নিয়ম নির্বাচনের। কিন্তু প্রথাগত ভাবে বিজেপির জাতীয় সভাপতি পদের ‘লড়াই’ বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় জিতে এসেছেন একমাত্র মনোনয়ন জমা দেওয়া প্রার্থীরাই। এ বারও কার্যত একমাত্র প্রার্থী হিসেবেই বিজেপির সভাপতি পদে মনোনয়ন জমা দিতে চলেছেন দলের বর্তমান কার্যকরী সভাপতি নিতিন নবীন।
প্রাথমিক ভাবে ঠিক হয়েছে, আগামী ১৯ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা দেবেন নিতিন। সব মিলিয়ে তিন সেট মনোনয়ন জমা হবে তাঁর নামে। একটি সেটে স্বাক্ষর করবেন কুড়িটিরও বেশি রাজ্যের সভাপতিরা। দ্বিতীয় সেটে সই খাকবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহের মতো কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের। তৃতীয় সেটে নবীনের নাম প্রস্তাব করবেন দলের জাতীয় পরিষদের সদস্যেরা। দলীয় সূত্রের মতে, প্রথা মতো এ বারও নিতিনের প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবেকারও দাঁড়ানোর সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। সে ক্ষেত্রে অন্যদের মতোইবিনা লড়াইয়ে জিততে চলেছেনতিনি। দল জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ঠিক হয়েছে, ১৯ জানুয়ারি মনোনয়ন জমা দেওয়ার ব্যবস্থা থাকবে। একটি মাত্র মনোনয়ন জমা পড়লে, ওই দিনই নিতিনের নাম নতুন বিজেপি সভাপতি হিসেবে ঘোষণা হয়ে যেতে পারে।
৪৫ বছরের ‘নবীন’ নিতিনই সে ক্ষেত্রে দলের সর্বকনিষ্ঠ সভাপতি হতে চলেছেন। এতে অবশ্য বিজেপির দ্বিতীয় সারির নেতারা বেশ ক্ষুব্ধ। বিশেষত, নিতিন সভাপতি হলে দলের মধ্যে তথাকথিত অল্পবয়সি নেতাদের দাপটে ধর্মেন্দ্র প্রধান, ভূপেন্দ্র যাদব, অশ্বিনী বৈষ্ণব, নির্মলা সীতারামনের মতো দ্বিতীয় সারির বিজেপিনেতাদের কার্যত গুরুত্বহীন হয়েপড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। ফলে এই সারির নেতাদের ক্ষোভ প্রশমিত করাও বড় চ্যালেঞ্জ হতে চলেছেনিতিনের কাছে।
সভাপতি হিসেবে নিতিনের দায়িত্ব গ্রহণের কিছু দিনের মধ্যে পাঁচ রাজ্যে নির্বাচন ঘোষণা হতে চলেছে। এর মধ্যে অসম ও পুদুচেরি ছাড়া বাকি তিন রাজ্যে বিজেপির পক্ষে ক্ষমতায় আসা দুষ্কর বলেই বিশেষজ্ঞদের একাংশের মত। যদিও পশ্চিমবঙ্গকেই ‘পাখির চোখ’ করেছেন বিজেপি নেতৃত্ব। অতীতে বার বার ‘বঙ্গ বিজয়ের’ চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়েছে বিজেপি। নতুন সভাপতির হাত ধরে সেই অধরা স্বপ্ন আদৌ পূরণ হয় কি না, তা-ইএখন দেখার।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)