিট বসে আলোচনা করেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী সব সাংসদদের উদ্দেশ্যে বার্তায় অন্তরাত্মার আহ্বানে সাড়া দিয়ে পরিবেরর মহিলাদের কথা ভেবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অনুরোধ করেন। তিনি বলেন, “মহিলাদের এই সুযোগ পাওয়া থেকে বঞ্চিত করবেন না। দেশের অর্ধেক জনসংখ্যা যাতে ন্যায্য পাওনা পায় তা নিশ্চিত করতে এগিয়ে আসুন।” যদিও তার কোনও প্রভাব অবশ্য আজ ভোটাভুটিতে লক্ষ্য করা যায়নি। একজোট বিরোধীদের কাছে পরাজয় স্বীকার করে নিতে হয় শাসক শিবিরকে।

বিজেপি সূত্র বলছে, মহিলা সংরক্ষণের প্রশ্নে বিরোধীদের এই নেতিবাচক মানসিকতা নিয়ে আগামী দিনে প্রচারে নামতে চলেছে দলীয় শীর্ষ নেতৃত্ব। ঠিক হয়েছে দেশের সব শহরে আগামী কয়েক দিন বিরোধীদের ভূমিকা বিশেষ করে কংগ্রেস মহিলা-বিরোধী মনোভাবকে তুলে ধরে রাজনৈতিক প্রচারে নামবে স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্ব। শাসক শিবির বিরোধীদের দিকে আঙুল তুললেও, কংগ্রেস নেতা কে সি বেণুগোপাল একে সংবিধানের জয় বলে দাবি করেছেন। তাঁর কথায়, “এই জয় সংবিধান, যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো ও গণতন্ত্রের। যদি সরকার এই মুহূর্তে পুরনো কাঠামো মেনে মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে আসে, তা হলে কংগ্রেস ওই বিলকে সমর্থন করবে।” এ দিকে আজ লোকসভায় পরাজয়ের পরেই সংসদে হারের পর্যালোচনা করতে বৈঠকে বসেন এনডিএ নেতৃত্ব। ওই পরাজয়ের মোকাবিলা কী ভাবে করা সম্ভব, কী ভাবে এর থেকে রাজনৈতিক ফায়দা তোলা যায় তা নিয়ে বৈঠকে বিস্তারিত আলোচনা হয়।

আগামী সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গ সফরে যাওয়ার কথা রয়েছে নরেন্দ্র মোদী-অমিত শাহদের। সূত্রের মতে, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দল কী ভাবে পরিকল্পনা মাফিক নারীদের ক্ষমতায়নকে এ যাত্রায় আটকেছে তা রাজ্যবাসীর কাছে ফলাও করে তুলে ধরবেন মোদী-শাহেরা। লক্ষ্য মহিলা সমর্থন নিজেদের পক্ষে নিয়ে আসা। পাল্টা তৃণমূলের নেতৃত্বের বক্তব্য, “মহিলাদের উন্নয়নে আমাদের সরকার যা কাজ করেছে তারপরে বাংলায় গিয়ে এ সব কথা বলা অর্থহীন।” তা জানে বিজেপিও। তাই এ ধরনের প্রচার ভোটমুখী পশ্চিমবঙ্গ বা তামিলনাড়ুতে কতটা প্রভাব ফেলবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে দলের অভ্যন্তরেই। তৃণমূল নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “আজকের এই হারের পরে রীতিমতো অস্বস্তিতে বিজেপি নেতৃত্ব।”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

NDA Indian Parliament

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy